শিশুর বিচার

শিশুর বিচার

পৃথিবীর ১৯৫ টি দেশের মধ্যে সৌদি আরবের মতো এমন বর্বর, নিষ্ঠুর, এবং সন্ত্রাসী দেশ বোধহয় দ্বিতীয়টি নেই। দেশটির প্রাচীন নাম আরব। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশদের সাথে ১৯৩২ খ্রি. ২৩ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশদের অনুচর ও সেবাদাস খল ও ধূর্ত আব্দুল আজিজ ইবনে সৌদ ব্রিটিশদের সাথে অশুভ আঁতাত করে আরব শব্দের আগে সৌদি যোগ করে দেশটির নাম পাল্টে দেন ।প্রাচীন আরব দেশের নাম এখন সৌদি আরব। পয়গম্বর হজরত মোহাম্মদ (দঃ) আরব দেশে জন্ম গ্রহণ করেন, সৌদি আরবে নয়। কোনও সংখ্যালঘু এক গোত্র বংশের নামে একটি দেশের নাম পৃথিবীতে আর নেই। আজকাল অনেকে সৌদি আরব না বলে, সংক্ষেপে বলে সৌদি। অদূর ভবিষ্যতে আরব শব্দটি উঠে যাবে। উগ্র ওহাবি মতবাদের প্রচারক এই সৌদি বংশ ব্রিটিশদের দয়ায় রাজা সেজে কয়েক শতাব্দী ধরে হাজার হাজার মুসলমানদের হত্যা করে চলেছে কেবল ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যে । যখনই তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিবাদ হয়েছে তখনই বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে। ১৯২৫ সালেও কমপক্ষে তিরিশ হাজার মুসলমানদের হত্যা করা হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। তার আগে ১৯১৭ সালে ২ রা নভেম্বর ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী ব্যালফোর ফিলিস্তিনে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করেন। তখন সৌদি রাজা আব্দুল আজিজ এক লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন: “আমি বাদশাহ আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুর রহমান – ফয়সলের বংশধর ও সৌদের বংশধর – হাজার বার স্বীকার করছি যে, মহান ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধি স্যার কুকাস এর সামনে স্বীকার করছি এই মর্মে যে, ইহুদিদেরকে ব্রিটিশ সরকার যদি ফিলিস্তিন দান করে তা হলে এতে আমার কোনও আপত্তি নেই। বস্তুত আমি কিয়ামত পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকারের অভিমতের বাইরে যাব না।” প্রকৃতপক্ষে সৌদি আরবের সহযোগিতায় ইংল্যান্ড ও আমেরিকার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে ইসরাইল প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সৌদি আরবের নিরলস সহিংস অপকর্মের জন্যে প্রাচীন ও স্বাধীন নির্দোষ ফিলিস্তিনি জনগণ গোলাবারুদের মুখে পড়ে আজ ভয়ঙ্কর অস্তিত্ব সঙ্কটের সম্মুখীন । ফিলিস্তিন ভূখণ্ড ইসরাইলের লোলুপ মুখগহ্বরে ক্রমশ মিলিয়ে যাচ্ছে। অথচ সৌদি রাজবংশ তথা সরকার অকল্পনীয় বিলাসিতায় নিমজ্জিত। এমন কোনও দুষ্কর্ম নেই যা সৌদি রাজপরিবারের দ্বারা হয় না। ব্যভিচারের নির্লজ্জ ঘটনাগুলি প্রবাহমান এই সৌদি রাজপরিবারে মধ্যে। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান,নেপাল,ফিলিপাইন ,রোমানিয়া, বুলগেরিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে দরিদ্র পরিবারের নারীদের কাজের নামে সৌদি রাজপরিবারে ব্যবহার করা হয়। রাতের ভোজ সভায় দামী মদের ফোয়ারা ছোটে। এঁরা আরবের সমস্ত সাহাবিদের মাজারগুলি ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন যাতে জিয়ারত পর্যন্ত যেন না করা যায় ।অথচ সৌদি রাজা সালমান বিন আব্দুল আজিজের এক সুবিশাল মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে জেড্ডা শহরে। মূর্তিটির বিশেষত্ব উল্লেখ করে গিনেস বুকে নাম তোলার জন্যে সুপারিশ করা হয়েছে সৌদি সরকারের তরফে। সৌদি আরব খবরের শিরোনামে আসে কেবল মাত্র দুষ্কর্মের দৌলতে । সাংবাদিক খাসোগিকে হত্যা করে একবার শিরোনামে এসেছিল। ইয়েমেনের হাজার হাজার নিরীহ নারী শিশু সৌদি আরবের বোমারু বিমানের শিকার হয়ে চলেছে। ইয়েমেন দেশটিকে শ্মশানে পরিণত করে সৌদি আরব সংবাদ শিরোনামে রয়েগেছে ।পৃথিবীতে প্রায় সাত কোটি শরণার্থী আছে। তার বেশিরভাগ মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলি হতে উৎখাত। মধ্য প্রাচ্যের অন্য অনেক দেশ এমনকি কানাডা ও ইউরোপের অনেক দেশ তাদের আশ্রয় দিলেও সৌদি আরব কোনও শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়নি ।সৌদি সরকার এবার খবরের শিরোনামে এসেছে শিশুর “বিচার” সংক্রান্ত এক করুণ কাহিনির জন্যে। ২০১১ সালে সৌদি সরকারের নির্যাতন ও দেশে গণতন্ত্রের দাবিতে এক প্রতিবাদে অংশ গ্রহণ করে মাত্র দশ বছরের শিশু মুর্তাজা। কেবলমাত্র প্রতিবাদে অংশ গ্রহণ করার অপরাধে তার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু শিশুর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বেআইনি! তাই তাকে জেলে আটক করে বড়ো করা হয়েছে। সৌদি সরকারের কাছে মুর্তাজার মতো শিশুকে হত্যা করা কোনও বিষয় নয়। তবে পার্থক্য হল মুর্তাজার ‘বিচার’ হয়েছে। গত আট বছর ধরে যত্নে রাখা হয়েছে কারাগারে। উদ্দেশ্য একটাই, আঠারো বছর পূর্ণ হলে সঠিক সময়ে তার শিরশ্ছেদ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।আবার সৌদি আরব সংবাদ শিরোনামে আসবে। বিশ্ব দেখবে সৌদি আরবের আইন কত নিখুঁত! হজরত মোহাম্মদ (দঃ) আরবের বুকে এমন শিশুদের দেখা পেলে বুকে না তুলে পেরিয়ে যেতে পারতেন না। শিশুদের তিনি বেহেস্তের ফুলের সাথে তুলনা করেন। একটি শিশুর হাসি ফোটাবার জন্যেও তিনি রাস্তা থেকে কোলে তুলে বাড়ি আনতেন। মুর্তাজার মতো দশ বছরের একটি শিশুর প্রতিবাদ আইনের চোখে অপরাধ হতে পারে তা ভাবা যায় না। আইন প্রণয়ন করে মানুষ। কিন্তু এমন আইন যারা প্রণয়ন করে তারা কেমন মানুষ, এ প্রশ্ন মানুষ করবেই।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *