শান্তির নোবেল

শান্তির নোবেল

২০১৮ সালের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেছেন যুগ্মভাবে ইরাকের ২৫ বৎসরের যুবতী নাদিয়া মুরাদ এবং কঙ্গোর ৬৩ বৎসরের চিকিৎসক ডেনিস মুকওয়েজ । যুদ্ধ ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে অসামান্য কাজের অবদানের স্বীকৃতি এই নোবেল শান্তি পুরস্কার। বর্তমান বিশ্বের জঘন্যতম নিষ্ঠুর বর্বর জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস নাদিয়াকে তাঁর আপন গৃহ হতে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তারপর অমনুষ্যত্বের ঘৃণ্যতম আচরণে নাদিয়াকে পালাক্রমে ছিঁড়ে খায় দিনের পর দিন এই জান্তব গোষ্ঠীর সদস্যরা।নাদিয়া প্রত্যক্ষ করেছেন দিনের পর দিন অসংখ্য নারী-মানুষ কী ভয়ঙ্কর ও বীভৎস অত্যাচারের শিকার হয় এই জঙ্গিদের হাতে। কিন্তু নিজেকে না হারিয়ে অত্যন্ত সাহস, বুদ্ধিমত্তা ও প্রতিবাদী তেজস্বীতায় একদিন সভ্য সমাজ ফিরে পান নাদিয়া। গড়ে তোলেন প্রতিবাদের মঞ্চ।তিনি ২০১৬ সালে একদিন নির্বাচিত হন রাষ্ট্রসংঙ্ঘের শুভেচ্ছাদূত। নাদিয়া মুরাদ একজন ব্যক্তি বিশেষ নয়। ধর্ষিতা নারী নয়। তিনি প্রতিবাদের প্রতীক। নোবেল পুরস্কার যেমন তাঁর অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের স্বীকৃতি ঘোষণা করে ,তেমনই আইএস – এর মত সব বর্বর জঙ্গিগোষ্ঠী গুলির প্রতি ধিক্কার জানায়। আইএস – এর চূড়ান্ত ভণ্ডামির পতাকায় লেখা থাকে ধর্মের নামে শান্তির বাণী, কিন্তু তারা সৃষ্টি করে অশান্তির নরক।
নাদিয়া মুরাদ যেমন ধর্ষণের শিকার তেমনই সুচিকিৎসক ডেনিস মুকওয়েজ অবশ্যই ধর্ষিতার সেবক। কঙ্গোর গৃহযুদ্ধের ফলে হাজার হাজার নারী সহজলভ্য হয়ে আসছে অসভ্য নারীলোলুপ জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির হাতে। নারী ধর্ষণের উন্মাদনা এতটাই মাত্রা পেয়েছে এই দেশটিতে যে, কঙ্গোকে ২০১০ সালে রাষ্ট্রসঙ্ঘের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক গভীর ক্ষোভ ও হতশায় ধর্ষণের রাজধানী বলেছিলেন। কঙ্গোর বুকাভু শহরে পাঞ্জি হাসপাতালের তিনি প্রতিষ্ঠাতা চিকিৎসক। তাঁর প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালে প্রতি বৎসর তিনি কয়েক হাজার ধর্ষিতার চিকিৎসা করে আসছেন। কেবল ধর্ষণের শিকার হয়ে আসা হাজার হাজার মহিলার শল্যচিকিৎসা করে আসছেন তিনি।এখনও পর্যন্ত তিনি প্রায় পঞ্চাশ হাজার নারীর চিকিৎসা করেছেন যারা ভয়ঙ্কর রকমের যৌন নির্যাতনের শিকার। সম্পূর্ণভাবে ভাবে নররূপী রাক্ষসদের শিকার এই অসংখ্য নারী। ডাঃ ডেনিস মুকওয়েজ এই নির্যাতীতাদের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে দিয়েছেন । অসভ্যতার শিকার যদি এত নারী না হত, তবে এমন দরিদ দেশের আরও বহু মানুষ স্বাভাবিক অসুস্থতার সুচিকিৎসা লাভ করত। কঙ্গোর সংঘর্ষ যেমন বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির মধ্যে আছে, তেমনই আছে একাধিক জঙ্গিগোষ্ঠীর সাথে সরকারের। কিন্তু সকল গোষ্ঠীই নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের ক্ষেত্রে সমানভাবে বর্বরতা করে চলেছে। প্রতি ঘণ্টায় এই দেশে ৪৮ জন নারী ধর্ষিতা হন। মানব সভ্যতার সমস্ত কিছু এখানে মুখ থুবড়ে পড়ে গেছে। যুদ্ধবাজরা মানুষ হত্যা করার সাথে সাথে যৌনলিপ্সায় উন্মাদ হয়ে ওঠে আর নারী নির্যাতনের মধ্যে আনন্দোল্লাসে মেতে ওঠে। নাদিয়া মুরাদ এবং ডাঃ ডেনিস মুকওয়েজ ব্যক্তিগত উদ্যোগে যে ভাবে যুদ্ধে নারী ধর্ষণের প্রতিবাদ করেছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। দুজন সঠিক মানুষ নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেছেন। “যৌন নিগ্রহকে যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই দু’জন তার বিরুদ্ধেই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। এর থেকে বড়ো শান্তির বার্তা আর কী-ই বা হতে পারে! ”



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *