সাধ্বীর অভিশাপ

সাধ্বীর অভিশাপ

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনকালীন রাজনৈতিক নেতা – নেত্রীদের কুকথার বন্যা ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সমস্ত স্থাপত্যের ভিত নড়িয়ে দিচ্ছে। কয়েকদিন আগে এক নির্বাচন প্রার্থী সাক্ষী মহারাজ যিনি নিজেকে সন্ন্যাসী বলেন, তিনি ভারতের সাধারণ নিরীহ নাগরিকদের অভিশাপ দেওয়ার হুমকি দেন। সাধারণত কোনও প্রার্থী মানুষের কাছে গিয়ে তাদের আশির্বাদ প্রার্থনা করেন। কিন্তু প্রার্থী নিজে মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে তাদের অভিশাপ দেন, এমন কাহিনী মানুষের অজানা। মনে হল এমন নিকৃষ্টতম ভাষণ রাজনীতির ময়দানে বোধ হয় শেষ ভাষণ । কিন্তু সেই নিকৃষ্টতম ভাষণের আরও নিম্ন পর্যায়ের ভাষণ শোনা গেল আর এক নির্বাচন প্রার্থী সাধ্বী প্রজ্ঞা সিংহ ঠাকুরের মুখে। তিনিও নিজেকে সাধ্বী বলেন। নিজের অতিপ্রাকৃতিক শক্তি জাহির করতে হেমন্ত কারকারের শহিদ হওয়াকে প্রমাণ হিসাবে ঘোষণা করেছেন।ভারতের ইতিহাসে 2008 খ্রিস্টাব্দের 26 নভেম্বর এক কালো দিন। মুম্বই শহর আক্রান্ত হয় বিদেশি সন্ত্রাসীদের দ্বারা। বীর নিষ্ঠাবান কর্তব্যপরায়ণ ও দেশপ্রেমিক হেমন্ত কারকারে ছিলেন মহারাষ্ট্রের অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াডের প্রধান। অকুতোভয় হেমন্ত কারকারে সন্ত্রাসীদের খতম করে শহিদ হন সেই মর্মান্তিক জঙ্গি হামলায়। হেমন্ত কারকারের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। তাঁর সাহসিকতার জন্য দেশ তাঁকে “অশোকচক্র” সম্মানে সম্মানিত করে। ‘খুন, সন্ত্রাস, দাঙ্গার চক্রান্তের মতো গুরুতর ধারায় অভিযুক্ত প্রজ্ঞা মালেগাঁও বিস্ফোরণ ও আজমের দরগার সামনে বিস্ফোরণ মামলার প্রধান অভিযুক্ত, আপাতত জামিনে মুক্ত। এই প্রজ্ঞাকে গ্রেপ্তার করেছিলেন হেমন্ত কারকারে।ʼ গতকাল (19 এপ্রিল) প্রজ্ঞা সদম্ভে জানিয়ে দেন যে, তিনি হেমন্ত কারকারেকে অভিশাপ দেন তিনি যেন ধ্বংস প্রাপ্ত হয়ে যান, কারণ হেমন্ত কারকারে তাঁকে গ্রেপ্তার করে জেরা করেছিলেন। তাই তাঁর অভিশাপে হেমন্ত কারকারে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন।দেশ জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠায় এবং তাঁর মন্তব্য ‘শত্রুদের খুশি করেছে’ বলে প্রজ্ঞা শেষমেশ ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছে।প্রকৃতপক্ষে সন্ত্রাসীদের অমানবিক আচরণ ও নৃশংস হত্যা এবং প্রজ্ঞা সিংহ ঠাকুরের মতো মানুষদের মানসিকতা একই আনুভূমিক তলে অবস্থিত। হেমন্ত কারকারের মতো আত্মত্যাগী দেশপ্রেমী সন্তানদের অভিশাপ দেওয়ার কৈফিয়ত সব সময় প্রস্তুত আছে এই বিকৃত মানসিকতার নেতা নেত্রীদের মধ্যে, তা হল “হেমন্ত কারকারে ছিলেন বিশ্বাসঘাতক ও হিন্দু – বিরোধী”। “কিন্তু এমন মন্তব্য শুধু শহিদ হেমন্ত কারকারের প্রতি অসম্মানের নয়, বরং অসম্মানের সকলের প্রতি যাঁরা ভারতের পক্ষে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে শহিদ হয়েছেন”, বলেছেন প্রাক্তন আই পি এস অফিসার সুধাকর সুরাধার।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *