রবীন্দ্রনাথ

রবীন্দ্রনাথ

যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।

একলা চলো, একলা চলো, একলা চলো, একলা চলো রে ॥

যদি কেউ কথা না কয়, ওরে ওরে ও অভাগা,

যদি সবাই থাকে মুখ ফিরায়ে সবাই করে ভয়—

তবে পরান খুলে

ও তুই মুখ ফুটে তোর মনের কথা একলা বলো রে ॥

যদি সবাই ফিরে যায়, ওরে ওরে ও অভাগা,

যদি গহন পথে যাবার কালে কেউ ফিরে না চায়—

তবে পথের কাঁটা

ও তুই রক্তমাখা চরণতলে একলা দলো রে ॥

যদি আলো না ধরে, ওরে ওরে ও অভাগা,

যদি ঝড়-বাদলে আঁধার রাতে দুয়ার দেয় ঘরে—

তবে বজ্রানলে

আপন বুকের পাঁজর জ্বালিয়ে নিয়ে একলা জ্বলো রে ॥

পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগে একশো বৎসর আগে (13 এপ্রিল 1919) যখন ব্রিটিশ বাহিনী সহস্রাধিক নিরস্ত্র নিরীহ ভারতীয়দের নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করেছিল তখন ভারতের বহু নেতা প্রতিবাদের সঠিক পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। এই হত্যাকাণ্ডের বিভীষিকা মানুষের প্রতিবাদের ভাষাও কেড়ে নিয়েছিল। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই হত্যাকাণ্ডকে সমগ্র ভারত জাতির প্রতি ইংরেজদের চরমতম অপমান ও অবমাননা মনে করেছিলেন। মহাত্মা গান্ধী, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ তাঁরাও যখন এই নৃশংসতার প্রতিবাদে কবির সাথে একমত হতে পারলেন না তখন কবি অনেকটা হতাশ হয়ে পড়লেন। কিন্তু তিনি তাঁর পথে অবিচল। সত্যের পথে একলা চলার নীতিতে তিনি অটল। আপন দেশবাসীর অপমান প্রতি মুহূর্ত কবিকে যেন দংশন করে যাচ্ছিল। তাই সবাই যখন মুখ ফিরিয়ে নিল কবি তখন একাই জ্বলে উঠলেন। সেদিন ছিল 31 মে 1919, দু বৎসর আগে ব্রিটিশদের দেওয়া নাইট উপাধি ফিরিয়ে দিয়ে সারা বিশ্বকে তিনি ব্রিটিশদের অত্যাচারের কথা জানিয়ে দিলেন। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের মতো অন্যায়ের বিরুদ্ধে ভারতের প্রতিবাদ করতে না পারার লজ্জার হাত থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জাতিকে রক্ষা করেছিলেন। সেদিন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাই ছিলেন ভারতের মুখ। রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস করতেন ঈশ্বরের সৃষ্টি প্রতিটি মানুষের জীবনের মূল্য অপরিমেয়। প্রত্যেকের প্রয়োজন আছে বলেই তার সৃষ্টি হয়েছে। তাই প্রতিটি জীবনের মূল্যকে তিনি স্বীকার করতে শিখিয়েছেন আমাদের। তিনি ডাক দিয়ে গেলেন :
মার অভিষেকে এসো এসো ত্বরা
মঙ্গলঘট হয়নি যে ভরা
সবার পরশে পবিত্র করা
তীর্থনীরে
আজি ভারতের মহামানবের
সাগরতীরে ।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *