Recent Posts

শরণার্থী দিবস

প্রত্যেক বৎসর ২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবস পালন করা হয়।শরণার্থীদের জন্যে সারা সৎসর যদিও বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় তবুও এই দিনটিকে বিশেষভাবে শরণার্থীদের সম্বন্ধে বিশ্ব জনগণকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।United Nations High Commissioner for Refugees (UNHCR) শরণার্থীদের জন্যে বিভিন্ন সুপারিশ ও পরামর্শ দিয়ে […]

ডাক্তারি ধর্মঘট

ডাক্তারি ধর্মঘট

এ এক অভূতপূর্ব অপ্রাকৃতিক বিপর্যয় সারা বাংলা জুড়ে(১১ জুন ২০১৯-১৭ জুন ২০১৯ ) । প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে যেমন মূলত হতদরিদ্র সহায় সম্বলহীন মানুষগুলি ধনে প্রাণে মারা যায় তেমনই পশ্চিম বাংলার বর্তমান স্বাস্থ্য বিপর্যয়ে সেই দরিদ্র মানুষগুলি করুণার পাত্র হয়ে হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে মাথা ঠুকে ঘুরছে এবং […]

শিশুর বিচার

শিশুর বিচার

পৃথিবীর ১৯৫ টি দেশের মধ্যে সৌদি আরবের মতো এমন বর্বর, নিষ্ঠুর, এবং সন্ত্রাসী দেশ বোধহয় দ্বিতীয়টি নেই। দেশটির প্রাচীন নাম আরব। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশদের সাথে ১৯৩২ খ্রি. ২৩ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশদের অনুচর ও সেবাদাস খল ও ধূর্ত আব্দুল আজিজ ইবনে সৌদ ব্রিটিশদের সাথে অশুভ আঁতাত করে আরব শব্দের আগে সৌদি যোগ করে দেশটির নাম পাল্টে দেন ।প্রাচীন আরব দেশের নাম এখন সৌদি আরব। পয়গম্বর হজরত মোহাম্মদ (দঃ) আরব দেশে জন্ম গ্রহণ করেন, সৌদি আরবে নয়। কোনও সংখ্যালঘু এক গোত্র বংশের নামে একটি দেশের নাম পৃথিবীতে আর নেই। আজকাল অনেকে সৌদি আরব না বলে, সংক্ষেপে বলে সৌদি। অদূর ভবিষ্যতে আরব শব্দটি উঠে যাবে। উগ্র ওহাবি মতবাদের প্রচারক এই সৌদি বংশ ব্রিটিশদের দয়ায় রাজা সেজে কয়েক শতাব্দী ধরে হাজার হাজার মুসলমানদের হত্যা করে চলেছে কেবল ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যে । যখনই তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিবাদ হয়েছে তখনই বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে। ১৯২৫ সালেও কমপক্ষে তিরিশ হাজার মুসলমানদের হত্যা করা হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। তার আগে ১৯১৭ সালে ২ রা নভেম্বর ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী ব্যালফোর ফিলিস্তিনে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করেন। তখন সৌদি রাজা আব্দুল আজিজ এক লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন: “আমি বাদশাহ আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুর রহমান – ফয়সলের বংশধর ও সৌদের বংশধর – হাজার বার স্বীকার করছি যে, মহান ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধি স্যার কুকাস এর সামনে স্বীকার করছি এই মর্মে যে, ইহুদিদেরকে ব্রিটিশ সরকার যদি ফিলিস্তিন দান করে তা হলে এতে আমার কোনও আপত্তি নেই। বস্তুত আমি কিয়ামত পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকারের অভিমতের বাইরে যাব না।” প্রকৃতপক্ষে সৌদি আরবের সহযোগিতায় ইংল্যান্ড ও আমেরিকার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে ইসরাইল প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সৌদি আরবের নিরলস সহিংস অপকর্মের জন্যে প্রাচীন ও স্বাধীন নির্দোষ ফিলিস্তিনি জনগণ গোলাবারুদের মুখে পড়ে আজ ভয়ঙ্কর অস্তিত্ব সঙ্কটের সম্মুখীন । ফিলিস্তিন ভূখণ্ড ইসরাইলের লোলুপ মুখগহ্বরে ক্রমশ মিলিয়ে যাচ্ছে। অথচ সৌদি রাজবংশ তথা সরকার অকল্পনীয় বিলাসিতায় নিমজ্জিত। এমন কোনও দুষ্কর্ম নেই যা সৌদি রাজপরিবারের দ্বারা হয় না। ব্যভিচারের নির্লজ্জ ঘটনাগুলি প্রবাহমান এই সৌদি রাজপরিবারে মধ্যে। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান,নেপাল,ফিলিপাইন ,রোমানিয়া, বুলগেরিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে দরিদ্র পরিবারের নারীদের কাজের নামে সৌদি রাজপরিবারে ব্যবহার করা হয়। রাতের ভোজ সভায় দামী মদের ফোয়ারা ছোটে। এঁরা আরবের সমস্ত সাহাবিদের মাজারগুলি ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন যাতে জিয়ারত পর্যন্ত যেন না করা যায় ।অথচ সৌদি রাজা সালমান বিন আব্দুল আজিজের এক সুবিশাল মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে জেড্ডা শহরে। মূর্তিটির বিশেষত্ব উল্লেখ করে গিনেস বুকে নাম তোলার জন্যে সুপারিশ করা হয়েছে সৌদি সরকারের তরফে। সৌদি আরব খবরের শিরোনামে আসে কেবল মাত্র দুষ্কর্মের দৌলতে । সাংবাদিক খাসোগিকে হত্যা করে একবার শিরোনামে এসেছিল। ইয়েমেনের হাজার হাজার নিরীহ নারী শিশু সৌদি আরবের বোমারু বিমানের শিকার হয়ে চলেছে। ইয়েমেন দেশটিকে শ্মশানে পরিণত করে সৌদি আরব সংবাদ শিরোনামে রয়েগেছে ।পৃথিবীতে প্রায় সাত কোটি শরণার্থী আছে। তার বেশিরভাগ মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলি হতে উৎখাত। মধ্য প্রাচ্যের অন্য অনেক দেশ এমনকি কানাডা ও ইউরোপের অনেক দেশ তাদের আশ্রয় দিলেও সৌদি আরব কোনও শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়নি ।সৌদি সরকার এবার খবরের শিরোনামে এসেছে শিশুর “বিচার” সংক্রান্ত এক করুণ কাহিনির জন্যে। ২০১১ সালে সৌদি সরকারের নির্যাতন ও দেশে গণতন্ত্রের দাবিতে এক প্রতিবাদে অংশ গ্রহণ করে মাত্র দশ বছরের শিশু মুর্তাজা। কেবলমাত্র প্রতিবাদে অংশ গ্রহণ করার অপরাধে তার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু শিশুর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বেআইনি! তাই তাকে জেলে আটক করে বড়ো করা হয়েছে। সৌদি সরকারের কাছে মুর্তাজার মতো শিশুকে হত্যা করা কোনও বিষয় নয়। তবে পার্থক্য হল মুর্তাজার ‘বিচার’ হয়েছে। গত আট বছর ধরে যত্নে রাখা হয়েছে কারাগারে। উদ্দেশ্য একটাই, আঠারো বছর পূর্ণ হলে সঠিক সময়ে তার শিরশ্ছেদ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।আবার সৌদি আরব সংবাদ শিরোনামে আসবে। বিশ্ব দেখবে সৌদি আরবের আইন কত নিখুঁত! হজরত মোহাম্মদ (দঃ) আরবের বুকে এমন শিশুদের দেখা পেলে বুকে না তুলে পেরিয়ে যেতে পারতেন না। শিশুদের তিনি বেহেস্তের ফুলের সাথে তুলনা করেন। একটি শিশুর হাসি ফোটাবার জন্যেও তিনি রাস্তা থেকে কোলে তুলে বাড়ি আনতেন। মুর্তাজার মতো দশ বছরের একটি শিশুর প্রতিবাদ আইনের চোখে অপরাধ হতে পারে তা ভাবা যায় না। আইন প্রণয়ন করে মানুষ। কিন্তু এমন আইন যারা প্রণয়ন করে তারা কেমন মানুষ, এ প্রশ্ন মানুষ করবেই।

মাতৃদিবস

মাতৃদিবস

বারো মে (12, May) আন্তর্জাতিক মাতৃদিবস। কত আলোচনা, সভা সমিতি, অনুষ্ঠান প্রভৃতির মাধ্যমে দিনটি বিভিন্ন ভাবে পালিত হয়।বহু মহাপুরুষদের বাণী ও জীবন আলোচনা হয়। হজরত মোহাম্মদ (সঃ) বলেন, “মায়ের পায়ের তলায় সন্তানের বেহেস্ত।” একবার এক যুবক হজরত(সঃ)এর কাছে বায়াত হতে এলেন (দীক্ষা নিতে এলেন)। কিন্তু […]

রবীন্দ্রনাথ

রবীন্দ্রনাথ

যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে। একলা চলো, একলা চলো, একলা চলো, একলা চলো রে ॥ যদি কেউ কথা না কয়, ওরে ওরে ও অভাগা, যদি সবাই থাকে মুখ ফিরায়ে সবাই করে ভয়— তবে পরান খুলে ও তুই মুখ ফুটে […]

রমজান

রমজান

আবার রমজান ফিরে এল প্রেমের বার্তা বহন করে। হজরত মোহাম্মদ (সঃ) এর আবির্ভাবের আগেও রমজান মাস ছিল কিন্তু সে রমজান ছিল আরবি মাসের আর এগারোটা মাসের মতোই। রমজান মাস বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠল ৬২৩ খ্রিস্টাব্দে। হজরত মোহাম্মদ (সঃ) তাঁর জন্ম শহর মক্কা থেকে মদিনা হিজরত করেন ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে। তার পরের বৎসর অর্থাৎ ৬২৩ খ্রিষ্টাব্দে কোরানের ঐশী বাণী অবতীর্ণ হয় যেখানে রমজান মাসে রোজা পালনের নির্দেশ আসে। অবশ্য কোরানের বাণী প্রথম অবতীর্ণ হয় ৬১০ খ্রিস্টাব্দে এই রমজান মাসেই মক্কার অদূরে হিরা পাহাড়ের নিভৃত গুহায় যখন হজরত মোহাম্মদ (সঃ) গভীর রাতে ধ্যানমগ্ন ছিলেন। ইসলাম ধর্মের নারী পুরুষ সকলের জন্য রমজান মাসে রোজা পালন বাধ্যতামূলক করা হয় ৬২৩ খ্রিস্টাব্দে। সেদিন আরবের মক্কা ও মদিনা শহরের মুষ্ঠিমেয় কয়েক হাজার যাঁরা মুসলিম ছিলেন তাঁরা এই নির্দেশ পালন করেছিলেন। আজ পালিত হচ্ছে পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে ১৭০ কোটি মুসলিমদের মধ্যে। রমজানের রোজা পালন প্রকৃতপক্ষে কোনও উৎসব উদযাপন নয়। রমজান মাসে কোনও উৎসব নেই। ইদ উৎসব পালিত হয় রমজানের শেষে সওয়াল মাসের প্রথম তারিখে। রমজানের রোজা পালনের বাহ্যিক দিক হল সূর্যোদয়ের পূর্ব হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার হতে বিরত থাকা। অনেকে রোজার অন্যান্য দিকগুলি গুরুত্ব কম দেওয়ার কারণে রোজা পালনকে উপবাস বা ইংরেজিতে fasting বলে থাকেন। রমজান আরবি শব্দ হলেও রোজা কিন্তু ফারসি শব্দ, তাই রোজা শব্দটি কোরানে কোথাও নেই। কোরানে “সাওম” পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাওমের প্রতিশব্দ আত্মসংযম, ফারসিতে রোজা। ইসলামি পরিভাষায় বেশ কিছু ফারসি শব্দ আছে যেমন, নামাজ, রোজা, খোদা প্রভৃতি শব্দগুলি কোরানে নেই। । কিন্তু এই আরবি মাসের হিসাব চান্দ্র বৎসর ধরে হয়, এবং এক চান্দ্র বৎসর ৩৫৪ দিনে পূর্ণ হয়। অর্থাৎ সৌর বৎসরের থেকে এগারো দিন কম। সেই হিসাবে এগারো দিন এগিয়ে আসে প্রতি বৎসর। এ বৎসর (২০১৯ সালে) জুন মাসে চারদিন রমজান থাকবে। আগামী বৎসর জুন মাসে রমজান পড়বে না। আবার ছত্রিশ বৎসর পর জুন মাসে রমজান পড়বে। কোনও মানুষ যদি মনে করে বৈশাখ হতে চৈত্র পর্যন্ত সব মাসেই সে রমজানের রোজা পালন করবে তবে তার সময় লাগবে ছত্রিশ বৎসর।
রোজা একটি পুরোপুরি নীরব ইবাদত বা সাধনা। আল্লাহ এবং রোজাদারের মধ্যে বিশ্বাস ও বোঝাপড়ায় নিহিত আছে এই ইবাদত। আল্লাহ এবং রোজাদার ছাড়া আর তৃতীয় কোনও ব্যক্তি জানতে পারে না রোজা পালন হল কি না। আইন, প্রশাসন বা সামাজিক বাধ্যবাধকতা বা অপর কোনও বাহ্যিক বল প্রয়োগের দ্বারা রোজা পালন করানো হয় না। কোরানে বলা হচ্ছে, “হে ইমানদারণ, তোমাদের জন্য সিয়াম বা রোজা ফরজ (compulsory) করা হল, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছিল, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।”(২:১৮৩)। তাকওয়া কোনও শক্তি নয় বরং এক সর্বোত্তম গুণ। তাকওয়া অর্জন করতে পারলে আল্লাহর রঙে নিজেকে রাঙিয়ে নেওয়া যায়। “ আমরা গ্রহণ করলাম আল্লাহর রং অর্থাৎ আল্লাহ্‌র গুণ । রঙে আল্লাহ অপেক্ষা কে অধিকতর সুন্দর?” (২:১৩৮)। অর্থাৎ আল্লাহ্‌র গুণে গুণান্বিত হওয়া যায়। পক্ষান্তরে আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হওয়াই তাকওয়া অর্জন করা। মানুষ যখন তাকওয়া অর্জন করতে পারে তখন তার মধ্যে আর আপন পর বলে কিছু থাকে না।হজরত মোহাম্মদ (সঃ) বলছেন, “মানুষ যখন পূর্ণ ইমানদার হয় তখন সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে, সমগ্র মানবমণ্ডলীর জন্য তা পছন্দ করে।” অর্থাৎ সে মানুষে মানুষে কোনও বিভদ খুঁজে পায় না, কোনও জাতপাতের খোঁজ করে না। রোজা পালনের মূল উদ্দেশ্য তাই। সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে রোজাদারকে, অহংকার, মিথ্যাচার, স্বেচ্ছাচারিতা, অসৎকাজ, কলহবিবাদ লোভ লালসা,হিংসা, পরশ্রীকাতরতা প্রভৃতি সমস্ত কুপ্রবৃত্তি পরিত্যাগ করতে হবে। তাকে সর্বক্ষণের জন্য বৈধভাবে উপার্জিত অর্থে জীবন যাপন করতে হবে। হজরত মোহাম্মদ (সঃ) সুস্পষ্ট ভাবে বলছেন, “যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মিথ্যা কাজ ছাড়তে পারেনি তার পানাহার পরিত্যাগ করে রোজা রাখা আল্লাহর কাছে কোনও মূল্য নেই।” রোজা রেখে যারা তাদের ষড় রিপুর দাসত্ব করে তাদের সম্পর্কে হজরত মোহাম্মদ (সঃ) আরও বলছেন, “অনেক রোজা পালনকারী ক্ষুৎপিপাসা ছাড়া আর কোনও কিছু লাভ করতে পারে না। তেমনই রাত্রিতে ইবাদকারী অনেক মানুষও আছে, যারা রাত্রি জাগরণ ছাড়া আর কিছু লাভ করতে পারে না।” ধৈর্য, সহনশীলতা, প্রেম ও সদালাপ একজন রোজাদারের মৌলিক গুণ। তাই রমজান মাসের রোজা পালন নিছক উপবাস ও আনুষ্ঠানিকতা নয় বরং পূর্ণ মনুষত্ব অর্জনের সুদৃঢ় সোপান।

সাধ্বীর অভিশাপ

সাধ্বীর অভিশাপ

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনকালীন রাজনৈতিক নেতা – নেত্রীদের কুকথার বন্যা ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সমস্ত স্থাপত্যের ভিত নড়িয়ে দিচ্ছে। কয়েকদিন আগে এক নির্বাচন প্রার্থী সাক্ষী মহারাজ যিনি নিজেকে সন্ন্যাসী বলেন, তিনি ভারতের সাধারণ নিরীহ নাগরিকদের অভিশাপ দেওয়ার হুমকি দেন। সাধারণত কোনও প্রার্থী মানুষের কাছে গিয়ে তাদের […]

গণতন্ত্রের সঙ্কট

গণতন্ত্রের সঙ্কট

স্বাধীন ভারতের সব চেয়ে বড়ো কৃতিত্ব তার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা । এই উপমহাদেশে ভারতের পড়শি দেশগুলিতে সামরিক বাহিনীর হাতে গণতন্ত্র যখন বারবার বিধ্বস্ত হয়েছে ভারত তখন স্বমহিমায় তার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সৌন্দর্যের পূর্ণ বিকাশ ঘটিয়ে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। স্বাধীন ভারতের সেই গণতন্ত্র জমিনে এখন বিষবৃক্ষের চারা রোপনের […]

জালিয়ানওয়ালাবাগ

জালিয়ানওয়ালাবাগ গণহত্যার একশো বৎসর পূর্ণ হল। ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ১৩ এপ্রিল অবিভক্ত ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অম্রিতসরের কাছে জালিয়ানওয়ালাবাগ নারকীয় হত্যালীলা ব্রিটিশ অপশাসন ও নিষ্ঠুর অত্যাচারের আর এক বীভৎস ইতিহাস। কুখ্যাত রাওলাট আইনের প্রতিবাদ করার ফলে বিনা প্ররোচনায় বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী ডঃ সৈফুদ্দিন কিচলু ও ডঃ সৎপালকে গ্রেফতার করা হয় ৯ এপ্রিল। রাওলাট আইনে বলা হয়, বিনা বিচারে, বিনা নোটিসে যে কোনও স্বাধীনতা সংগ্রামীকে নিছক সন্দেহের বশে গ্রেফতার করা যাবে। এই দুই প্রখ্যাত নেতৃত্বকে গ্রেফতার করার প্রতিবাদে ওই দিন ৯ এপ্রিল জনসাধারণ ও ব্রিটিশ পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে এবং এই সংঘর্ষে দশজন ভারতীয় ও পাঁচজন ব্রিটিশ নিহত হয়। অম্রিতসরে শান্তি রক্ষার জন্য ইংরেজ সরকার ১১ এপ্রিল জেনারেল ডায়ারের নেতৃত্বে ৬০০ সৈন্য মোতায়েন করে। অবশ্য অবস্থা তখন শান্তিপূর্ণ ছিল। এর দুদিন পর ১৩ এপ্রিল ছিল পাঞ্জাবের বৈশাখী দিবসের উৎসব। এই উপলক্ষে বহু নারী পুরুষ সমবেত হয় জালিয়ানওয়ালাবাগে। বাগানের চারিদিক পাঁচিল দিয়ে ঘেরা, যাওয়া আসার জন্যে পাঁচটি ছোটো ছোটো গেট থাকলেও মাত্র একটি গেট খোলা ছিল । উৎসবের মেজাজে সুসজ্জিত নারী পুরুষ ও শিশু সমেত প্রায় দশ থেকে পনেরো হাজার মানুষের সমাগম। জেনারেল ডায়ার জানার কোনও প্রয়োজন বোধ করলেন না এত রঙিন পোষাকে মানুষের সমবেত হওয়ার কারণ। তিনি গেটে সৈন্য মোতায়েন করে মাত্র ১৫০ গজ দূর থেকে নির্বিচারে মেশিনগান দিয়ে গুলি করে উৎসবরত মানুষদের হত্যার নির্দেশ দিলেন। দশ মিনিট এক নাগাড়ে বৃটিশ বাহিনী তাদের সমস্ত ১৬৫০ রাউন্ড গুলি নিঃশেষ করে ফেলল নিরীহ নির্দোষ নিষ্পাপ ভারতীয়দের উপর বর্ষণ করে । চারিদিকে কেবল আর্তনাদ হাহাকার ও কান্নার রোল। রক্তের বন্যা বয়ে গেল সাজানো বাগানে। পড়ে থাকল সহস্রাধিক মানুষের নিষ্প্রাণ দেহ। যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকল আরও বহু মানুষ। অম্রিতসরে মানুষের জমায়েতের উপর কোনও নিষেধাজ্ঞা ছিল না। ছিল না কোনও সতর্কবাণী। এমনকি জালিয়ানওয়ালাবাগে জমায়েত হওয়া মানুষদের শান্তিপূর্ণ ভাবে চলে যাওয়ার জন্য কোন নির্দেশও দেওয়া হয়নি। জেনারেল ডায়ার কোনও সন্ত্রাসী ছিলেন না, তিনি কোনও বিকৃতমস্তিষ্ক মানুষ ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন শীতল মস্তিষ্কের সুদক্ষ হত্যাকারী। গণহত্যার পর চব্বিশ ঘণ্টা কোনও মানুষকে অম্রিতসরের রাস্তায় নামতে দেওয়া হয়নি। জালিয়ানওয়ালাবাগে যন্ত্রণায় ছটফট করা আহত মানুষগুলি এক ফোঁটা জল পর্যন্ত পায়নি। ইংরেজরা প্রকৃতপক্ষে ভারতীয়দের মানুষ বলে মনে করত না। ভারতীয়দের অবজ্ঞা ও ঘৃণার চোখে দেখত। এই হত্যাকাণ্ডের পর সারা দেশ যেমন স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিল তেমনই হয়েছিল প্রতিবাদে উত্তাল।জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যা কাণ্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চার বৎসর আগে বৃটিশদের দেওয়া তাঁর নাইট উপাধি ত্যাগ করে সারা বিশ্বের কাছে ব্রিটিশ অত্যাচারের বীভৎসতার কথা জানিয়ে দিলেন। তিনি দ্বিধাহীনভাবে ভাইসরয়কে লিখলেন, “………. আমাদের দেশবাসীর চিত্তে যে ক্রোধ এবং বেদনার সৃষ্টি হয়েছে, আমাদের শাসকবর্গ তাকে অগ্রাহ্য করেছেন। সম্ভবত তাঁরা এই বলে নিজেদের সাধুবাদ দিচ্ছেন যে উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।… আমার স্বদেশবাসী, যাদের তুচ্ছ বলে মানুষের অধম মনে করা হয়, আমি তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই সবরকম বিশেষ সম্মান বিসর্জন দিয়ে।” মতিলাল নেহরুর নেতৃত্বে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস এই ঘটনার বিশেষ তদন্ত করে প্রকাশ করল ডায়ারের অবিমৃস্যকারিতার পুঙ্খানুপুঙ্খ ইতিহাস। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এই তদন্ত রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে ডায়ারকে সরিয়ে দিলেও তৎক্ষণাৎ লর্ড সভা ডায়ারের ‘স্তুতি গাইল’। এসবের মধ্য থেকে পরিবর্তন হল ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ধারা। ধীরে ধীরে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে শুরু হল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রাম। জালিয়ানওয়ালাবাগ গণহত্যার পর আরও ঘৃণ্য নজির সৃষ্টি করে ইংরেজরা। নিষ্ঠুর জেনারেল ডায়ারকে সম্মান জানাতে ভারতে ইংরেজরা বিরাট অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করে। রত্ন খচিত এক তরবারি সহ এই বিশাল অর্থ দিয়ে জেনারেল ডায়ারকে সম্মান জানানো হয়। কিন্তু ভারতীয়দের কয়েক মাসের আন্দোলনের ফলে জালিয়ানওয়ালাবাগে নিহত ও আহত মানুষের পরিবারগুলির হাতে যৎসামান্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। ভারতের হাজার বৎসরের সভ্যতার ইতিহাসে সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজদের দ্বারা এমন অবমাননা ভারতীয়রা ভুলবে না।

কুমুদ মেলা

পল্লী কবি কুমুদরঞ্জন মল্লিকের জন্ম ভিটে কোগ্রামে যখনই আসি আমার মনে হয় আমি প্রতিবারই কবির দর্শন পাই। আজ ৩ মার্চ ‘১৯, তাঁর জন্ম দিন উপলক্ষে যে গুণীজন সম্মেলন হল কবিগৃহ “মধুকর” এর আঙিনায় আম্রকুঞ্জে তা বেশ কবিতাময় হয়ে উঠেছিল। আমার কবি দর্শনের প্রথম দিনের কথা […]