Recent Posts

হজরত মোহাম্মদ (দঃ)

হজরত মোহাম্মদ (দঃ)

(হজরত মোহাম্মদ (দঃ) জন্মগ্রহণ ও পরলোক গমন উপলক্ষে তাং 21. 11. 18 ) 570 খ্রিস্টাব্দে আরবি মাসের 12 রবিউল আওয়াল হজরত মোহাম্মদ(দঃ) আরবের মক্কা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।ইংরেজি মাসের হিসাবে জন্ম তারিখ নিয়ে মতভেদ আছে। তবে তাঁর পরলোক গমনের তারিখ12 রবিউল আওয়াল, 632 খ্রিস্টাব্দে 8 […]

শবর আদিবাসীর মৃত্যু

শবর আদিবাসীর মৃত্যু

পশ্চিম বাংলার ঝাড়গ্রাম জেলায় জঙ্গল মহলে লালগড়ে পূর্ণাপাণি গ্রামে ‘সাত শবরের’ মৃত্যু সংবাদ বাংলার প্রায় সব সংবাদপত্রের শিরোনামে আসে গত 13 নভেম্বর ’18, মঙ্গলবার।সংবাদ পরিবেশনের ধরণ দেখে মনে হবে সবর জঙ্গল মহলের অন্য কোনও এক প্রজাতির নাম। অবশ্য বিষয়টি আমাদের গা সওয়া হয়ে গেছে। আমরা […]

জওহরলাল নেহরু

জওহরলাল নেহরু

প্রাচীন গ্রীসের আথেন্স নগরীর শাসক পেরিক্লেস ও দিগ্বিজয়ী গ্রীক সম্রাট আলেকজান্ডার, ইংল্যান্ডের রাজা আলফ্রেড অথবা রানি এলিজাবেথ, রুশ দেশের সম্রাট পিটার, প্রাচীন ভারতের মহারাজা অশোক ও মধ্য যুগের সম্রাট আকবর, আমেরিকার রাষ্ট্রপতি এব্রাহাম লিংকন ইঁহাদের যেমন স্ব স্ব জাতির পরিচালক বা নিয়ন্তা বলার ক্ষেত্রে কোনও দ্বিমত নেই তেমনই পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুকে স্বাধীন ও আধুনিক ভারতের প্রধান স্থপতি গণ্য করার বিষয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই। পরাধীন ভারতে তিনি ছিলেন অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্বাধীনতা সংগ্রামী ও ত্যাগী। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যেতেন সব শ্রেণির মানুষের কাছে নতুন করে ভারতকে আবিষ্কার করার জন্য। আবার গ্রেপ্তার বরণ করে জেল খাটতে হত যে কোনও মুহূর্তে। ন বার কারাবরণ করে জীবনের মোট দশ বৎসর কাটাতে হয়েছে তাঁকে দেশের বিভিন্ন কারাগারে। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল নেহরুকে যথার্থই বলেছিলেন, “no man in India has sacrificed as much as you have” । বন্দি অবস্থায় তিনি যেমন দেশ ও জাতির কথা ভাবতেন তেমনই নিরলস ভাবে পড়ে যেতেন বিশ্ব সাহিত্য ও ইতিহাস।দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, আদর্শবাদী, পন্ডিত এবং কূটনীতিবিদ নেহরু ছিলেন একজন আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। লেখক হিসেবেও নেহরু ছিলেন বিশিষ্ট। ইংরেজীতে লেখা তাঁর তিনটি বিখ্যাত বই- ‘বিশ্ব ইতিহাসের কিছু চিত্র’ (Glimpses of World History, 1934 ), ‘একটি আত্মজীবনী’ (An Autobiography, 1936 ), এবং ‘ভারত আবিষ্কার’ (The Discovery of India, 1946 ) চিরায়ত সাহিত্যের মর্যাদা লাভ করেছে যা পৃথিবীর সব দেশের গ্রন্থাগারের সম্পদ।
ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তিনি যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন বাকি প্রধানমন্ত্রীদের মোট সমস্যা তার চেয়ে বেশি নয়। দুশো বৎসর ব্রিটিশ শোষিত ভারত এক দারিদ্র্যজীর্ণ ভারতে পরিণত হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে। দেশের প্রায় নব্বই শতাংশ মানুষ নিরক্ষর। শত বিভক্ত বুভুক্ষু জাতির মুখে তুলে দিতে হবে অন্ন। হাতে আছে সুবিশাল এক শূন্য। তাই তিনি সুসংহত ভাবে জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইলেন। প্রথমেই তিনি নতুন ভারতে সংবিধান তুলে দিলেন জাতির হাতে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার দিয়ে মর্যাদা দিলেন তাদের । ভারত স্বীকৃতি দিল বহুদল রাজনৈতিক পদ্ধতিকে। ইস্পাত- কঠিন ভিত্তির উপর ভারতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে তিনি বিস্ময় সৃষ্টি করলেন । সন্দেহাবিষ্ট বিশ্ব আবিষ্কার করল পরিণত ভারতকে। ধীরে ধীরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মধ্যে বিশ্ব খুঁজে পেল এক বলিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের প্রবক্তা হিসাবে নেতৃত্ব দিলেন এশিয়া আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশ সমুহকে। কিন্তু বিনা প্ররোচনায় 1962 সালে চিন ভারত আক্রমণ করলে মাও এর প্রতি নেহরুর বিশ্বাসে চির ধরে। বর্ণবৈষম্য ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে তাঁর কণ্ঠ ছিল কর্তৃত্বব্যঞ্জক। আজ হতে সত্তর বৎসর পূর্বে ( 3 নভেম্বর 1948) রাষ্ট্র সংঘে তাঁর প্রথম ভাষণেই তিনি বিশ্ব নেতৃত্বের নজর কেড়েছিলেন। জোরালো ভাবে তিনি ব্যক্ত করেছিলেন যে, ঘৃণা, সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতা বিশ্ব শান্তির প্রধান প্রতিবন্ধক। এবং এমত চিন্তা ভারতের জাতীয় জীবনে তিনি প্রয়োগ করেছিলেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে ধর্মের বাণী পাঠ অপরাধ।তাই তিনি সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্য, বস্ত্র,শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানকে অগ্রাধিকার দেন। For a hungry man or hungry woman, truth has little meaning. He wants food. For a hungry man, God has no meaning. And India is starving and to talk of truth and God and many of the finer things is mockery. We have to find food for them, clothing, housing, education and health are absolute necessities that every person should possess. When we have done that we can philosophise and think of God. So, science must think in those terms and work along those lines on the wider scale of coordinated planning.”তাই তিনি দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য যেমন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন তেমনই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উপর সমান গুরুত্ব আরোপ করেন। পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর ‘আধুনিক মন্দির’ ছিল Hindustan Hindustan Aircraft limited, Hindustan Machine Tools, Bharat Electronics, Bharat Heavy Electricals, Indian Telephone Industries, Steel Plants at Bhilai, Rourkela, Durgapur, and Bokaro. I তাঁর আধুনিক মন্দিরের তালিকায় ছিল Council of Scientific and Industrial Research, Atomic Energy Commission (Bhabha Atomic Research Centre at Bombay), Indian Institute of Technology (IIT). হোমি জে ভাবা, স্যার সি ভি রমন, সতীশ ধাওয়ান, নলিনী রঞ্জন সরকার, জে সি বোস, মেঘনাথ সাহা, এস এস ভাটনগর প্রভৃতি বিজ্ঞানীদের পূর্ণ স্বাধীনতা দিলেন ভারতে বিজ্ঞান গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কৃষি ক্ষেত্রে সবুজ বিপ্লবের প্রবক্তা জওহরলাল নেহরু কেবল রাসায়নিক সার কারখানাই করেননি তিনি লক্ষ লক্ষ কৃষকদের ভূমির মালিকানা দান করেছিলেন যা তারা আজও চাষাবাদ করে। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু কেবল উন্নয়নের ক্ষেত্রে নয়, তিনি সংহতি ও একতা রক্ষার ক্ষেত্রেও ছিলেন অপরিসীম শক্তির প্রতীক। নীরদ সি চৌধুরী জওহরলাল নেহরু সম্বন্ধে বলেছিলেন, “He was the most important moral force behind the unity of India”

জওহরলাল নেহরু

প্রাচীন গ্রীসের আথেন্স নগরীর শাসক পেরিক্লেস ও দিগ্বিজয়ী গ্রীক সম্রাট আলেকজান্ডার, ইংল্যান্ডের রাজা আলফ্রেড অথবা রানি এলিজাবেথ, রুশ দেশের সম্রাট পিটার, প্রাচীন ভারতের মহারাজা অশোক ও মধ্য যুগের সম্রাট আকবর, আমেরিকার রাষ্ট্রপতি এব্রাহাম লিংকন ইঁহাদের যেমন স্ব স্ব জাতির পরিচালক বা নিয়ন্তা বলার ক্ষেত্রে কোনও […]

আসিয়া নরিন

আসিয়া নরিন

প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের উন্মাদনা মানুষের মনুষত্বকে যে হত্যা করে তার নজির ইতিহাসে এমন কিছু বিরল নয়। তবুও মাঝে মাঝে অতি তুচ্ছ বিষয় ধর্মান্ধদের বিষাক্ত ছোবলে প্রচারের সামনে আসে। ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে তখন তা সভ্যতাকে গ্রাস করতে আসে। পাকিস্তানের আসিয়া নরিন এখন সারা দুনিয়ার পরিচিত নাম। ফাঁসির […]

আসিয়া নরিন

প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের উন্মাদনা মানুষের মনুষত্বকে যে হত্যা করে তার নজির ইতিহাসে এমন কিছু বিরল নয়। তবুও মাঝে মাঝে অতি তুচ্ছ বিষয় ধর্মান্ধদের বিষাক্ত ছোবলে প্রচারের সামনে আসে। ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে তখন তা সভ্যতাকে গ্রাস করতে আসে। পাকিস্তানের আসিয়া নরিন এখন সারা দুনিয়ার পরিচিত নাম। ফাঁসির দড়ি গলায় পরার অপেক্ষায় আট বছর সেদেশের কারাগারের কুঠুরিতে বন্দি ছিলেন । চার সন্তানের জননী আসিয়া নরিন ধর্মে খ্রিস্টান। স্বামী সন্তান নিয়ে এক প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা। কৃষি খামার দেখাশোনা করার পেশায় যুক্ত। তাঁর অপরাধ, তিনি নাকি ইসলাম ধর্মের অবমাননা করেছেন।ইসলাম ধর্মাবলম্বী অন্যান্য সহকর্মী মহিলাদের সাথে কলহ বাধে এক কাপ জল পান করাকে কেন্দ্র করে। একটি বড়ো পাত্রে রক্ষিত পানীয় জলে কাপ ডুবিয়ে তুলে নিজে পান করার পর সেই কাপ না ধুয়ে অন্য মহিলাকে একই ভাবে জল পান করান আসিয়া নরিন । অপবিত্রকরণের অভিযোগ উঠে আসে সেখান থেকে। তর্কাতর্কিতে আসিয়া নরিন নাকি পয়গয়ম্বর হজরত মোহাম্মদ (দঃ) সম্বন্ধে খারাপ মন্তব্য করেন। যদিও আসিয়া নরিন সে অভিযোগ একাধিকবার অস্বীকার করেন। তবুও হাস্যকর এই অভিযোগের ভিত্তিতে পাকিস্তানের এক নিম্ন আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে ইসলাম অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়। এক বছর পর নিম্ন আদালত তাঁকে সেদেশের আইনানুযায়ী 2010 সালে মৃত্যুদণ্ড দেয়। লাহোর হাইকোর্ট সেই মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে 2015 সালের এক রায়ে। কিন্তু গত 31 অক্টোবর 2018, পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট আসিয়া নরিনকে নির্দোষ ঘোষণা করে মুক্তি দেন ।সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের ডিভিসন বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে আসিয়া নরিনকে বেকসুর খালাস করে দেন। মামলার রায়ের যুক্তিতে তাঁরা কোরান ও ইসলামের ইতিহাসের কথা উল্লেখ করেন। পরিশেষে হজরত মোহাম্মদ (দঃ) অমুসলিমদের সাথে কেমন সুন্দর মানবিক ব্যবহার করেছেন তাও তাঁরা স্মরণ করিয়ে দেন। কিন্তু আদালত মুক্তি দিলেও ধর্মান্ধ উগ্রবাদীদের সংগঠিত তাণ্ডবে করাচি রাওয়ালপিণ্ডি ও ইসলামাবাদসহ বিভিন্ন শহরে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যায়। উগ্র সাম্প্রদায়িক তেহরিক –ই – লাব্বায়িক পাকিস্তান (টি এল পি)রাজনৈতিক দলটি ধর্মের নামে জনগণকে এমন ভাবে ক্ষেপিয়ে তোলে যে মনে হচ্ছে ঐএক আসিয়া নরিনকে হত্যা না করলে ইসলামকে রক্ষা করার আর কোনও বিকল্প পথ নেই।তাই আদালত নির্দোষ ঘোষণা করলেও তারা নিজেদের হাতেই আসিয়া নরিনকে হত্যা করে ধর্ম রক্ষা করবে। এই ধর্মান্ধ মানুষেরা দেশের আইন আদালত মানে না। বিবেকহীন ও মনুষ্যত্বশূন্য এই মানুষগুলি প্রকৃতপক্ষে সভ্যতার কলঙ্ক। ধর্মের নামে হত্যা করে বেহেস্ত লাভের আশায় নৈরাজ্য সৃষ্টিতে বদ্ধপরিকর। আসিয়া নরিন আইনের ফাঁসির দড়ি হতে রেহাই পেলেও এদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। তাই ইউরোপের কোনও এক দেশে আশ্রয়ের আশায় সপরিবার দেশত্যাগ করতে চেয়ে কাতর আবেদন জানিয়েছেন। আপাতত তিনি দেশের কোনও এক স্থানে লুকিয়ে আছেন। আসিয়া নরিনের আইনজীবী সাইফ মুলুক মৃত্যুভয়ে ইতিমধ্যে নেদারল্যান্ডসে আশ্রয় নিয়েছেন। তারও আগে পাকিস্তানের ধর্ম অবমাননার (যে কোনও প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের অবমাননা) আইনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের গভর্নর সালমান তাসির ।তাঁকেও তাঁর দেহরক্ষী গুলি করে হত্যা করে। এই ধর্মান্ধ মানুষেরা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদেরও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে রেখেছে। প্রকৃতপক্ষে ধর্মোন্মাদের দল ধর্মের নামে নরহত্যাকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। একটি মুমূর্ষু ব্যক্তির প্রাণ বাঁচাতে এরা কখনও এগিয়ে আসে না। অসহায় ও অনাথের অশ্রু যদি এদের নাড়া দিতে পারত তাহলে এরা রক্তে পিপাসা মেটাতে চাইত না। ইসলামের নামে সীমা লঙ্ঘন করে এরা যা নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে তা প্রকৃতপক্ষে ইসলামের আবির্ভাবের আগেও ছিল না। কোনও এক বারাঙ্গনা তৃষ্ণার্ত কুকুর ছানাকে জল পান করালে হজরত মোহাম্মদ (দঃ) তার প্রশংসা করেন আর কোনও খ্রিস্টান মহিলা অপর মুসলিম মহিলাদের তৃষ্ণা নিবারণ করলে ইসলামের অবমাননা হয়, এমন চিন্তা যারা করে তারা মানুষ ছাড়া অন্যকিছু অবশ্যই।

প্যাটেল মূর্তি

প্যাটেল মূর্তি

অবশেষে বিজেপি ও সংঘ পরিবার তাদের অন্তত একজন আইকন খুঁজে বের করেছে। ভারতের বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম শ্রেণীর নেতা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আপাতত বিজেপির একমাত্র আইকন। গত 31 অক্টোবর 2018 গুজরাটের নর্দমা নদীর তীরে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মূর্তি উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী […]

সিবিআই এর কলহ

সিবিআই এর কলহ

‘At the stroke of the midnight hour’ নিশুতি রাতে (23 অক্টোবর ’18)স্বাধীন ভারত যখন ঘুমিয়ে ছিল তখন স্বাধীন সত্ত্বাধিকারী ভারতের সর্বোচ্চ তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এর অধিকর্তার ঘুম ভাঙিয়ে তাঁকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হল । সিবিআই অধিকর্তা অলোক বর্মাকে কার্যত এক ধরনের বরখাস্ত করা হল। […]

বন্ধু রামচন্দ্র

বন্ধু রামচন্দ্র

রামচন্দ্র গোস্বামীর কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। জীবনের অনেক ঘটনা যেমন মনে নেই তেমন অনেক তুচ্ছ বিষয়ও কখনও কখনও মনে পড়ে যায়। যা মনে আছে তা লিপিবদ্ধ করা সহজ না হলেও মনের দৃশ্যপটে তাদের আনাগোনা আটকানো যায় না। কিন্তু যা ভুলে গেছি তার তালিকা করা তো অসম্ভব। তবে ভুলে যাওয়া অনেক কিছু হঠাৎ হঠাৎ মনে পড়ে যায়। রামচন্দ্র গোস্বামীর কথা মনে ছিল না। সে আমার বাল্যকালের বন্ধু নয়।বর্ধমান রাজ কলেজে পড়ার সময় তার সাথে দেখা। ডিগ্রি কোর্সের প্রথম বৎসরে এক সাথে কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম। রামচন্দ্র আমার সাথে পরিচয় করেনি। আমিই রামচন্দ্রের সাথে প্রথম আলাপ করি। অনেকেই তার সাথে প্রথম আলাপ করত। তাকে কারও সাথে আলাপ করতে হত না। কারণ রামচন্দ্রের কিছু বিশেষ গুণ ছিল যা অনেকের ছিল না। যে কোনও হিন্দি বাংলা সিনেমা শহরে এলে সে প্রথম দিকেই দেখত। আমাদের সেসব কাহিনী শুনিয়ে তারপর আমাদের দেখতে সুপারিশ করত। নায়ক নায়িকা এবং তাদের অভিনয় ও গান সবই ভালো মন্দ বুঝিয়ে বলত। সিনেমার গল্প বলার সময় বন্ধুদের ভিড় হত একটু বেশি। তবে নায়ক নায়িকাদের ডায়ালগ বলার সময় সে ছিল খুব সিরিয়াস। কোনও পরিচালকের কোথাও একটু ভুল হলে তাও আমাদের বলে দিত। হিন্দি সিনেমার ডায়ালগ হিন্দিতে এবং বাংলার বাংলাতেই শুনিয়ে দিত রামচন্দ্র। সিনেমা নিয়ে বন্ধুদের সাথে তর্ক হলে সে বেশ খুশি হত। কারণ তর্কে তার জয় ছিল প্রায় নিশ্চিত। এটা যে সে উপভোগ করত তা তার মুখের এক বিশেষ ধরনের হাসি দেখেই বোঝা যেত। রামচন্দ্রের আরও এক বিশেষ গুণ ছিল। বাড়তি ক্ষমতা না থাকলে এ গুণের অধিকারী হওয়া যায় না। সে ভাল ইংরেজি বলতে পারত। কিন্তু ইংরেজি সে বন্ধুদের সাথে কথা বলার সময় বলত না।বন্ধুদের মাঝে ইংরেজি বলত কেবল কলকাতার মাঠে ফুটবল খেলার ধারাবিবরণী নকল করে শোনাবার সময়। হাতদুটো মুখের কাছে চোঙের মতো করে অনর্গল ইংরেজি বলে যেত যেমন ভাবে রেডিওতে শোনা যেত তেমন ভাবে। তার গলার উত্থান পতন দেখে বোঝা যেত খেলার গতি প্রকৃতি। পরিষ্কার বোঝা যেত বল কখন গোলের কাছাকাছি আর কখন খেলা মাঝমাঠে। সদাহাস্য রামচন্দ্রের সাথে আমার বন্ধুত্ব হয়েছিল এক বিশেষ ঘটনায়। একদিন কলেজ শেষে গেটের সামনে রাস্তার উপর একটি রিক্সার ধাক্কায় আমার ডান হাত সামান্য কেটে যায় । পিছনে আসতে থাকা রামচন্দ্র তা দেখে আমাকে সাথে করে পাশেই হাসপাতাল নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে আমি বাড়ি আসি। কয়েকদিন পর আবার যখন কলেজ যাই সে আমার হাতের খোঁজ খবর নেয়। তারপর হতে আমরা অনেকটা কাছাকাছি আসি। একসাথে চা খাই। টিফিন করি। গল্প করি। কলেজের পাশে নিতাইদার চায়ের দোকানে একদিন দুজনে চা খাচ্ছি। এমন সময় দেখা গেল রাস্তার পাশে কয়েকজন ছাত্র একটা পাগলাকে উত্ত্যক্ত করে বিভিন্ন প্রকার হাসি তামাশায় মেতে উঠেছে । আমিও সেদিকে তাকিয়ে হাসছি। কিন্তু লক্ষ্য করলাম রামচন্দ্র পাগলটাকে দেখা মাত্র বিমর্ষ হয়ে গেল। আমার দিকে তাকিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে চা এর কাপ ধরে বসে থাকল। রামচন্দ্রের হঠাৎ এমন বিষণ্ণ হয়ে যাওয়ায় আমি বিব্রত বোধ করলাম । সে চা খায় না। আমিও চা খাওয়া বন্ধ রাখি। তাকে বারবার জিজ্ঞেস করি তার এমন বিষণ্ণ হয়ে যাওয়ার কারণ। আমি নাছোড়বান্দা দেখে সে উত্তর দিল যে, তার এমনই এক দাদা আছে। চা না খেয়ে আমরা সেদিন বেরিয়ে আসি। আজও কোনও পাগল দেখলে আমার হাসি আসে না। কেবল রামচন্দ্রকে মনে পড়ে।

#MeToo মিটু

#MeToo মিটু এখন ভারতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বহুদিন পর এমন একটি অসংগঠিত ও অরাজনৈতিক আন্দোলন ভারতজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মিটু এর কোনও আভিধানিক অর্থ নেই কিন্তু এক ব্যাখ্যা আছে। তা হল এক মহিলা বলছেন “আমিও যৌন লাঞ্ছনার শিকার”। এই বলাটা কোনও স্বগতোক্তি নয়। নির্দিষ্ট লক্ষ্যে দৃঢ় […]