Recent Posts

জয় শ্রীরাম

জয় শ্রীরাম

‘জয় শ্রীরাম’ এখন ভাষা বিজ্ঞানে অর্থের অপকর্ষে ‘ঘৃণা ও গণপিটুনি’তে রূপান্তরিত হয়েছে, যেমন ‘গঙ্গা’ অর্থের উৎকর্ষে ‘পবিত্র নদী’তে উন্নীত হয়েছে। মানুষকে জোর করে জয় শ্রীরাম বলানো ও প্রহারে হত্যা করা বর্তমান ভারতে নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।এই তালিকার সর্বশেষ সংযোজন মুর্শিদাবাদের কিশোর রাজিবুল ইসলাম (14.7.2019)। […]

ডুবিছে মানুষ

“কাণ্ডারী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার” বঙ্গোপসাগরে উথাল পাতাল ঢেউএ যখন একজন মানুষ অসহায় অবস্থায় ডুবছে তখন দূরের পণ্যবাহী জাহাজ জাওয়াদের কাণ্ডারী সত্যিই বলে উঠল ‘ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার’। ভিডিওতে দেখা গেল, সমুদ্রের মাঝে একজন ডুবন্ত মানুষকে উদ্ধার করার মুহূর্তে জাহাজের নাবিকগণ দুবাহু […]

মুসলিম তোষণ

“তোষণ” কথাটি কেবল অপমানজনক তাই নয়, এর মধ্যে একটি ভণ্ডামি লুকিয়ে থাকে। কথাটির কার্যকারিতার মধ্যে একটি ভয়ঙ্কর বিপদও থাকে যদি তোষণকারী সবলতর হয়। যে তোষণ করে তার একটি দুরভিসন্ধি থাকে। যাকে তোষণ করা হয় সে প্রতারিত হয়। যে তোষণ করে সে নিজেকে ঠকায়।তোষণে সবই অহিত ।ভালোবাসা থাকলে তোষণ থাকে না। তোষণের প্রয়োজন হয় না।সমাজে ব্যক্তি বিশেষে তোষণকারী বা তোষণপ্রিয় মানুষ থাকলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনও তোষণ নেই। ভারত রাষ্ট্র কোনও বিশেষ গোষ্ঠীকে তোষণ করে না। কারণ তোষণ ও শোষণ দুটিই সমান। ভারতে হিন্দু সম্প্রদায় মুসলমানদের তোষণ করে না অথবা মুসলমানরা হিন্দুদের তোষণ করে না। অন্যান্য ধর্মের মানুষদের মধ্যে একই কথা প্রযোজ্য। ভারতে একে অপরকে ভালোবাসে। তাই ভারতীয় সভ্যতা গভীরে প্রোথিত। “মুসলিম তোষণ” কথাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এক রাজনৈতিক দুরভিসন্ধিমূলক স্লোগান। গতকাল ১৯ জুন ২০১৯, কলকাতাবাসী কয়েকজন বিশিষ্ট মুসলিম নাগরিক সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীকে একটি চিঠি দিয়েছেন। “তোষণ চাই না” এই চিঠিতে আবেদন জানানো হয়েছে যে দোষী মুসলিম ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু এমন চিঠি লেখার কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। কোনও দুষ্কৃতী হিন্দু মুসলিম বলে আইনের চোখে চিহ্নিত হয় না।একই অপরাধে সব ধর্মের অপরাধী সমান শাস্তি পায়। এমন কোনও ধর্ম নেই যে ধর্মের মানুষের মধ্যে চোর ডাকাত অত্যাচারী খুনি ধর্ষণকারী নেই। একইভাবে এমন কোনও ধর্ম নেই যে ধর্ম অন্যায় ও অপরাধ সমর্থন করে। প্রকৃতপক্ষে অপরাধীর অপরাধ করাটাই ধর্ম। আবেদনে বরং সব অপরাধীর শাস্তি চাওয়া হোক, সব নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো হোক।

শরণার্থী দিবস

প্রত্যেক বৎসর ২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবস পালন করা হয়।শরণার্থীদের জন্যে সারা সৎসর যদিও বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় তবুও এই দিনটিকে বিশেষভাবে শরণার্থীদের সম্বন্ধে বিশ্ব জনগণকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।United Nations High Commissioner for Refugees (UNHCR) শরণার্থীদের জন্যে বিভিন্ন সুপারিশ ও পরামর্শ দিয়ে […]

ডাক্তারি ধর্মঘট

ডাক্তারি ধর্মঘট

এ এক অভূতপূর্ব অপ্রাকৃতিক বিপর্যয় সারা বাংলা জুড়ে(১১ জুন ২০১৯-১৭ জুন ২০১৯ ) । প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে যেমন মূলত হতদরিদ্র সহায় সম্বলহীন মানুষগুলি ধনে প্রাণে মারা যায় তেমনই পশ্চিম বাংলার বর্তমান স্বাস্থ্য বিপর্যয়ে সেই দরিদ্র মানুষগুলি করুণার পাত্র হয়ে হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে মাথা ঠুকে ঘুরছে এবং […]

শিশুর বিচার

শিশুর বিচার

পৃথিবীর ১৯৫ টি দেশের মধ্যে সৌদি আরবের মতো এমন বর্বর, নিষ্ঠুর, এবং সন্ত্রাসী দেশ বোধহয় দ্বিতীয়টি নেই। দেশটির প্রাচীন নাম আরব। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশদের সাথে ১৯৩২ খ্রি. ২৩ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশদের অনুচর ও সেবাদাস খল ও ধূর্ত আব্দুল আজিজ ইবনে সৌদ ব্রিটিশদের সাথে অশুভ আঁতাত করে আরব শব্দের আগে সৌদি যোগ করে দেশটির নাম পাল্টে দেন ।প্রাচীন আরব দেশের নাম এখন সৌদি আরব। পয়গম্বর হজরত মোহাম্মদ (দঃ) আরব দেশে জন্ম গ্রহণ করেন, সৌদি আরবে নয়। কোনও সংখ্যালঘু এক গোত্র বংশের নামে একটি দেশের নাম পৃথিবীতে আর নেই। আজকাল অনেকে সৌদি আরব না বলে, সংক্ষেপে বলে সৌদি। অদূর ভবিষ্যতে আরব শব্দটি উঠে যাবে। উগ্র ওহাবি মতবাদের প্রচারক এই সৌদি বংশ ব্রিটিশদের দয়ায় রাজা সেজে কয়েক শতাব্দী ধরে হাজার হাজার মুসলমানদের হত্যা করে চলেছে কেবল ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যে । যখনই তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিবাদ হয়েছে তখনই বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে। ১৯২৫ সালেও কমপক্ষে তিরিশ হাজার মুসলমানদের হত্যা করা হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। তার আগে ১৯১৭ সালে ২ রা নভেম্বর ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী ব্যালফোর ফিলিস্তিনে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করেন। তখন সৌদি রাজা আব্দুল আজিজ এক লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন: “আমি বাদশাহ আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুর রহমান – ফয়সলের বংশধর ও সৌদের বংশধর – হাজার বার স্বীকার করছি যে, মহান ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধি স্যার কুকাস এর সামনে স্বীকার করছি এই মর্মে যে, ইহুদিদেরকে ব্রিটিশ সরকার যদি ফিলিস্তিন দান করে তা হলে এতে আমার কোনও আপত্তি নেই। বস্তুত আমি কিয়ামত পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকারের অভিমতের বাইরে যাব না।” প্রকৃতপক্ষে সৌদি আরবের সহযোগিতায় ইংল্যান্ড ও আমেরিকার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে ইসরাইল প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সৌদি আরবের নিরলস সহিংস অপকর্মের জন্যে প্রাচীন ও স্বাধীন নির্দোষ ফিলিস্তিনি জনগণ গোলাবারুদের মুখে পড়ে আজ ভয়ঙ্কর অস্তিত্ব সঙ্কটের সম্মুখীন । ফিলিস্তিন ভূখণ্ড ইসরাইলের লোলুপ মুখগহ্বরে ক্রমশ মিলিয়ে যাচ্ছে। অথচ সৌদি রাজবংশ তথা সরকার অকল্পনীয় বিলাসিতায় নিমজ্জিত। এমন কোনও দুষ্কর্ম নেই যা সৌদি রাজপরিবারের দ্বারা হয় না। ব্যভিচারের নির্লজ্জ ঘটনাগুলি প্রবাহমান এই সৌদি রাজপরিবারে মধ্যে। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান,নেপাল,ফিলিপাইন ,রোমানিয়া, বুলগেরিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে দরিদ্র পরিবারের নারীদের কাজের নামে সৌদি রাজপরিবারে ব্যবহার করা হয়। রাতের ভোজ সভায় দামী মদের ফোয়ারা ছোটে। এঁরা আরবের সমস্ত সাহাবিদের মাজারগুলি ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন যাতে জিয়ারত পর্যন্ত যেন না করা যায় ।অথচ সৌদি রাজা সালমান বিন আব্দুল আজিজের এক সুবিশাল মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে জেড্ডা শহরে। মূর্তিটির বিশেষত্ব উল্লেখ করে গিনেস বুকে নাম তোলার জন্যে সুপারিশ করা হয়েছে সৌদি সরকারের তরফে। সৌদি আরব খবরের শিরোনামে আসে কেবল মাত্র দুষ্কর্মের দৌলতে । সাংবাদিক খাসোগিকে হত্যা করে একবার শিরোনামে এসেছিল। ইয়েমেনের হাজার হাজার নিরীহ নারী শিশু সৌদি আরবের বোমারু বিমানের শিকার হয়ে চলেছে। ইয়েমেন দেশটিকে শ্মশানে পরিণত করে সৌদি আরব সংবাদ শিরোনামে রয়েগেছে ।পৃথিবীতে প্রায় সাত কোটি শরণার্থী আছে। তার বেশিরভাগ মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলি হতে উৎখাত। মধ্য প্রাচ্যের অন্য অনেক দেশ এমনকি কানাডা ও ইউরোপের অনেক দেশ তাদের আশ্রয় দিলেও সৌদি আরব কোনও শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়নি ।সৌদি সরকার এবার খবরের শিরোনামে এসেছে শিশুর “বিচার” সংক্রান্ত এক করুণ কাহিনির জন্যে। ২০১১ সালে সৌদি সরকারের নির্যাতন ও দেশে গণতন্ত্রের দাবিতে এক প্রতিবাদে অংশ গ্রহণ করে মাত্র দশ বছরের শিশু মুর্তাজা। কেবলমাত্র প্রতিবাদে অংশ গ্রহণ করার অপরাধে তার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু শিশুর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বেআইনি! তাই তাকে জেলে আটক করে বড়ো করা হয়েছে। সৌদি সরকারের কাছে মুর্তাজার মতো শিশুকে হত্যা করা কোনও বিষয় নয়। তবে পার্থক্য হল মুর্তাজার ‘বিচার’ হয়েছে। গত আট বছর ধরে যত্নে রাখা হয়েছে কারাগারে। উদ্দেশ্য একটাই, আঠারো বছর পূর্ণ হলে সঠিক সময়ে তার শিরশ্ছেদ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।আবার সৌদি আরব সংবাদ শিরোনামে আসবে। বিশ্ব দেখবে সৌদি আরবের আইন কত নিখুঁত! হজরত মোহাম্মদ (দঃ) আরবের বুকে এমন শিশুদের দেখা পেলে বুকে না তুলে পেরিয়ে যেতে পারতেন না। শিশুদের তিনি বেহেস্তের ফুলের সাথে তুলনা করেন। একটি শিশুর হাসি ফোটাবার জন্যেও তিনি রাস্তা থেকে কোলে তুলে বাড়ি আনতেন। মুর্তাজার মতো দশ বছরের একটি শিশুর প্রতিবাদ আইনের চোখে অপরাধ হতে পারে তা ভাবা যায় না। আইন প্রণয়ন করে মানুষ। কিন্তু এমন আইন যারা প্রণয়ন করে তারা কেমন মানুষ, এ প্রশ্ন মানুষ করবেই।

মাতৃদিবস

মাতৃদিবস

বারো মে (12, May) আন্তর্জাতিক মাতৃদিবস। কত আলোচনা, সভা সমিতি, অনুষ্ঠান প্রভৃতির মাধ্যমে দিনটি বিভিন্ন ভাবে পালিত হয়।বহু মহাপুরুষদের বাণী ও জীবন আলোচনা হয়। হজরত মোহাম্মদ (সঃ) বলেন, “মায়ের পায়ের তলায় সন্তানের বেহেস্ত।” একবার এক যুবক হজরত(সঃ)এর কাছে বায়াত হতে এলেন (দীক্ষা নিতে এলেন)। কিন্তু […]

রবীন্দ্রনাথ

রবীন্দ্রনাথ

যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে। একলা চলো, একলা চলো, একলা চলো, একলা চলো রে ॥ যদি কেউ কথা না কয়, ওরে ওরে ও অভাগা, যদি সবাই থাকে মুখ ফিরায়ে সবাই করে ভয়— তবে পরান খুলে ও তুই মুখ ফুটে […]

রমজান

রমজান

আবার রমজান ফিরে এল প্রেমের বার্তা বহন করে। হজরত মোহাম্মদ (সঃ) এর আবির্ভাবের আগেও রমজান মাস ছিল কিন্তু সে রমজান ছিল আরবি মাসের আর এগারোটা মাসের মতোই। রমজান মাস বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠল ৬২৩ খ্রিস্টাব্দে। হজরত মোহাম্মদ (সঃ) তাঁর জন্ম শহর মক্কা থেকে মদিনা হিজরত করেন ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে। তার পরের বৎসর অর্থাৎ ৬২৩ খ্রিষ্টাব্দে কোরানের ঐশী বাণী অবতীর্ণ হয় যেখানে রমজান মাসে রোজা পালনের নির্দেশ আসে। অবশ্য কোরানের বাণী প্রথম অবতীর্ণ হয় ৬১০ খ্রিস্টাব্দে এই রমজান মাসেই মক্কার অদূরে হিরা পাহাড়ের নিভৃত গুহায় যখন হজরত মোহাম্মদ (সঃ) গভীর রাতে ধ্যানমগ্ন ছিলেন। ইসলাম ধর্মের নারী পুরুষ সকলের জন্য রমজান মাসে রোজা পালন বাধ্যতামূলক করা হয় ৬২৩ খ্রিস্টাব্দে। সেদিন আরবের মক্কা ও মদিনা শহরের মুষ্ঠিমেয় কয়েক হাজার যাঁরা মুসলিম ছিলেন তাঁরা এই নির্দেশ পালন করেছিলেন। আজ পালিত হচ্ছে পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে ১৭০ কোটি মুসলিমদের মধ্যে। রমজানের রোজা পালন প্রকৃতপক্ষে কোনও উৎসব উদযাপন নয়। রমজান মাসে কোনও উৎসব নেই। ইদ উৎসব পালিত হয় রমজানের শেষে সওয়াল মাসের প্রথম তারিখে। রমজানের রোজা পালনের বাহ্যিক দিক হল সূর্যোদয়ের পূর্ব হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার হতে বিরত থাকা। অনেকে রোজার অন্যান্য দিকগুলি গুরুত্ব কম দেওয়ার কারণে রোজা পালনকে উপবাস বা ইংরেজিতে fasting বলে থাকেন। রমজান আরবি শব্দ হলেও রোজা কিন্তু ফারসি শব্দ, তাই রোজা শব্দটি কোরানে কোথাও নেই। কোরানে “সাওম” পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাওমের প্রতিশব্দ আত্মসংযম, ফারসিতে রোজা। ইসলামি পরিভাষায় বেশ কিছু ফারসি শব্দ আছে যেমন, নামাজ, রোজা, খোদা প্রভৃতি শব্দগুলি কোরানে নেই। । কিন্তু এই আরবি মাসের হিসাব চান্দ্র বৎসর ধরে হয়, এবং এক চান্দ্র বৎসর ৩৫৪ দিনে পূর্ণ হয়। অর্থাৎ সৌর বৎসরের থেকে এগারো দিন কম। সেই হিসাবে এগারো দিন এগিয়ে আসে প্রতি বৎসর। এ বৎসর (২০১৯ সালে) জুন মাসে চারদিন রমজান থাকবে। আগামী বৎসর জুন মাসে রমজান পড়বে না। আবার ছত্রিশ বৎসর পর জুন মাসে রমজান পড়বে। কোনও মানুষ যদি মনে করে বৈশাখ হতে চৈত্র পর্যন্ত সব মাসেই সে রমজানের রোজা পালন করবে তবে তার সময় লাগবে ছত্রিশ বৎসর।
রোজা একটি পুরোপুরি নীরব ইবাদত বা সাধনা। আল্লাহ এবং রোজাদারের মধ্যে বিশ্বাস ও বোঝাপড়ায় নিহিত আছে এই ইবাদত। আল্লাহ এবং রোজাদার ছাড়া আর তৃতীয় কোনও ব্যক্তি জানতে পারে না রোজা পালন হল কি না। আইন, প্রশাসন বা সামাজিক বাধ্যবাধকতা বা অপর কোনও বাহ্যিক বল প্রয়োগের দ্বারা রোজা পালন করানো হয় না। কোরানে বলা হচ্ছে, “হে ইমানদারণ, তোমাদের জন্য সিয়াম বা রোজা ফরজ (compulsory) করা হল, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছিল, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।”(২:১৮৩)। তাকওয়া কোনও শক্তি নয় বরং এক সর্বোত্তম গুণ। তাকওয়া অর্জন করতে পারলে আল্লাহর রঙে নিজেকে রাঙিয়ে নেওয়া যায়। “ আমরা গ্রহণ করলাম আল্লাহর রং অর্থাৎ আল্লাহ্‌র গুণ । রঙে আল্লাহ অপেক্ষা কে অধিকতর সুন্দর?” (২:১৩৮)। অর্থাৎ আল্লাহ্‌র গুণে গুণান্বিত হওয়া যায়। পক্ষান্তরে আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হওয়াই তাকওয়া অর্জন করা। মানুষ যখন তাকওয়া অর্জন করতে পারে তখন তার মধ্যে আর আপন পর বলে কিছু থাকে না।হজরত মোহাম্মদ (সঃ) বলছেন, “মানুষ যখন পূর্ণ ইমানদার হয় তখন সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে, সমগ্র মানবমণ্ডলীর জন্য তা পছন্দ করে।” অর্থাৎ সে মানুষে মানুষে কোনও বিভদ খুঁজে পায় না, কোনও জাতপাতের খোঁজ করে না। রোজা পালনের মূল উদ্দেশ্য তাই। সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে রোজাদারকে, অহংকার, মিথ্যাচার, স্বেচ্ছাচারিতা, অসৎকাজ, কলহবিবাদ লোভ লালসা,হিংসা, পরশ্রীকাতরতা প্রভৃতি সমস্ত কুপ্রবৃত্তি পরিত্যাগ করতে হবে। তাকে সর্বক্ষণের জন্য বৈধভাবে উপার্জিত অর্থে জীবন যাপন করতে হবে। হজরত মোহাম্মদ (সঃ) সুস্পষ্ট ভাবে বলছেন, “যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মিথ্যা কাজ ছাড়তে পারেনি তার পানাহার পরিত্যাগ করে রোজা রাখা আল্লাহর কাছে কোনও মূল্য নেই।” রোজা রেখে যারা তাদের ষড় রিপুর দাসত্ব করে তাদের সম্পর্কে হজরত মোহাম্মদ (সঃ) আরও বলছেন, “অনেক রোজা পালনকারী ক্ষুৎপিপাসা ছাড়া আর কোনও কিছু লাভ করতে পারে না। তেমনই রাত্রিতে ইবাদকারী অনেক মানুষও আছে, যারা রাত্রি জাগরণ ছাড়া আর কিছু লাভ করতে পারে না।” ধৈর্য, সহনশীলতা, প্রেম ও সদালাপ একজন রোজাদারের মৌলিক গুণ। তাই রমজান মাসের রোজা পালন নিছক উপবাস ও আনুষ্ঠানিকতা নয় বরং পূর্ণ মনুষত্ব অর্জনের সুদৃঢ় সোপান।

সাধ্বীর অভিশাপ

সাধ্বীর অভিশাপ

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনকালীন রাজনৈতিক নেতা – নেত্রীদের কুকথার বন্যা ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সমস্ত স্থাপত্যের ভিত নড়িয়ে দিচ্ছে। কয়েকদিন আগে এক নির্বাচন প্রার্থী সাক্ষী মহারাজ যিনি নিজেকে সন্ন্যাসী বলেন, তিনি ভারতের সাধারণ নিরীহ নাগরিকদের অভিশাপ দেওয়ার হুমকি দেন। সাধারণত কোনও প্রার্থী মানুষের কাছে গিয়ে তাদের […]