Recent Posts

প্যাটেল মূর্তি

প্যাটেল মূর্তি

অবশেষে বিজেপি ও সংঘ পরিবার তাদের অন্তত একজন আইকন খুঁজে বের করেছে। ভারতের বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম শ্রেণীর নেতা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আপাতত বিজেপির একমাত্র আইকন। গত 31 অক্টোবর 2018 গুজরাটের নর্দমা নদীর তীরে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মূর্তি উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী […]

সিবিআই এর কলহ

সিবিআই এর কলহ

‘At the stroke of the midnight hour’ নিশুতি রাতে (23 অক্টোবর ’18)স্বাধীন ভারত যখন ঘুমিয়ে ছিল তখন স্বাধীন সত্ত্বাধিকারী ভারতের সর্বোচ্চ তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এর অধিকর্তার ঘুম ভাঙিয়ে তাঁকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হল । সিবিআই অধিকর্তা অলোক বর্মাকে কার্যত এক ধরনের বরখাস্ত করা হল। […]

বন্ধু রামচন্দ্র

বন্ধু রামচন্দ্র

রামচন্দ্র গোস্বামীর কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। জীবনের অনেক ঘটনা যেমন মনে নেই তেমন অনেক তুচ্ছ বিষয়ও কখনও কখনও মনে পড়ে যায়। যা মনে আছে তা লিপিবদ্ধ করা সহজ না হলেও মনের দৃশ্যপটে তাদের আনাগোনা আটকানো যায় না। কিন্তু যা ভুলে গেছি তার তালিকা করা তো অসম্ভব। তবে ভুলে যাওয়া অনেক কিছু হঠাৎ হঠাৎ মনে পড়ে যায়। রামচন্দ্র গোস্বামীর কথা মনে ছিল না। সে আমার বাল্যকালের বন্ধু নয়।বর্ধমান রাজ কলেজে পড়ার সময় তার সাথে দেখা। ডিগ্রি কোর্সের প্রথম বৎসরে এক সাথে কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম। রামচন্দ্র আমার সাথে পরিচয় করেনি। আমিই রামচন্দ্রের সাথে প্রথম আলাপ করি। অনেকেই তার সাথে প্রথম আলাপ করত। তাকে কারও সাথে আলাপ করতে হত না। কারণ রামচন্দ্রের কিছু বিশেষ গুণ ছিল যা অনেকের ছিল না। যে কোনও হিন্দি বাংলা সিনেমা শহরে এলে সে প্রথম দিকেই দেখত। আমাদের সেসব কাহিনী শুনিয়ে তারপর আমাদের দেখতে সুপারিশ করত। নায়ক নায়িকা এবং তাদের অভিনয় ও গান সবই ভালো মন্দ বুঝিয়ে বলত। সিনেমার গল্প বলার সময় বন্ধুদের ভিড় হত একটু বেশি। তবে নায়ক নায়িকাদের ডায়ালগ বলার সময় সে ছিল খুব সিরিয়াস। কোনও পরিচালকের কোথাও একটু ভুল হলে তাও আমাদের বলে দিত। হিন্দি সিনেমার ডায়ালগ হিন্দিতে এবং বাংলার বাংলাতেই শুনিয়ে দিত রামচন্দ্র। সিনেমা নিয়ে বন্ধুদের সাথে তর্ক হলে সে বেশ খুশি হত। কারণ তর্কে তার জয় ছিল প্রায় নিশ্চিত। এটা যে সে উপভোগ করত তা তার মুখের এক বিশেষ ধরনের হাসি দেখেই বোঝা যেত। রামচন্দ্রের আরও এক বিশেষ গুণ ছিল। বাড়তি ক্ষমতা না থাকলে এ গুণের অধিকারী হওয়া যায় না। সে ভাল ইংরেজি বলতে পারত। কিন্তু ইংরেজি সে বন্ধুদের সাথে কথা বলার সময় বলত না।বন্ধুদের মাঝে ইংরেজি বলত কেবল কলকাতার মাঠে ফুটবল খেলার ধারাবিবরণী নকল করে শোনাবার সময়। হাতদুটো মুখের কাছে চোঙের মতো করে অনর্গল ইংরেজি বলে যেত যেমন ভাবে রেডিওতে শোনা যেত তেমন ভাবে। তার গলার উত্থান পতন দেখে বোঝা যেত খেলার গতি প্রকৃতি। পরিষ্কার বোঝা যেত বল কখন গোলের কাছাকাছি আর কখন খেলা মাঝমাঠে। সদাহাস্য রামচন্দ্রের সাথে আমার বন্ধুত্ব হয়েছিল এক বিশেষ ঘটনায়। একদিন কলেজ শেষে গেটের সামনে রাস্তার উপর একটি রিক্সার ধাক্কায় আমার ডান হাত সামান্য কেটে যায় । পিছনে আসতে থাকা রামচন্দ্র তা দেখে আমাকে সাথে করে পাশেই হাসপাতাল নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে আমি বাড়ি আসি। কয়েকদিন পর আবার যখন কলেজ যাই সে আমার হাতের খোঁজ খবর নেয়। তারপর হতে আমরা অনেকটা কাছাকাছি আসি। একসাথে চা খাই। টিফিন করি। গল্প করি। কলেজের পাশে নিতাইদার চায়ের দোকানে একদিন দুজনে চা খাচ্ছি। এমন সময় দেখা গেল রাস্তার পাশে কয়েকজন ছাত্র একটা পাগলাকে উত্ত্যক্ত করে বিভিন্ন প্রকার হাসি তামাশায় মেতে উঠেছে । আমিও সেদিকে তাকিয়ে হাসছি। কিন্তু লক্ষ্য করলাম রামচন্দ্র পাগলটাকে দেখা মাত্র বিমর্ষ হয়ে গেল। আমার দিকে তাকিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে চা এর কাপ ধরে বসে থাকল। রামচন্দ্রের হঠাৎ এমন বিষণ্ণ হয়ে যাওয়ায় আমি বিব্রত বোধ করলাম । সে চা খায় না। আমিও চা খাওয়া বন্ধ রাখি। তাকে বারবার জিজ্ঞেস করি তার এমন বিষণ্ণ হয়ে যাওয়ার কারণ। আমি নাছোড়বান্দা দেখে সে উত্তর দিল যে, তার এমনই এক দাদা আছে। চা না খেয়ে আমরা সেদিন বেরিয়ে আসি। আজও কোনও পাগল দেখলে আমার হাসি আসে না। কেবল রামচন্দ্রকে মনে পড়ে।

#MeToo মিটু

#MeToo মিটু এখন ভারতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বহুদিন পর এমন একটি অসংগঠিত ও অরাজনৈতিক আন্দোলন ভারতজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মিটু এর কোনও আভিধানিক অর্থ নেই কিন্তু এক ব্যাখ্যা আছে। তা হল এক মহিলা বলছেন “আমিও যৌন লাঞ্ছনার শিকার”। এই বলাটা কোনও স্বগতোক্তি নয়। নির্দিষ্ট লক্ষ্যে দৃঢ় […]

নোবেল ও ধর্মচর্চা

নোবেল ও ধর্মচর্চা

ধর্মের নামে পৃথিবীতে যে মানুষগুলি সহিংস হয়ে ওঠে ও ঘৃণা – বিদ্বেষ সৃষ্টি করে প্রকৃতপক্ষে তাদের কোনও ধর্ম নেই ; না মানবিক, না জৈবিক। ধর্মের বাণিজ্যকরণ ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন সভ্যতার এক নতুন শত্রু।ধর্মের এই কারবারিরা হত্যা করা, সন্ত্রাস সৃষ্টি করা ও ঘৃণা করা ছাড়া যেন […]

নোবেল ও ধর্মচর্চা

ধর্মের নামে পৃথিবীতে যে মানুষগুলি সহিংস হয়ে ওঠে ও ঘৃণা – বিদ্বেষ সৃষ্টি করে প্রকৃতপক্ষে তাদের কোনও ধর্ম নেই ; না মানবিক, না জৈবিক। ধর্মের বাণিজ্যকরণ ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন সভ্যতার এক নতুন শত্রু।ধর্মের এই কারবারিরা হত্যা করা, সন্ত্রাস সৃষ্টি করা ও ঘৃণা করা ছাড়া যেন মানুষের কোনও “কল্যাণ” করতে পারে না। একবিংশ শতাব্দীতে মানুষ যখন বিজ্ঞান চর্চায় নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে তখন পৃথিবীর “মুসলমান” আর “হিন্দু” আড়াআড়ি ভাবে ধর্মের জিগির তুলে হিংসা ছড়াচ্ছে । এই মুহূর্তে পৃথিবীর জনসংখ্যা সাড়ে সাতশো কোটির উপর। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি খ্রিস্টধর্মাবলম্বী ।তাদের সংখ্যা প্রায় দুশো তিরিশ কোটি, মোট জনসংখ্যার বত্রিশ শতাংশ। তারপর ইসলাম ধর্মাবলম্বী। তাদের সংখ্যা প্রায় একশো সত্তর কোটি, মোট জনসংখ্যার চব্বিশ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তাদের সংখ্যা একশো কোটি, মোট জনসংখ্যার পনেরো শতাংশ। ইহুদি সম্প্রদায়ের মানুষ মাত্র এক কোটি পঁয়তাল্লিশ লক্ষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার নিরিখে এক শতাংশেরও কম।কিন্তু নোবেল পুরস্কারের একশো আঠারো বৎসরের ইতিহাসে চিত্রটা অন্য রকম।এখনও পর্যন্ত মোট ৯১৪ জন ব্যক্তি নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। তার মধ্যে খ্রিস্টধর্মাবলম্বীর মানুষ আছেন ৫৯৪ জন (মোট প্রাপকদের প্রায় ৬৫ %)। আর ইহুদিদের মধ্যে আছেন ২০২ জন (প্রায় ২২.৫%,) যারা জনসংখ্যার এক শতাংশও নয় । অপর দিকে একশো কোটি হিন্দুদের মধ্যে আছেন মাত্র সাত জন (তার মধ্যে মাত্র চার জন ভারতীয়) এবং একশো সত্তর কোটি মুসলমানদের মধ্যে মাত্র বারো জন। এখানে নোবেল পুরস্কার একটা সূচক মাত্র। মানুষের কল্যাণে বা সভ্যতার অগ্রগতিতে বর্তমান সময়ে কাদের অবদান কোথায় তা অনেকটা সহজেই নিরুপন করা যায় এই নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির তালিকা থেকে । অথচ এমন হওয়ার কথা ছিল না। কয়েক শতাব্দী আগেও মুসলমানদের অবদান ছিল বিস্ময়কর। ভাষা-সাহিত্য, শিল্প, সঙ্গীত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সংখ্যা আবিষ্কার ,(1,2,3,…)) রসায়ন(alchemy) বীজগণিত (algebra) , লগ ( algorithm) ইত্যাদি ছিল মুসলমানদের সুচিন্তার ফল। ভারতীয় বা হিন্দু সভ্যতা ছিল সভ্যতার ইতিহাসের শিকড় ।ভারতের সিন্ধু সভ্যতা ছিল খ্রিস্টপূর্ব আট হাজার বৎসরের সভ্যতা। তখনই গড়ে উঠেছিল নগর সভ্যতা যা কল্পনার অতীত। ধারাবাহিকভাবে সে সভ্যতাকে সমৃদ্ধ করেছে ভারতের বিস্ময়কর আবিষ্কার। জ্যোতির্বিজ্ঞান, গণিতশাস্ত্র, সংখ্যা আবিষ্কার (শূন্য ০),ত্রিকোণোমিতি, আহ্নিকগতি, শল্যচিকিৎসা ,বেতার যোগাযোগ ইত্যাদি অসংখ্য আবিষ্কার ও তার প্রয়োগ মানব সভ্যতাকে এক নতুন পথ দেখিয়েছিল। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমানরা ধর্মের নামে যুদ্ধ করে হাজার হাজার নরহত্যার মাঝে সভ্যতার ধ্বংসস্তুপ গড়ে তুলছে। আর ভারতে হিন্দু মুসলমান ধর্ম নিয়ে দড়ি টানাটানি খেলছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ভেঙ্কটরমণ রামকৃষ্ণন যিনি ২০০৯ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি গত বৎসর(সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৭) টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ভারতীয়দের উপর। তিনি বলেছিলেন, “ভারতের উচিত এখন নিজেদের মধ্যে খেয়োখেয়ি বন্ধ করা। কে কিসের মাংস খাবে এ বিষয়ে ঝগড়া না করে বরং শিক্ষা, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যার উপর জোর দেওয়া উচিত । যদি তা না হয় তবে ভারতের পক্ষে সভ্যতায় টিকে থাকা অসম্ভব।” তিনি আরও বলেন, “বর্ণে বর্ণে সংঘর্ষ ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর সংঘাত ভারতকে দুর্বল করে তুলছে । “
নোবেল পুরস্কার লাভ না করতে পারলেও সমগ্র মানব সভ্যতার প্রতি দায় বধ্যতা প্রত্যেক জাতির থাকে। যে জাতি অন্তর্দ্বন্দ্বে পীড়িত সে জাতির সুস্থ চিন্তার অবসর বাড়ন্ত হবেই।

নোবেল ও ধর্মচর্চা

ধর্মের নামে পৃথিবীতে যে মানুষগুলি সহিংস হয়ে ওঠে ও ঘৃণা – বিদ্বেষ সৃষ্টি করে প্রকৃতপক্ষে তাদের কোনও ধর্ম নেই ; না মানবিক, না জৈবিক। ধর্মের বাণিজ্যকরণ ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন সভ্যতার এক নতুন শত্রু।ধর্মের এই কারবারিরা হত্যা করা, সন্ত্রাস সৃষ্টি করা ও ঘৃণা করা ছাড়া যেন […]

শান্তির নোবেল

শান্তির নোবেল

২০১৮ সালের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেছেন যুগ্মভাবে ইরাকের ২৫ বৎসরের যুবতী নাদিয়া মুরাদ এবং কঙ্গোর ৬৩ বৎসরের চিকিৎসক ডেনিস মুকওয়েজ । যুদ্ধ ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে অসামান্য কাজের অবদানের স্বীকৃতি এই নোবেল শান্তি পুরস্কার। বর্তমান বিশ্বের জঘন্যতম নিষ্ঠুর বর্বর জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস নাদিয়াকে তাঁর আপন […]

রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন

রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন

ভারতের মহামান্য শীর্ষ আদালত গতকাল ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ জনস্বার্থ সংক্রান্ত এক মামলায় রায় ঘোষণা করেছেন। মামলার মূল বিষয় ছিল ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় দুর্বৃত্তায়ন দূরীকরণ ( decriminalisation of politics)। মামলাটি ছিল এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে। তা হচ্ছে ভারতের সংসদ ও বিধানসভাগুলির নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার সময় ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত কোনও প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারে কিনা। ভারতের জনপ্রতিনিধি আইন অনুযায়ী (Representation of People Act) একজন প্রার্থী যতক্ষণ না কোনও আইন আদালতের দ্বারা দোষী সাব্যস্ত হচ্ছেন ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি নির্দোষ থাকছেন। সুতরাং নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে আইনত বাধা নেই। মহামান্য শীর্ষ আদালতের কাছে মামলার আবেদনে বলা হয়েছিল যে সমস্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে তাঁদেরকে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করা হোক। বিচারে নির্দোষ প্রমাণিত হলেই কেবল তাঁরা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন। ভারতের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত পাঁচজন বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ তাঁদের রায়ে ভারতের সংসদের উপর এই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। সংসদকে আইন প্রণয়ন করতে বলেছেন যাতে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত কোনও ব্যক্তি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে। শীর্ষ আদালত মামলার আবেদনে মত দিলেও আইন প্রণয়নকারী সংস্থা সংসদের এক্তিয়ারে হস্তক্ষেপ করতে পারেননি।শীর্ষ আদালত অবশ্য রাজনৈতিক দলের প্রতি কিছু নির্দেশ দিয়েছেন। কোনও ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ার সময় সেই ব্যক্তির ফৌজদারি মামলা সংক্রান্ত তথ্য নির্দিষ্ট ফর্মে পূরণ করে দলীয় ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু শীর্ষ আদালত যা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তা কোনও অংশেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। শীর্ষ আদালতের মতে ক্রিমিনাল রাজনেতারা ভারতের দায় (liability) ছাড়া কিছু নয়। ভারতের রাজনীতিতে ক্রিমিনালদের উপস্থিতি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূলে কুঠারাঘাত। নির্বাচনের প্রাক্কালে অপরাধী ও অসৎ রাজনেতাদের প্রবেশ পরবর্তী কালে জাতীয় আর্থিক ব্যবস্থার উপর এক ধরনের সন্ত্রাস সৃষ্টি করে। ভারতের রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন এক দুরারোগ্য ব্যাধির মতো। ভারতের রাজনৈতিক স্তরে এই দুর্বৃত্তায়ন ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ভারতের মহামান্য শীর্ষ আদালতের উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। আমাদের সংসদ ও বিধানসভাগুলিতে এমন সদস্য রয়েছেন যাঁদের বিরুদ্ধে খুন ধর্ষণ ও অপহরণের মতো ভয়ংকর অভিযোগ আছে। চলতি বৎসরের শুরুতে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এক হলফনামায় মহামান্য শীর্ষ আদালতকে জানানো হয় যে, দেশের মোট ১৭৬৫ জন সাংসদ এবং বিধায়কের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলছে। সারা দেশের সাংসদ ও বিধায়কের মোট সংখ্যা ৪৮৯৬ জন।ভারতের সংসদের বর্তমান সদস্যদের এফিডেভিট দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায় যে, মোট ৫৪২ জন সাংসদের মধ্যে ১৭৯ জন সাংসদ ফৌজদারি মামলার আসামি। অর্থাৎ মোট সাংসদের ৩৩% শতাংশই আসামি। আমাদের দেশে বিচার ব্যবস্থায় বিচারপতিগণ সুশিক্ষিত ও বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। আইনজীবীগণও জাতীয় তথা আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসিত। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আইন প্রণয়নকারীদের একটি বড়ো অংশ আইনভঙ্গকারী। ভারতের প্রায় সব রাজনৈতিক দলের সাংসদ /বিধায়ক কম বেশি বিভিন্ন প্রকার ফৌজদারি মামলার আসামি। তাই শীর্ষ আদালত যে রায় দিয়েছেন তার পরিপ্রেক্ষিতে সংসদে এমন আইন পাশ হওয়ার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ। এমন আইন সংশোধন বা প্রণয়ন করার প্রক্রিয়াও সহজ নয়। আর যদি না হয় তবে ভারতের গণতান্ত্রিক অবস্থা ক্ষয়িষ্ণু হতে থাকবে। একবার কোনও ফৌজদারি মামলার আসামি নির্বাচনে জয় লাভ করলে তাঁর মেয়াদ পূর্ণ হলেও বিচার শেষ হয় না। আবার পরের মেয়াদে নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা থাকছে না। ভারতের রাজনৈতিক পরিমণ্ডল এখন দুর্বৃত্তায়ন দুষ্টচক্রে পরিবেষ্টিত। কারণ ফৌজদারি আসামির সংখ্যা যেমন ক্রমবর্ধমান তেমনই বিগত কয়েক বৎসরে রাজনেতাদের ঘৃণাবাক্য (hate speech) প্রায় ৫০০%শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কোনটাই ভারতের গণতান্ত্রিক বা সমাজ ব্যবস্থার পক্ষে সুসংবাদ নয়।

গণতন্ত্রের দুর্বৃত্তায়ন

ভারতের মহামান্য শীর্ষ আদালত গতকাল ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ জনস্বার্থ সংক্রান্ত এক মামলায় রায় ঘোষণা করেছেন। মামলার মূল বিষয় ছিল ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় দুর্বৃত্তায়ন দূরীকরণ ( decriminalisation of politics)। মামলাটি ছিল এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে। তা হচ্ছে ভারতের সংসদ ও বিধানসভাগুলির নির্বাচনে অংশ গ্রহণ […]