নারী নির্যাতন ও ভারত

নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযানে আমরা শিখর স্পর্শ করে ফেলেছি। আমাদের উপরে পৃথিবীর আর কোনও দেশ নেই। আমরা আমাদের মা বোনদের সামনে রেখে তালিবানদের আড়াল করে দিয়েছি। আমরা আড়াল করে দিয়েছি নারী লোলুপ মানব সভ্যতা ধ্বংসকারী যুদ্ধবাজ আমেরিকা, সৌদি আরব, সিরিয়া, পাকিস্তান, সোমালিয়াকে । এখন মুখে কুলুপ এঁটে চোখে ঠুলি পরা ছাড়া গত্যন্তর নেই। অথচ গত ২০১১ সালেও আমরা এমন স্থানে ছিলাম না। আন্তর্জাতিক মঞ্চে সভাসমিতি করার সময় বিশ্ব নেতৃত্ব যখন ভারতের নারী ধর্ষণের ঘটনায় বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তখন আমাদের নেতৃত্ব অস্বীকার ও অনীহা প্রকাশে বিলম্ব করেন নি। কিন্তু তখনও সময় ছিল। লন্ডনের টমশন রয়টার্স ফাউন্ডেশন ৫৫০ জন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের দ্বারা এক সমীক্ষা সম্পন্ন করে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের উপর।গত ২৬ জুন ২০১৮ প্রকাশিত সমীক্ষায় দেখা যায় বর্বরতার শিরোমণি তালিবানদের আমরা একই অমানবিক ঘৃণ্য কাজে পিছনে ফেলে দিয়েছি।সৌদি আরব আর আফগানিস্তানের তালিবানরা নারীদের বোরখা পরিয়ে তাদের সুরক্ষা দিতে চায়। ।তারা শরিয়তি আইন বলবৎ করে মনুষ্যত্ব জবাই করে।আমরাও বলি ‘মাতৃরূপেন সংস্থিতা’। কিন্তু আমরা মাতৃভক্তি দেখাই বিবেককে বলি দিয়ে। আমাদের জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরো (National Crime Records Bureau) এক তথ্যে সাবধান বাণী সামনে এনে দিয়েছিল। আমাদের দেশে প্রতিদিন ১০৬ জন মহিলা ধর্ষিত হয়। এই ধর্ষিতদের মধ্যে ১০ জনের ৪ জন নাবালিকা। এবং এই নারকীয় অপরাধের শতকরা ৯৪.৬ শতাংশ ধর্ষিতার পরিচিত। শুধু পরিচিত নয়, তাদের মধ্যে ভাই, বাবা, দাদু, পুত্র এমন পবিত্র সম্পর্কের মানুষরূপী জানোয়ার আছে। হাজার হাজার বৎসরের সভ্যতার পীঠস্থান ভারত এমন সাক্ষ্য আগে বহন করে নি।আমাদের National Crime Records Bureau চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল যে, ২০১৬ সালে ৩৮,৯৪৭ টি ধর্ষণের কেস নথিভুক্ত করা হয়েছিল Protection of Children from Sexual Offences (POCSO) এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারায়। তাদের মধ্যে ৩৬,৮৫৯ টি কেস ছিল ধর্ষিতদের পরিচিত। এমন কত অপরাধ নথিভুক্ত হয় না তার হিসাব পাওয়া প্রায় অসম্ভব। নারী নির্যাতন নারীদের দ্বারা হয় না। হয় পুরুষদের দ্বারা। ভারতের একশো তিরিশ কোটি দেশের যত সংখ্যক নারী নির্যাতনের শিকার হয় তার থেকে অনেক বেশি সংখ্যক পুরুষ নির্যাতনকারী।নিরাপরাধ নির্যাতিতা এই নারীরা যদি সমাজে ঘৃণিত হয়, তবে অপরাধকারী এই পুরুষগুলো নিশ্চয়ই আরও ঘৃণ্য। ধর্ষিতাদের ঘৃণা করতে সমাজ বিচারের মুখাপেক্ষী নয়, অথচ ধর্ষণকারী সমাজের নেতৃত্বের অধিকারী। নারীর শারীরিক নির্যাতনের বাইরে আছে আর এক নির্যাতন। তা হল মানসিক নির্যাতন ও হুমকি। রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সাংসদ, বিধায়ক এমন সব সাংবিধানিক পদের অধিকারী অনেক ব্যক্তি আছেন যারা আধুনিক ভারতের প্রগতিশীল ও সুশিক্ষিতা মহিলাদের নির্লজ্জ ভাবে প্রকাশ্যে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেন। এমন ভারত বিশ্ব আগে প্রত্যক্ষ করেনি। ভারত এমন সভ্যতার ইতিহাস তৈরি করতে চায় না। https://www.thequint.com/news/world/india-most-dangerous-country-for-women-us-third-survey



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *