#MeToo মিটু

#MeToo মিটু এখন ভারতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বহুদিন পর এমন একটি অসংগঠিত ও অরাজনৈতিক আন্দোলন ভারতজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মিটু এর কোনও আভিধানিক অর্থ নেই কিন্তু এক ব্যাখ্যা আছে। তা হল এক মহিলা বলছেন “আমিও যৌন লাঞ্ছনার শিকার”। এই বলাটা কোনও স্বগতোক্তি নয়। নির্দিষ্ট লক্ষ্যে দৃঢ় প্রত্যয়ে যৌন অভিযোগ দায়ের করা। এই অভিযোগ করার জন্য কোনও বিশেষ প্রশিক্ষণ বা প্রযুক্তি লাগে না, লাগে কেবল সুদৃঢ় মনোবল ও সাহস। মিটু এর বৈশিষ্ট্য হল ইহা চিহ্নিত ক্রিমিলানদের নয়, বরং মুখোশধারীদের মুখোশ খুলে দিতে শুরু করেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই সৃষ্টিশীল জগতে ভাইরাসের মত ছড়িয়ে পড়েছে। অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত #MeToo শুরু করলেন অভিনেতা নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে। ঘটনা দশ বৎসর আগে। কিন্তু বর্তমানে মিটু এখন ব্যক্তিবিশেষে আটকে নেই। যত বৎসর আগেই হোক না, ঘটনা মুছে যায় না। একজন নারীর প্রতি যৌন লাঞ্ছনা তার প্রতি মৃত্যু অপেক্ষা যন্ত্রণাদায়ক। সারা জীবন তাকে সে ক্ষত (trauma)বয়ে বেড়াতে হয়। তার স্বাভাবিক সমস্ত প্রতিভা অবলুপ্ত হয়ে যায়। যে পুরুষ আজ মিটু এর আঘাতে বিবৃত হচ্ছে সে তো একজন নারীর মানবিক স্বত্বাকে বিনাশ করেছে। ভারতের সিনেমা জগৎ বলিউডের অনেক তাবড় তাবড় কলাকুশলী ও কর্মকর্তা মিটুতে আক্রান্ত।সুভাষ ঘাই, নানা পাটেকর, অলোক নাথ, বিকাশ বাহল, বরুণ গ্রোভার, সাজিদ খান, ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত।অভিযুক্তদের তালিকা ক্রমশ বাড়ছে।কিন্তু সবচেয়ে বড়ো ঘটনা হল প্রিয়া রামানি ও অন্যান্য কয়েকজন মিটুতে অভিযোগ করেন ভারতের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবরের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের বিরুদ্ধে এম জে আকবর মানহানির মামলা দায়ের করেছেন। কিন্তু প্রিয়া জানিয়েছেন তিনি মামলা লড়ার জন্য প্রস্তুত।ঘটনাটি ঘটেছিল এম জে আকবর যখন এসিয়ান এজ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। প্রিয়া আমানি তাঁর সহকর্মী ছিলেন তখন। বিখ্যাত লেখক চেতন ভকতের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন ইরা ত্রিবেদী। সঙ্গীত শিল্পী বর্ষা সিং ঢোনা অভিযোগ করেছেন অপর সঙ্গীত শিল্পী কৈলাশ খের ও সঙ্গীত পরিচালক তোসি সবরি এর বিরুদ্ধে। বর্ষা তো কৈলাশ খের এর পদ্মশ্রী খেতাব কেড়ে নিতে বলেছেন। বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সেস এর এক পি এইচ ডি – র ছাত্রী মিটু এ অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁর সিনিয়রের বিরুদ্ধে। দেখা যাচ্ছে শিক্ষা সংস্কৃতি ও প্রগতির মত সমাজের উন্নততর শাখায় জঘন্যতম ঘটনা ঘটে চলেছে।অভিযোগ যৌন নির্যাতনের হলেও কিন্তু যৌন নির্যাতনের প্রকার গুলি বিভিন্ন এবং বর্বরোচিত।বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে নারী কর্মীদের প্রতি যৌন লাঞ্ছনা প্রতি নিয়ত হয়েই থাকে। কেবল সাহসের অভাবে এমন প্রতিবাদ সামনে আসেনি। আশ্চর্যের ব্যাপার হল আমাদের দেশে যে কোনও মহিলা বাড়ির বাইরে কোথাও কাজের উদ্দেশ্যে গেলে তাকে কোনও না কোনও ভাবে যৌন লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়, এমন তথ্য অক্সফাম ইন্ডিয়ার 2012 সালের তৈরি এক সমীক্ষায় দেখা গেছে। কর্ম ক্ষেত্রে নারীদের যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমাদের দেশে আইন থাকলেও তা নারীদের রক্ষা কবচ হতে পারে নি পুরুষদের কারণেই। Sexual Harassment of women at workplace (prevention, protection and redresal) Act, 2013. এই আইনে কর্মক্ষেত্রের জন্যে সুস্পষ্ট ভাবে কতকগুলি নির্দেশ জারি করা হয়েছে। 1)প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষে নারীদের প্রতি লিঙ্গ বৈষম্য আচরণ করা যাবে না। 2)নারীর প্রতি অপমান সূচক কোনও পরিস্থিতি সৃষ্টি করা চলবে না। 3)নারীর বিরুদ্ধে নিরাপত্তাহীন পরিবেশ তৈরি যাবে না। 4)নারী কর্মীকে স্পর্শ করা , যৌনতা বিষয়ে কোনও ইঙ্গিত বা শব্দ উচ্চারণ করা, যৌন সংক্রান্ত কোনও ছবি প্রদর্শন করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। মিটু এখন নারীদের সবলা হওয়ার মঞ্চ। করিশ্মা কাপুরনা, মালায়েকা আরোরা, কঙ্কনা সেনশর্মা, নন্দিতা দাস, মেঘনা গুলার, গৌরী শিন্দে, কিরণ রাও, রীমা কাগতি, জোয়া আখতার প্রভৃতি অনেকেই এই মঞ্চে ইতিমধ্যে হাজির হয়ে গেছেন। #MeToo মিটু এর মঞ্চে প্রত্যেক নারীর স্লোগান “I honor the goddess within”



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *