মানবিকতা

মানবিকতা

মুর্শিদাবাদের হরিহর পাড়ার চোঁয়া গাঁয়ে ভারতের ঠিকানা খুঁজে পাওয়া গেছে। একজন পুজারি ব্রাহ্মণ সুভাষ রায়চৌধুরী যিনি সামান্য যজমানি করে সংসার চালান তিনি স্বামী বিতাড়িত নিরাশ্রয় সাকিনাকে কন্যার ন্যায় আপন গৃহে আশ্রয় দিয়েছেন ।সাকিনা দুটি নাবালক পুত্র – কন্যা নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ফ্যাফ্যা করে ঘুরে বেড়াচ্ছে দেখে সুভাষ বাবুর বিবাহ বিচ্ছিন্না কন্যা কাকলি সমব্যথী হয়ে সাকিনাকে সন্তানসহ বাবার বাড়ি নিয়ে আসেন। সুভাষ রায়চৌধুরী সকিনাকে পরিবারের সদস্য করে নিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। ধর্মের অনুশাসন, আর্থিক অস্বচ্ছলতা, সমাজের চোখ রাঙানি সব কিছুকে তুচ্ছ করে সুভাষ রায়চৌধুরী মানবিকতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন । পূজারি ব্রাহ্মণ সুভাষ রায়চৌধুরীর শাস্ত্রীয় জ্ঞান যথার্থ মানব কল্যাণে প্রযুক্ত হয়েছে। কিন্তু সুভাষ রায়চৌধুরীর চেতনার তীব্র বৈপরীত্যে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের সমাজ। সুভাষ রায়চৌধুরীর যজমানি এখন বন্ধ হয়ে গেছে। সামান্য আয়ের একমাত্র পথ অবরুদ্ধ,কারণ সখিনার মতো একজন মুসলিম মহিলাকে ঘরে আশ্রয় দেওয়ায় সুভাষ বাবু এখন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্রাত্য। গাঁয়ের মাতব্বরদের পরিষ্কার নিদান “ভিন্ন ধর্মের মানুষকে ঘরে রেখে যজমানি হয় না।” সুভাষ বাবুর কন্যা কাকলি বিবাহ – বিচ্ছিন্না হয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে এসেছে। কিন্তু সখিনা বাবার বাড়িও নেই। সুভাষ রায়চৌধুরী এখন সখিনার বাবা।কাকলি এবং সখিনার মধ্যে কোনও তফাত নেই সুভাষ বাবুর কাছে। প্রকৃত ধর্ম যদি কোথাও থাকে তা সুভাষ রায়চৌধুরীর বাড়িতেই আছে। তাঁর স্ত্রী ইলা দেবীও সখিনাকে কন্যা বলে মেনে নিতে দ্বিধা করেননি। সখিনার সন্তান দুটিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দিয়েছেন। দায়সাড়া কোনও আশ্রয় দান নয় । আপন কন্যার মতো সখিনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সুভাষ রায়চৌধুরী। কাকলি এবং সখিনাকে যারা তাড়িয়ে দিয়েছে তারা আজ ব্রাত্য নয়, ব্রাত্য হলেন তিনি, যিনি কাকলি আর সখিনাকে বুকে করে আগলে রেখেছেন। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, “আমি সেই ধর্মে বিশ্বাস করি না, যে ধর্ম বিধবার অশ্রু মোছাতে পারে না, অথবা অনাথের মুখে একটুকরো রুটি তুলে দিতে পারে না।” সুভাষ রায়চৌধুরী বিধবার অশ্রু মোছালেন, অনাথের মুখে রুটি তুলে দিলেন কিন্তু সমাজের কিছু মানুষ সুভাষ বাবুর রুটি কেড়ে নিতে চায়।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *