মহাত্মা গান্ধী

মহাত্মা গান্ধী

(২ রা অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন। আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস)
বিগত দু হাজার বৎসরের মধ্যে কোনও ভারতীয় মানব সভ্যতার ইতিহাসে এমন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি যেমন করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী । ভারতের আর এক প্রাণপুরুষ আধ্যাত্মিক ঋষি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সঠিক ভাবে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে “মহাত্মা”বলে আখ্যায়িত করেছেন। ভারতের অপর এক বীর সন্তান অবিসংবাদী নেতা নেতাজি সুভাষ বসু তাঁকে “জাতির জনক”বলে স্বীকার করেছেন। “মহাত্মা”অথবা “জাতির জনক” নিছক দুটি আখ্যা নয়। মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে সারা ভারত সর্ব প্রথম এক সূত্রে গ্রন্থিত হয়েছিল। মহাত্মা গান্ধী সকল ভারতবাসীর সুখদুঃখ আপনার সুখদুঃখ মনে করতেন। অবহেলিত দরিদ্র সমস্ত ভারতবাসীকে আত্মীয় ভাবতেন। তিনিই সর্ব প্রথম ভারতবাসীকে মন থেকে ভীরুতা ও হীনমন্যতা দূর করতে শিখিয়েছেন। ভারতের মানুষকে বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন যে, প্রবল প্রতাপান্বিত ব্রিটিশ শাসকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার শক্তি ও সামর্থ তাদের মধ্যেও নিহিত আছে ।ব্রিটিশদের দ্বারা বিভেদ ক্লিষ্ট ভারতকে এক সুদৃঢ় আত্মচেতনায় জাগ্রত করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী।প্রতিবাদের জন্য সত্য ও অহিংসার নতুন পথ সত্যাগ্রহ দেখিয়েছিলেন তিনি ভারত তথা বিশ্বকে। মহাত্মা গান্ধী ছিলেন সত্য ও অহিংসার সাধক। তিনি হিংসার বলি হয়ে অহিংসা জয় করলেন। মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করা ছিল সহজ কাজ। তাঁর হত্যাকারী নাথুরাম গডসে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করে। এমনকি হত্যা করতে গিয়ে ভোজালি সমেত হাতেনাতে ধরাও পরে ১৯৪৪ সালে জুলাই মাসে। কিন্তু মহাত্মা তাকে ক্ষমা করে কাছে রাখতে চেয়েছিলেন। নাথুরাম পালিয়ে যায় কারণ তার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, মহাত্মার সংস্পর্শে থাকলে তার জিঘাংসা নষ্ট হয়ে যাবে । নাথুরাম গডসে কোন ভাড়াটে খুনি ছিল না। সে ছিল এক সুপরিকল্পিত হত্যাকারী।নাথুরাম গডসে ছিল কৃচ্ছ সাধনকারী ধার্মিক ব্রাহ্মণ, গীতার বাণী হামেশাই তার মুখে উচ্চারিত হত। নিজেকে বুদ্ধিজীবী মনে করত। হত্যার পক্ষে তার সুদীর্ঘ কুযুক্তি ছিল।মহাত্মা গান্ধীও ছিলেন কৃচ্ছ সাধনকারী।গীতার বাণী তিনিও মানতেন। মহাত্মা গান্ধী বিশ্বাস করতেন “রাম”ই তাঁর সহায়। তাঁর শেষ বাণী “হে রাম”। তবু তিনি নাথুরাম গডসের গুলিতে নিহত হলেন। নাথুরাম গডসে শুধু এক ব্যক্তি নয়, এক মানসিকতা। মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ এবং নাথুরাম গডসের মানসিকতা ভারতে সেদিনও ছিল। আজও আছে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *