ক্ষতিপূরণ

ক্ষতিপূরণ
‌ প্রাকৃতিক বিপর্যয় যথা বন্যা, বজ্রপাত, সাপে কাটা ইত্যাদি এবং সড়ক বা রেল দুর্ঘটনার কারণে অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটলে সরকারের পক্ষ থেকে “ক্ষতিপূরণ” ঘোষণা করা হয়। এই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রথা আমাদের দেশে চালু আছে এবং যথারীতি এই প্রথা আইন করেই চালু করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ সাধারণত ঐ সব ক্ষেত্রে দেওয়া হয় যে সব ক্ষেত্রে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্ব কিছুটা সরকারের থাকে। এই ক্ষতিপূরণটি কিছুই নয়, মৃত ব্যক্তির নিকট আত্মীয়ের হাতে কিছু টাকা হাতে ধরিয়ে দেওয়া। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বাড়ি ঘর ফসলাদি বা অন্যান্য সম্পদ নষ্ট হলে যে আর্থিক ক্ষতি পূরণ দেওয়া হয় তার একটা কৈফিয়ত খুঁজে পাওয়া যায়। প্রকৃত পক্ষে এই ক্ষতির পুরোপুরি বা আংশিক পূরণ হয়ে যায়। ক্ষতিপূরণের অর্থ হাতে পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করাও সম্ভব। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ভবিষ্যতে আবার দাঁড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।
‌ কিন্তু প্রাণহানির ক্ষেত্রে কোনটাই সম্ভব নয়। মৃত ব্যক্তির আত্মীয় যে অর্থ সাহায্য পায় তাকে কোনও ভাবেই ক্ষতিপূরণ বলা যায় না। উদাহরণ হিসাবে সাম্প্রতিক দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। গত 29 জানুয়ারি 2018 মুর্শিদাবাদের দৌলতাবাদের বালি ঘাটে 42 জনের সলিল সমাধি হয়ে গেল। প্রত্যেক মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্যে পাঁচ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হল। তার চারদিন পর 3 ফেব্রুয়ারি দুই কলেজ পড়ুয়া কলকাতার ই এম বাইপাসের চিংড়িহাটা মোড়ে বাস চাপা পড়ে মারা গেলেন। তাঁদের জন্যেও সরকার দু লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। এখন টাকার পরিমাণ যাই হোক না কেন, ক্ষতিপূরণ কিন্তু অসম্ভব। সরকারের কিছু করার নেই। নিয়ম অনুযায়ী আর্থিক সাহায্য দিয়ে পাশে দাঁড়ায়। কিন্তু ক্ষতিপূরণ হয় না। মৃত ব্যক্তির মা বাবা ক্ষতি পূরণের অর্থ হাতে পাওয়ার পর তাদের ব্যথিত হৃদয় আরও হু হু করে ওঠে। ওই অর্থ ব্যয় করা ততোধিক ভয়াবহ হয়ে দাঁড়ায় তাদের পক্ষে। অন্তত প্রাণহানির ক্ষেত্রে অর্থ সাহায্যকে সামাজিক ও প্রশাসনের তরফে ক্ষতি পূরণ বলা হলেও বাস্তবে তা নয়।
‌ মৃত ব্যক্তি চাকুরিজীবী, ছাত্র, বেকার যাই হোক না কেন মা বাবার কাছে সে অমূল্য সম্পদ। তার মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি। তাই আর্থিক সাহায্যকে ক্ষতিপূরণ বলা অমানবিক।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *