কারবালার ইতিহাস

কারবালার ইতিহাস

আবার মহরম মাস এল। হিজরি সনের প্রথম মাসের নাম মহরম। গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মহরম মাসের এক তারিখে হিজরি ১৪৪০ সন শুরু হল। হজরত মোহাম্মদ(দঃ)শত্রুদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে ১২ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে অত্যন্ত গোপনে বেদনাহত হয়ে মক্কা ত্যাগ করেন মদিনার উদ্দেশ্যে । তিনি মদিনা শহরের কুবা নামক স্থানে পৌঁছান ২৩ সেপ্টেম্বর, ৬২২ বৃহস্পতিবার। যখন হজরত মোহাম্মদ (দঃ) সেখানে পৌঁছান তখন কুবার মানুষজন আনন্দ সহকারে সঙ্গীতের মাধ্যমে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তাঁকে গ্রহণ করেন। কিন্তু এই হিজরি সন ঘোষণা করা হয় ৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রাঃ) এর সময় ।হজরত মোহাম্মদ (দঃ) এর জীবনের এই বিশেষ ঘটনার স্মরণে হিজরি সনের প্রচলন শুরু করা হয়। আরবি শব্দ ‘হিজরত’ থেকে এসেছে হিজরি শব্দ যার আভিধানিক অর্থ ভ্রমণ।যেহেতু হিজরি সন শুরু হয় ৬২২ খ্রিস্টাব্দে, সেই হিসাবে হিজরি সনের সাথে খ্রিস্টাব্দের তফাত বরাবর ৬২২ বৎসরের থাকার কথা। কিন্তু হিজরি সন চান্দ্র মাসের হিসাবে গণনা করা হয় এবং চান্দ্র মাসের হিসাবে ৩৫৪ দিনে এক বৎসর। কিন্তু সৌর বৎসর ৩৬৫ দিনে হয়, অর্থাৎ চান্দ্র বৎসর ১১ দিন কম। তাই হিজরি সনের সাথে খ্রিস্টাব্দের ব্যবধান কমতে থাকে। হিজরি নববর্ষ বিভিন্ন ভাবে পালন করা হয়। এই বৎসর লন্ডনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে পাঁচজন যুবক শিল্পীর এক কণ্ঠ- সঙ্গীতের মাধ্যমে হিজরি সনকে স্বাগত জানানো হয়।এই আরবি সঙ্গীতটি মদিনার কুবার শিল্পীরা ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে গেয়ছিলেন।
মহরম নাম শুনলে সাধারণত হিজরি সন বা আরবি মাসের নাম আমরা জানলেও আমাদের মনে অন্য এক ঘটনার কথা ভেসে আসে। তা হল কারবালার কাহিনি। । ইরাকের ইউফ্রেটিস নদীর পশ্চিম তীরে কারবালা নামক স্থানে এই করুণ ও হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটেছিল ১০ মহরম ৬১ হিজরি অর্থাৎ ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে ১০ অক্টোবর। কারবালার এই নৃশংস ঘটনা খুব স্বাভাবিকভাবেই মহরম মাসের অন্য সব কিছুকে সহজেই ছাপিয়ে যায়। হজরত মোহাম্মদ (দঃ) ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে পরলোক গমন করার পর তাঁর প্রকৃত অনুগামী এবং ভন্ড অনুগামীদের পরিচয় ধীরে ধীরে ফুটে ওঠে তাঁদের আচরণ ও কর্ম পদ্ধতির মধ্য দিয়ে। এই পরিচয়ের চূড়ান্ত পর্যায় কারবালার ঐতিহাসিক ঘটনা। মক্কা বিজয়ের সময় (৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে) হজরত মোহাম্মদ (দঃ) সকলকেই নিঃশর্ত ক্ষমা করে দেন। সে সময় মক্কার সকলেই যে ইসলাম গ্রহণ করেছিল এমন নয়। আবার যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল তাদের অনেকেই যেমন আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছিল, তেমনই অনেকে বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিল। আবু সুফিয়ান ও হিন্দার পুত্র মাবিয়াও সে সময় ইসলাম গ্রহণ করে ছিলেন। পূর্বে আবু সুফিয়ান ও হিন্দা হজরত মোহাম্মদ (দঃ) এর বিরুদ্ধে কয়েকটি যুদ্ধে অংশ করেছিলেন। মাবিয়া ছিলেন অত্যন্ত ধূর্ত ও প্রতিহিংসা পরায়ণ। মাবিয়া হজরত মোহাম্মদ (দঃ) এর জীবনের শেষ দু বৎসর মাত্র তাঁর সঙ্গ পেয়েছিলেন। পরে দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রাঃ) এর সময় ৬৩৯ খ্রিস্টাব্দে মাবিয়া সিরিয়ার গভর্নর নিযুক্ত হন। এরপর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে সমস্ত প্রকার অন্যায় ও অমানবিক পথ অবলম্বনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন মাবিয়া। তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান (রাঃ) এর সময় মাবিয়া পদ ও আর্থিক ক্ষমতাবলে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠেন। রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ ব্যক্তিগতভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে অপব্যয় করতে শুরু করেন। তৃতীয় খলিফা হজরত ওসমান (রাঃ) নৃশংসভাবে নিহত হওয়ার পর যে নৈরাজ্য শুরু হয় তার অবসান কল্পে হজরত আলি (রাঃ) চতুর্থ খলিফা মনোনীত হন। কিন্তু দাম্ভিক মাবিয়া হজরত আলি (রাঃ) কে মেনে নিতে পরেন নি। তাই হজরত আলি (রাঃ) এর বিরুদ্ধে অন্যায় যুদ্ধ ও নিকৃষ্ট ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখেন। মাবিয়া ৬৫৭ খ্রিস্টাব্দে সিফ্ফিন নামক স্থানে অন্যায়ভাবে হজরত আলি (রাঃ) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন । বহু মানুষের মৃত্যুর পর পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচতে যুদ্ধ চলাকালীন অবস্থায় কয়েকশো কোরানের কপি বর্শার ফলকে বেঁধে সন্ধি স্থাপন করে রেহাই পান । পরে ৬৬১ খ্রিস্টাব্দে হজরত আলি (রাঃ) কে গুপ্তঘাতক দ্বারা হত্যা করা হয়। মাবিয়ার হাতে হজরত আলি (রাঃ)এর পবিত্র লাশের যাতে অমর্যাদা না হয় তার জন্য তাঁর পরিবারের সদস্যগণ অত্যন্ত গোপনে তাঁকে দাফন করেন।বহু বৎসর পর ৭৯১ খ্রিস্টাব্দে আব্বাসিয় খলিফা হারুন আল রসিদের রাজত্বকালে ইরাকের নজাফ শহরে হজরত আলি (রাঃ) এর মাজার আবিষ্কৃত হয়। ৬৬১ খ্রিস্টাব্দে মাবিয়া স্বঘোষিত খলিফা নিযুক্ত হন। আমির মাবিয়া ছিলেন বহিরঙ্গের মুসলমান। নিজে ছিলেন স্বেচ্ছাচারী এবং সাধারণ মানুষকেও স্বেচ্ছাচার কাজে লিপ্ত হতে শিখিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সম্পদ বা বায়তুল মালকে আপন সম্পত্তি হিসাবে অপব্যবহার করতেন, কুকাজের জন্য উৎকোচ দিতেন।শাসক হিসাবে ইসলামে তিনি প্রথম হারেম প্রতিষ্ঠা করেন।জুম্মার খুতবার সময় আহলে বায়াতের সদস্যদের উপর কুকথা বলা বাধ্যতামূলক বলে নির্দেশ দেন মাবিয়া। তাঁকে সমর্থন না করার জন্য প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আম্মার বিন ইয়াসার ও অন্যান্য সাহাবিকে হত্যা করেন। বিশ্বাসঘাতকতার চরম নিদর্শন স্থাপন করেন ৬৭০ খ্রিস্টাব্দে। হজরত মোহাম্মদ (দঃ) এর প্রিয় জ্যেষ্ঠ দৌহিত্র হজরত হাসান (রাঃ)কে গোপনে বিষ প্রয়োগে হত্যা করে ইসলামের ইতিহাস কলঙ্কিত করেন। পরে নিজের কুলাঙ্গার মদ্যপ পুত্র এজিদকে খলিফা মনোনীত করেন।এই ভাবে ইমাম হাসান (রাঃ) এর সাথে মাবিয়ার ৬৬১ খ্রিস্টাব্দে সম্পাদিত শান্তি চুক্তির সমস্ত শর্ত লঙ্ঘন করে অসহ্য যন্ত্রণা ভোগের পর ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে ২৬ এপ্রিল নিঃসঙ্গ অবস্থায় মাবিয়া মৃত্যু মুখে পতিত হন। সভ্যতার ইতিহাসে কারবালার নিষ্ঠুরতম ঘটনার সূত্রপাত এখানে।
মাবিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর অযোগ্য মদ্যপ ও পাপাসক্ত পুত্র এজিদ ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে ৩০ বৎসর খলিফা হন। খলিফা হয়ে সর্ব প্রথম হজরত মোহাম্মদ (দঃ) এর প্রিয় কনিষ্ঠ দৌহিত্র ইমাম হোসেন (রাঃ) এর আনুগত্য দাবি করেন। কারণ তিনি জানতেন যে হজরত ইমাম হোসেন (রাঃ) এর আনুগত্য ব্যতিত ইসলাম ধ্বংস করা যাবে না ও খলিফাপদ অক্ষুন্ন রাখা যাবে না। হজরত ইমাম হোসেন (রাঃ) ছিলেন ন্যায় ও সত্যের প্রতীক। হজরত মোহাম্মদ (দঃ) এর গুণ ও কোরানের প্রকৃত শিক্ষার ধারক ছিলেন হজরত ইমাম হোসেন (রাঃ)। রাজধানী দামেস্ক থেকে মদিনার গভর্নরের কাছে লিখিত চিঠি পাঠিয়ে এজিদ নির্দেশ দেন , হজরত ইমাম হোসেন (রাঃ)কে এজিদের কাছে বায়াত (আনুগত্য) গ্রহণ করাতে যেন বাধ্য করা হয় , অন্যথায় ইমামের মস্তক এনে দেওয়া হয় । হজরত ইমাম হোসেন (রাঃ) অন্যায় ও মিথ্যার কাছে সত্য ও ন্যায় বিসর্জন দিতে অস্বীকার করলেন, মিথ্যা অপেক্ষা মৃত্যুকে শ্রেয় জ্ঞান করলেন।তাই মদিনাকে হিংসামুক্ত রাখতে তিনি প্রিয় নানাজী হজরত মোহাম্মদ (দঃ) রওজা মোবারক, তারপর ভাই হজরত ইমাম হাসান (রাঃ) এর রওজা মোবারক এবং সর্বশেষ মা হজরত ফাতেমা (রাঃ) রওজা মোবারক জিয়ারত করে সপরিবার মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন।
এই সময়ের মধ্যে ইরাকের কুফা শহরের জনগণের কাছ হতে প্রায় বারো শত চিঠি হজরত ইমাম হোসেন (রাঃ) এর কাছে আসে তাঁকে কুফায় আমন্ত্রণ জানিয়ে।অত্যাচারিত কুফার মানুষ তাঁর সাহায্য ও সহযোগিতা প্রার্থী। কুফার মানুষের ডাকে সাড়া দেওয়া তিনি কর্তব্য ও দায়িত্ব মনে করলেন। উল্লেখ্য যে এই কুফা শহর ছিল হজরত আলি (রাঃ) এর খেলাফত কালের রাজধানী।মদিনা থেকে মক্কা পৌঁছালেন। জিলহজ মাসে মক্কায় হজের সময় যখন হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়েছেন সেই সময় তিনি মক্কা ত্যাগ করে কুফার পথে পাড়ি দিলেন জিলহজ মাসের আট তারিখে, ১০ সেপ্টেম্বর ৬৮০ খ্রিস্টাব্দ। মক্কায় তিনি বুঝতে পারলেন যে, পবিত্র স্থানে ও বিশেষ সময়ে এজিদের ষড়যন্ত্রকারীরা আর এক নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে তাঁকে ঘিরে। সুদীর্ঘ এগারো শত মাইল পথ অতিক্রম করে যখন কুফা হতে মাত্র পঁচিশ মাইল দূরে তখন এজিদের সৈন্য বাহিনী ইমামের পথ অবরোধ করে ঘিরে ফেলে। ইউফ্রেটিস নদীর পশ্চিম তীরে এই স্থানের নাম কারবালা। ধূধূ এই মরুপ্রান্তরে ইমাম তাঁর তাবু স্থাপন করেন। তাঁর তাবু এমন ভাবে সশস্ত্র বাহিনী ঘিরে রেখেছে যে, স্বচ্ছ জলের স্রোত নদীতে বয়ে যেতে দেখলেও পিপাসার একবিন্দু জলও গ্রহণ করতে দেওয়া হল না। হজরত ইমাম হোসেন (রাঃ) সৈন্যদের উদ্দেশ্য কাতর প্রার্থনা করলেন, “তোমরা নদী তীর বন্ধ করো না। আমরা সকলেই অত্যন্ত পিপাসার্ত।অন্তত শিশুদের পানের জন্য কিছু জল দাও।” কিন্তু না, এক বিন্দু জলও দেওয়া হয় নি। ইমাম যত আকুতি মিনতি করেছেন এজিদের দল তত অট্টহাসি হেসেছে।জলের পরিবর্তে এজিদের বশ্যতা স্বীকার করতে বলা হয় ইমামকে। কিন্তু ইমাম তাঁর আদর্শে অবিচল। সত্যের বিনিময় সত্য ছাড়া কিছু নয়। তিন দিন অবরুদ্ধ থাকার পর ৬৮০ খ্রিস্টাব্দের ১০ অক্টোবর, ১০ মহরম সেই চরমতম সময় উপস্থিত। এজিদ বাহিনীর অগণিত তির ধেয়ে আসতে থাকল। অসম এই যুদ্ধে ছয় মাসের শিশুপুত্র সহ একে একে প্রায় সকল পুরুষ মানুষ শহিদ হলেন। এবার হজরত ইমাম হোসেন (রাঃ) একা যুদ্ধ প্রান্তরে দাঁড়িয়ে আছেন।শত্রু শিবির নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। এবার তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, “কেন আমাকে হত্যা করতে চাও তোমরা? আমি কি কোনও পাপ বা অপরাধ করেছি?” কোনও উত্তর না পেয়ে তিনি আবার বললেন, “আমাদের সাহায্য করার মত কি তোমাদের মাঝে একজনও নাই?” সব শেষে তিনি সেই চির করুণ কথাটি উচ্চারণ করলেন, “তোমাদের মাঝে কি একজন মুসলমানও নাই?” এজিদের দলে সবাই মুসলমান বলে দাবি করত কিন্তু সেদিন আর দাবি করার মত একজনও ছিল না ।প্রকৃতপক্ষে একজনও মুসলমান ছিল না। হজরত ইমাম হোসেন (রাঃ) সেদিন কারবালার প্রান্তরে সত্য মিথ্যা চিহ্নিত করে দিলেন। তিনি বুঝিয়ে দিলেন যারা তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে ছিল তারা সবাই ছিল নকল মুসলমান।এবার ঝাঁকে ঝাঁকে তির নিক্ষিপ্ত হতে থাকল তাঁর দিকে। এক সময় তিনি ভূপতিত হলেন। এবার তাঁর শিরশ্ছেদ করা হয়।সমগ্র আকাশ বাতাস যেন ভারি হয়ে যায়। কিন্তু এখানেই এজিদ বাহিনীর নিষ্ঠুরতা শেষ হয় নি। তাঁকে শিরশ্ছেদ করার পর তাঁর পবিত্র দেহ বিবস্ত্র করা হয়। তারপর দশজন অশ্বারোহী সেই দেহ মোবারক দলিত মথিত ও পিষ্ট করে। এরপর ইমামের পরিবারের মহিলা সদস্যদের মাঝে সমস্ত শহিদদের মস্তকগুলি বর্শায় বিদ্ধ করে শূন্যে তুলে দামেস্কের পথে যাত্রা করে এজিদ বাহিনী। ইমামের পরিবারের মহিলা সদস্যদের হিজাব ও ওড়না খুলে ফেলা হয়।প্রদর্শনীর মতো রাস্তা বরাবর কুফা হয়ে পরিশেষে দামেস্ক শহরে এজিদের দরবারে তাঁদের হাজির করা হয় তাঁদের। সেখানে এজিদ ছড়ির দ্বারা হজরত ইমাম হোসেন (রাঃ) এর পবিত্র মস্তকে আঘাত করেন। এই সময় তিনি বদর ও ওহুদ যুদ্ধের প্রতিশোধের কথা উচ্চারণ করেন। কারবালার প্রান্তরে সেদিন হজরত ইমাম হোসেন (রাঃ) শহিদ হয়ে সত্য ও ন্যায়কে উচ্চ মর্যাদায় আসীন করে অমর হয়ে গেলেন।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *