দলিত

দলিত শব্দটি পদদলিত শব্দের খণ্ডিত রূপ হলেও অর্থে এর ব্যাপ্তি ভারত জুড়ে।ভারত জুড়েই বা বলি কেন? এখন বিশ্ব জুড়ে। কারন দলিত শব্দটি (DALIT) এখন ইংরেজি ভাষায় জায়গা করে নিয়েছে। দলিতের ব্যবহারিক অর্থ এখন অষ্পৃশ্য বা ঘৃণ্য। যা ঘৃণ্য তা ত্যজ্য। কিন্তু এই দলিত শব্দটি যে মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে তা ভাবতে অবাক লাগে। এ এক লজ্জা। ভারতের কুড়ি কোটি মানুষের জন্ম যেন কেবল ঘৃণার জৈবিক রূপ দেওয়ার জন্যই। তারা যেন বিধির অলঙ্ঘিত ঘৃণিত হওয়ার ভাগ্য লিপি নিয়ে ভারতের মাটিতে ভেসে এসেছে। মানুষকে “দলিত” বলে অভিহিত করলে মানুষকে যে চরম অপমান করা হয় তা আর মনে করা হয় না। কিন্তু ভোট বড়ো বালাই তাই মাঝে মাঝে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে দলিতদের জন্যে দরদ উথলে ওঠে। গত 15.4.2018 তারিখে সারা ভারতে আম্বেদকরের জন্মদিন পালন উপলক্ষে রাজনৈতিক দলগুলি অনুষ্ঠানের প্রতিযোগিতা করে। আম্বেদকর আজও দলিতদের নেতা (icon)। জাতীয় নেতা তাঁর জীবদ্দশায় হতে পারেন নি। আজও জাতীয় নেতার মর্যাদা পান না। সেই 1932 সালে মহাত্মা গান্ধীর সাথে “পুনা চুক্তি” স্বাক্ষর করার সময় গান্ধীজির সাথে রাজেন্দ্র প্রসাদ ছিলেন। অপরপক্ষে আম্বেদকরের সাথে কয়েকজন “দলিত” সম্প্রদায়ের স্বেচ্ছাসেবী ছিলেন। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরিত হবার পর সকলেই যখন সে স্থান ত্যাগ করলেন তখন ঘড়া ঘড়া জল ঢেলে সে স্থান পবিত্র করা হয়, কারণ “অস্পৃশ্যদের” ছোঁয়ায় তা অপবিত্র হয়ে গিয়েছিল। জগজীবন রাম ছিলেন এক জন দক্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি এক সময় ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ছিলেন (1977-1978)।তিনি লক্ষনৌ শহরে সম্পূর্ণানন্দ এর মূর্তি উন্মোচন করার জন্য আমন্ত্রিত হন। উন্মোচন করে চলে আসার পর স্থানীয় পুরোহিত বৃন্দ সাথে সাথে গঙ্গা জল দিয়ে মূর্তিটির শুদ্ধিকরণ করেন। জিতেন রাম মাঁঝি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী থাকা কালীন মধুবনীর এক মন্দির পরিদর্শন করেন। কিন্তু তিনি চলে আসার পর মন্দিরের পুরোহিতগণ মন্দিরের শুদ্ধিকরণ করেন। দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী,যার হাতে দেশ রক্ষার ভার, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যার হাতে রাজ্যের উন্নয়নের দায়িত্ব তাঁদের স্পর্শ অপবিত্র। ভীমরাও রামজি আম্বেদকর, জগজীবন রাম, জিতেন রাম মাঁঝি, প্রত্যেকের নামে “রাম” আছে। তবু তাঁরা অপবিত্র কারণ তাঁরা জন্মে “দলিত”। ভারতের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো এর এক প্রতিবেদনে দেখা যায় “দলিত” সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচার উর্ধমুখী। গত 2016 সালে ভারতে দলিত খুন হয়েছে 786 জন। মারাত্মক আহতদের সংখ্যা 1070 জন, মহিলা নির্যাতনের সংখ্যা 1268 জন এবং ধর্ষিত হয়েছে 2536 জন মহিলা। ভারতের দলিত নির্যাতনের সংখ্যা বিজেপি শাসিত রাজ্য গুলিতে বেশি। (http://www.thecitizen.in/index.php/en/NewsDetail/index/2/13425/It-is-Now-Official-BJP-Ruled-States-Outdo-Others-in-Crime-against-Dalits) ।
গত 20.3.2018 ভারতের সুপ্রিম কোর্ট SC /St (Prevention of atrocities) Act এর উপর এক রায় দেন যার ফলে দেশ ব্যাপি দলিতসম্প্রদায় বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এই রায়ে দেখা যায় দলিতদের উপর অত্যাচার হলে যদি অভিযোগ দায়ের করা হয় তবে প্রাথমিক তদন্ত ও সাক্ষী প্রমাণ ছাড়া পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে না। The Supreme Court on March 20, 2018, decided that there are limitations regarding arrests in cases registered under the Schedules Castes and Scheduled Tribes (Prevention of Atrocities) Act, 1989. It also ruled that “there is no absolute bar against grant of anticipatory bail in cases under the Atrocities Act if no prima facie case is made out or where on judicial scrutiny the complaint is found to be prima facie mala fide.”
ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম যে সুপ্রিম কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে মানুষ পথে নেমেছে। এর আগে কোনও অশান্তি হলে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করতেন। এখন যেন সব উল্টো। তবে এ কথা আজও সত্য যে আইন যাই থাকুক, সমাজ অস্পৃশ্যতার সংস্কৃতি সহজে ত্যাগ করার জন্য প্রস্তুত নয়।
গুজরাটের ভবনগরের কাছে এক গ্রামে প্রদীপ রাঠোর ঘোড়ায় চড়ে যাতায়াত শুরু করলে উচ্চ বর্ণের মর্যাদা হানী হয়। নিষেধ না শোনার কারণে ঘোড়া সমেত তাকে হত্যা করা হয় এই এপ্রিল মাসেই। এই মাসই আম্বেদকরের জন্ম মাস।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *