ডাক্তারি ধর্মঘট

ডাক্তারি ধর্মঘট

এ এক অভূতপূর্ব অপ্রাকৃতিক বিপর্যয় সারা বাংলা জুড়ে(১১ জুন ২০১৯-১৭ জুন ২০১৯ ) । প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে যেমন মূলত হতদরিদ্র সহায় সম্বলহীন মানুষগুলি ধনে প্রাণে মারা যায় তেমনই পশ্চিম বাংলার বর্তমান স্বাস্থ্য বিপর্যয়ে সেই দরিদ্র মানুষগুলি করুণার পাত্র হয়ে হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে মাথা ঠুকে ঘুরছে এবং প্রকৃতপক্ষেই প্রাণে মারা যাচ্ছে। অথচ তারা জানে না তাদের কী অপরাধ। কিন্তু এটা নিশ্চিত যে ধনী ও বিশেষ সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের সামান্যতম চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য পরিষেবা পেতে কোনও অসুবিধা নেই বাংলার কোনও প্রান্তে এই বিপর্যয়ের মধ্যেও। ডাক্তারদের উপর আক্রমণ কোনও ভাবেই কেউ সমর্থন করে না বরং সমাজের সমস্ত স্তর হতে তীব্র ভাষায় ধিক্কার জানায় ও প্রতিবাদ করে।এনআরএস ক্ষেত্রেও সমস্ত মানুষ তীব্র প্রতিবাদ করছে , আহত ডাক্তারের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে। এই ঘটনায় প্রশাসন ও আইন বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে । কিন্তু বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য পরিষেবা ভেঙে পড়েছে।ধর্মঘটের পক্ষে ডাক্তারদের যুক্তিতর্ক ও দাবি দাওয়া, এবং প্রশাসনের তৎপরতা ও পদক্ষেপ গ্রহণ যতই বুদ্ধিদীপ্ত ও আইনসিদ্ধ হোক না কেন মানবিক মূল্যবোধ বলে কিছু নেই। বিশেষ মানবিক গুণ সম্পন্ন বহু সুচিকিৎসক যাঁরা মানুষের সেবায় উৎসর্গীকৃত প্রাণ, যাঁদের সামান্য কথায় মুমূর্ষু রোগী প্রাণের আশ্বাস পায়, রোগী সুস্থ হয়ে যাঁদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকে,এমন এক দুঃসময়ে তাঁদের সামনে এগিয়ে আসা আজ একান্ত প্রয়োজন। এমন দুর্ভাগ্যজনক সঙ্কটকাল কল্পনায় আসে না। ডাক্তার ও প্রশাসন কোনও পক্ষেরই সুতীক্ষ্ণ যুক্তি বিনা চিকিৎসায় মৃত ব্যক্তির কোনও কল্যাণে আসবে না।এমনিতেই বিত্তবান ও প্রভাবশালী পশ্চিম বাংলার মানুষ চিকিৎসার জন্যে রাজ্যের বাইরে বা দেশের বাইরে যান। পশ্চিম বাংলার হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যে হত্যা দিয়ে পড়ে থাকে দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষ। তাদের চিকিৎসার দরজা আজ বন্ধ। ধর্মঘট মিটে যাবে, অচল অবস্থা দূর হবে।কিন্তু বিনা চিকিৎসায় মৃত ব্যক্তিদের আত্মীয় পরিজনের দুঃখ দূর হবে না, তাদের ক্ষতি অপূরণীয় থেকে যাবে। সকল পক্ষ জিদ ছাড়ুন। জিদের কাছে প্রাণও তুচ্ছ ।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *