কংগ্রেসের জয়

কংগ্রেসের জয়

সাম্প্রতিক পাঁচটি বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে(11.12.2018) রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞগণ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর আলোকপাত করেছেন তথ্য ও ফলাফল বিশ্লেষণ করে। তাঁদের মতামতে বৈচিত্র্য থাকলেও সাধারণ একটি চিত্র পরিষ্ফুটিত হয়ে উঠেছে। তা হল রাজনীতির নামে ধর্মভিত্তিক বিভাজন মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। অবশ্য ধর্ম নিয়ে যারা রাজনীতি করে তাদের অন্য কোনও চিন্তা মস্তিষ্কে স্থান পায় না। তাই ধর্ম ছাড়া তাদের গীত নেই। রাজস্থান, তেলেঙ্গনা, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড় এই চার রাজ্যের জন্য বিজেপির অন্যতম প্রধান প্রচাকর ছিলেন উত্তর প্রদেশের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ।তিনি মধ্যপ্রদেশের এক নির্বাচনী সভায় কংগ্রেসকে তাছিল্যকরে বলেন, “কমলনাথ জি, আপকো ইয়ে আলি মোবারক, হামারে লিয়ে বজরংবলী পর্যাপ্ত্ হোগা”। মধ্যপ্রদেশের জনগণ এই প্রবচনের কোনও প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে পায়নি। তিনি এই চার রাজ্যে রেকর্ড সংখ্যক জনসভা করেছেন। মোট 74 টি প্রচার সভা যোগীজি একাই করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহর জনসভা তুলনায় কম হলেও বক্তব্য তাঁদের একই তাল ও লয়ে বাঁধা । তাঁদের ভাষণের অধিকাংশ কেবল বিভেদ, ঘৃণা ও ধর্মবিদ্বেষে পূর্ণ। তেলেঙ্গনায় যোগীজি বলে এলেন হায়দরাবাদ শহরের নাম পরিবর্তন করে দেওয়া হবে নির্বাচনে জয়লাভ করলে। রাজস্থানে নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ এক গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করতে বজরংবলীকে তপসিল সম্প্রদায়ভুক্ত করে দিয়ে এক সামাজিক বিভাজন সৃষ্টি করে দিলেন । প্রকৃতপক্ষে জাতপাত ছাড়া যাদের আর কোনও এজেন্ডা নেই তাদের এমন ভাষণ ছাড়া উপায়ও নেই। পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে মধ্যপ্রদেশে জনসংখ্যার হিন্দু 91%, মুসলিম 7%,অন্যান্য এক শতাংশেরও কম। ছত্তিশগড়ে হিন্দু 93 %, মুসলিম 2%,খ্রিস্টান 2%,অন্যান্য এক শতাংশেরও কম। রাজস্থানে হিন্দু 88%,মুসলিম 9%,শিখ 1%,অন্যান্য এক শতাংশেরও কম। তেলেঙ্গনায় হিন্দু 85 %, মুসলিম 13%,খ্রিস্টান 1%,অন্যান্য এক শতাংশেরও কম। মিজোরামের চিত্র অন্য প্রকার। এখানে খ্রিস্টান 87%,বৌদ্ধ 8%,হিন্দু 2%এবং মুসলিম 1% মাত্র। মিজোরাম ছাড়া অন্য চারটি রাজ্যে অহিন্দু ভোটারদের দ্বারা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করা গাণিতিক ভাবে অসম্ভব। সাধারণ জনগণ অশিক্ষা, দারিদ্র্য, বেকারত্বে যেখানে অভিশপ্ত সেখানে মন্দির মসজিদ হাস্যকর। এ চিত্র শুধু এই চারটি রাজ্যেই নয়, এ চিত্র সমগ্র দেশের।তাই জীবনের যা অপরিহার্য জনগণ সেই বিষয়ে আগ্রহী। ধর্মীয় ভাবাবেগে তাড়িত না হয়ে তাই চাষি আত্মহত্যার পথ থেকে মুক্তি খুঁজতে ব্যস্ত, বেকার যুবক কর্মসংস্থানের আশায় যৌবনের দ্বার প্রান্তে আজ মরিয়া। ক্ষুদ্র শিল্পের মালিকেরা আজ ঝাপ বন্ধ করে দিশাহারা। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিদেশ ভ্রমণে যেমন অল্প সময়ে রেকর্ড করেছেন তেমন ‘মন কি বাত’এ আপন খেয়ালে নিজের মনের কথা বলে চলেছেন। শুনেছেন কম।দেখেছেন আরও কম। সাধারণ মানুষের মনের কথা আদৌ শোনার অবসর হয়নি। তবে ভাষণদানে সুপটু হলেও কিছু কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে “নীরব”তা পালন করেছেন লক্ষ্যনীয় ভাবে । দেশ বিদেশে পছন্দের সাংবাদিকগণ সাথে থাকলেও সাংবাদিক বৈঠক করে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার সাহস দেখাতে পারেননি তাঁর প্রধানমন্ত্রীত্বের চার বছরে। গণতন্ত্রের সরণিতে দাঁড়িয়ে থেকে গণের কথা না শুনলে খেসারত সকলকেই দিতে হয়। নতুনত্ব কিছু নেই।কিন্তু গদির খেসারত বড়ো কথা নয়, দেশকে পিছিয়ে দেওয়ার খেসারত অনাবিষ্কৃত আজও।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *