সেলুলার জেল

সেলুলার জেল

আন্দামানে সেলুলার জেলের সামনে গাড়ি হতে নামার সাথে সাথে ‘সেলুলার জেল’ লেখাটি যখন চোখে পড়ল তখন আমার শরীরের সমস্ত রক্ত আবেগের ধারা হয়ে প্রবাহিত হতে লাগলো । এ আমার ভ্রমণ করতে আসা নয়, পবিত্র ভূমি দর্শন ও স্পর্শ করে ধন্য হতে আসা। আপন মাতৃভূমিকে ভালোবাসার অপরাধে যাঁরা এখানে নিষ্ঠুরতম অত্যাচারে সর্বোত্তম ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন সেই মহান আত্মাদের স্মৃতি বিজড়িত এ সেলুলার জেল। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ইংরেজরা ভারতের দেশপ্রেমিক স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উপর যে পাশবিক অত্যাচার করেছিল এই সেলুলার জেল তার জীবন্ত সাক্ষী ।ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এই আন্দামান দ্বীপ ও তার সেলুলার জেলে রচিত হয়। সিপাহি বিদ্রোহের (১৮৫৭)পর থেকে ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জনের আগে পর্যন্ত আন্দামান ছিল ভারতীয়দের জন্য এক অপার্থিব নরক, যা ইংরেজদের দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল।সিপাহি বিদ্রোহে ভারতীয়দের পরাজয়ের পর শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ কে বন্দি করে রেঙ্গুন পাঠানো হয়।সেখানে ক্যাপ্টেন নেলসন ডেভিডের বাস ভবনের ছোট্ট গ্যারেজে দড়ির খাটিয়ায় তাঁকে শুতে দেওয়া হত। তার আগে তাঁর সন্তানদের গলা কেটে হত্যা করা হয়। অন্যান্য বিদ্রোহীদের প্রকাশ্য হত্যা করে দিল্লির গাছে ও টেলিগ্রাফের খুঁটিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হত। অথবা কামানের সামনে বেঁধে গোলা দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হত। দেশের মধ্যে এমন মৃত্যুদৃশ্য ভারতীয়দের মনে আর এক ভয়ঙ্কর প্রতিক্রিয়া হবে এই আশঙ্কায় ইংরেজরা সিদ্ধান্ত নিল যে, বিদ্রোহী ভারতীয়দের আন্দামানের মতো বিচ্ছিন্ন দুর্গম দ্বীপে স্থানান্তরিত করা হবে।১৮৫৮ সালের ১০ মার্চ ২০০ জন বিদ্রোহীদের নিয়ে মহারাজ নামের একটি জাহাজ আন্দামানে আসে।তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় দ্বীপের জঙ্গলে। পরে আরও বিদ্রোহীদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আনন্দামানের বিভিন্ন দ্বীপে ছেড়ে দেওয়া হয় ।প্রত্যেক বিপ্লবীকে জাহাজে শিকল পরিয়ে আনা হত।তারপর নিরাশ্রয়, অভুক্ত ভারতীয়দের গভীর জঙ্গলে হিংস্র জন্তু জানোয়ার সাথে অনিবার্য মৃত্যুর মুখোমুখি নিক্ষেপ করে শাস্তি দেওয়া হত। অনেকেই সমুদ্রের জলে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করতেন । কিন্তু কোনওদিন কেউ বাঁচতে পারেন নি। হাঙরের আক্রমণে অথবা সামুদ্রিক উচ্ছ্বাসে প্রাণ ত্যাগ করতেন।ম্যালেরিয়া, কলেরা, প্লেগ ইত্যাদি মহামারি রোগে অসংখ্য বিদ্রোহী মারা যেতেন। এখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও ছিল অপরাধ। ১৮৬৮ সালের মার্চ মাসে ২৩৮ জন বন্দি পালিয়ে যাবার সময় ধরা পড়েন। জেলার ওয়াকারের আদেশে ৮৭ জনকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়।হত্যার পর প্রত্যেক শহিদের লাশ অপমানজনক ভাবে সমুদ্রের জলে নিক্ষেপ করা হয় । ১৮৭২ সালে বড়োলাট লর্ড মেয়ো আন্দামান পরিদর্শনে আসেন। সুযোগ বুঝে বন্দি শের আলি লর্ড মেয়োকে হত্যা করেন। ১৮৭২ সালে ৮ ফেব্রুয়ারি শের আলি ফাঁসির দড়ি গলায় পরে শহিদ হন। পোর্ট ব্লেয়ারের পাশে ভাইপার দ্বীপের জেলে এই ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ভাইপার দ্বীপের কারাগারটি আন্দামানের প্রথম কারাগার যা ১৮৫৮ সালে নির্মিত হয়। ভাইপার দ্বীপের কারাগারের ধ্বংসাবশেষ ও ফাঁসি ঘরের কাঠামোটি আজও দাঁড়িয়ে আছে বীভৎসতার প্রতীক হিসাবে। ১৯০৬ সালে সেলুলার জেল নির্মিত হওয়ার পর ভাইপার কারাগার পরিত্যক্ত হয়। আন্দামানের মাটিতে সেলুলার জেলের সামনে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে এলো। ছাত্রাবস্থায় পঠিত ইতিহাস সেলুলার জেলকে আমার কল্পনায় যে রূপ দিয়েছিল, যা এতদিন লালন করে এসেছি মনের গভীরে, তা আজ বাস্তবে উদ্ভাসিত। তবে আমার কল্পনার সাথে বাস্তবের তফাত অনেক।মানুষের প্রতি মানুষের অকল্পনীয় সমস্ত নিষ্ঠুরতা সেলুলার জেলের স্থাপত্যশৈলীকে চিরকালের জন্য চাপা দিয়ে রেখেছে। সেলুলার (cellular) শব্দের আভিধানিক অর্থ অতি ক্ষুদ্র ও একক কক্ষ। এই কারাগারের ৬৯৮ টি এমন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কক্ষ নিয়ে তৈরি করা হয় মোট সাতটি বড়ো বড়ো বিল্ডিং । প্রতিটি বিল্ডিং তিন তলা। এই সাতটি বিল্ডিং এর প্রতিটি বিল্ডিং একটি কেন্দ্রীয় সুউচ্চ গোল টাওয়ারের সাথে যুক্ত। অর্থাৎ ঐ সুউচ্চ টাওয়ার থেকে সাতটি তিনতলা বিল্ডিং শাখার মতো বেরিয়ে এসেছে। বর্তমানে তিনটি শাখা আছে বাকি চারটি শাখার স্থলে গড়ে উঠেছে একটি বড়ো হাসপাতাল। কেন্দ্রীয় টাওয়ারের উপর থেকে সাতটি তিনতলা বিল্ডিং এর উপর সশস্ত্র প্রহরী নজর রাখত চব্বিশ ঘণ্টা। ৬৯৮ টি সেলের প্রত্যেক সেলে একজন করে বন্দি রাখা হত ।সেলগুলি এমন ভাবে তৈরি যে ৬৯৮টি সেলের কোনও বন্দি আর একজন বন্দিকে দেখতে পাবে না। প্রত্যেকটি সেলের আয়তন তেরো ফুট লম্বা, ছ ফুট চওড়া এবং দশ ফুট উঁচু।পিছনের দেওয়ালে একটি ৩’×২’ শক্ত লোহার রডের ঘুলঘুলি ।সেলের দরজাটি খুব মোটা মোটা লোহার রড দিয়ে তৈরি। দরজাটি বাইরে থেকে বন্ধ করার এমন ব্যবস্থা যাতে কয়েদি ভিতর থেকে হাত বাড়িয়ে হ্যাসবোল্ট বা তালাটি ছুঁতেও না পারে । প্রত্যেকটি সেল দেখে মনে হবে পৃথিবীর সমস্ত কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন করে তিল তিল করে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নিঃশব্দ মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য তৈরি। বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের ফলে হয় মারা গেছেন , অথবা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন, অথবা উন্মাদ হয়ে গেছেন। । বেশ কয়েকটি সেলের ভিতর ঢুকে বসে মেঝে স্পর্শ করেছি কিন্তু ভিতরে ঢোকার সাথে প্রতিবারই গা ছমছম করে উঠেছে ।কেবল মনে হয়েছে এখানে এক সময় কোনও এক মহান দেশপ্রেমিক আমাদের স্বাধীনতার জন্য অবরুদ্ধ হয়ে হাসিমুখে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করে গেছেন। এই সেলের ভিতর তাঁকে দুটি মাত্র ছোটবড়ো মাটির পাত্র দেওয়া হত , একটি পায়খানা করার জন্য, অপরটিতে দেওয়া হত সামান্য জল। সেই পাত্র তাঁকেই পরিষ্কার করতে হত। অনেক সময় সেই সেলের মধ্যেই মেঝেতে মল মূত্র ত্যাগ করতে বাধ্য হতেন। সেই অবস্থায় সেখানেই ঘুমাতে হত। খাদ্যের মধ্যে থাকত পোকা ধরা চালের অল্প ভাত ও বেশি মাড়। বনের গুল্ম পাতা সিদ্ধ করে দেওয়া হত কখনও কখনও খাবার হিসাবে। দুর্গন্ধময় আটার শুকনো পোড়া রুটি দেওয়া হত মাঝে মধ্যে। সেলের মধ্যে আলো বাতাসের কোনও ব্যবস্থা নাই। সন্ধ্যার পর নেমে আসত নিকষ কালো অন্ধকার। সঙ্গী বলতে মশা ও বনের নানা রকম পোকা মাকড়। অন্য এক সেলে ঢুকে মনে হল, হয়তো এই সেলে উল্লাস করদত্তকে আটকে রেখে পাশবিক অত্যাচার করে ১০৪ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে তিনি দিন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষিত সদাহাস্য উল্লাস করদত্ত দেশপ্রেমের অপরাধে এই ভাবে পাশবিক নির্যাতনে উন্মাদ হয়ে গিয়েছিলেন। প্রত্যেকটি সেল একই রকম এবং একই মাপের হলেও মনে হচ্ছিল প্রত্যেকটি সেল যেন পৃথক পৃথক ঘটনার সাক্ষী। প্রত্যেকটি সেলের ইট পাথর যেন নিজের স্বতন্ত্র কাহিনি বলতে চায়। আর একটি সেল দেখে মনে হল এখানেই বোধহয় বিপ্লবী মহাবীর সিংহকে অনশন করার অপরাধে জোর করে নাক দিয়ে নল ঢুকিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়। অনশনে অনড় মহাবীর মুখ বন্ধ করে রাখেন। তখন নাকের ভিতর দিয়ে নল ঢুকিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়।কিন্তু ফুসফুসে খাবার ঢুকে অসহ্য যন্ত্রণায় শহিদ হয়ে যান। এই সংবাদে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ধ্বনি দিয়ে বহু বিপ্লবী সোচ্চার হয়ে ওঠেন ।একই ভাবে মোহন কিশোর ও মোহিত মিত্রকে হত্যা করা হয়। তারপর তাঁদের লাশ গুলিকে পাথর বেঁধে সমুদ্রের গভীর জলে নিক্ষেপ করা হয়। জেলের মধ্যে অত্যাচারের বিরুদ্ধে বন্দিরা প্রথম অনশন করেন ১৯৩৩ সালের ১২ মে। শেষ হয় ২৬ জুন। অনশনের ষষ্ঠ দিন হতে বন্দিদের জোরপূর্বক খাওয়ানো শুরু হয়। এর ফলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।
বন্দিদের হাতে লোহার বেড়ি পরিয়ে সেলের বাইরে আনা হত কঠোর নির্যাতনের জন্য। কখনও কখনও গলায় শিকল পেরিয়ে আনা হত। বিভিন্ন বন্দিকে বিভিন্ন রকমের কঠোর পরিশ্রমের কাজ দিয়ে শাস্তি দেওয়া হত। কোনও বন্দিকে প্রতিদিন পঁচিশ কেজি নারকেল তেল তৈরি করার কোটা দেওয়া হত, কোনও বন্দিকে সর্ষের তেল তৈরি করতে হত সারাদিন বলদের মতো ঘানি টেনে, কোনও বন্দিকে নারকেলের ছোবড়া ছাড়িয়ে পেঁজাতে হত। কাজের সময় সামান্যতম অবহেলা বা শৈথিল্য দেখালে সাথে সাথে পিঠে চাবুক মারা হত। প্রস্রাব পায়খানার বেগ পেলে তা চেপে রাখতে হত যতক্ষণ না অনুমতি পায় ততক্ষণ পর্যন্ত। ।বন্দিদের প্রতি অত্যাচার করা হত কেবল স্বাধীনতা সংগ্রামী বলে নয়, ভারতীয়দের ইংরেজরা মানুষ বলেই গণ্য করত না। সেলুলার জেলের সব বন্দিই শ্রদ্ধেয়।সেলুলার জেলের দোতলায় তেরোটি ফলকে খোদিত আছে ৩৩৬ জন বিপ্লবীর নাম। তবু যাঁরা নেতৃত্বে ছিলেন তাঁদের কয়েক জনের নাম এখানে উল্লেখ করা আছে :দিওয়ান সিংহ, ফজলে হক খয়রাবাদি, যোগেন্দ্র শুক্লা, বটুকেশ্বর দত্ত, মাওলানা আহমাদুল্লাহ, মাওলানা আব্দুর রহিম সাদিকপুরি, মৌলভি লিয়াকত আলি, বাবারাও সাভারক, বিনায়ক সাভারক, সচীন্দ্রনাথ সান্যাল, ভাই পরমানন্দ, সাদন চন্দ্র চ্যাটার্জি, সোহন সিংহ, সুবোধ রায়, বামনরাও যোশী, নন্দ গোপাল, বীরেন্দ্র কুমার ঘোষ, উপেন্দরনাথ ব্যানার্জি, বীরেন্দ্র চন্দ্র সেন, জতিশ চন্দ্র পাল ।
উপেন্দরনাথ ব্যানার্জি তাঁর ‘নির্বাসিতের আত্মকথা’ য় লিখেছেন, “জেলে ঢুকে প্রথমেই নজরে পড়ে বহুজাতিক সমাবেশ। বাঙ্গালী, হিন্দুস্থানী, পাঞ্জাবী, মারাঠী, পাঠান, সিন্ধী, বর্মী, মাদ্রাজী, সব মিশিয়া খিচুড়ি পাকিয়া গিয়াছে।” সেলুলার জেলে বন্দিরা ছিলেন, আর্যসমাজিরা, ওহাবিরা, স্বদেশিরা, শিখ, গদর পার্টির সদস্যরা, বর্মি স্বাধীনতা সংগ্রামী, বিভিন্ন মতাদর্শের বাঙালি ও বিনায়ক সাভারক। হিন্দু- মুসলমান সংখ্যা প্রায় সমান সমান। (https://www.anandabazar.com/supplementary/rabibashoriyo/they-had-to-make-25kg-oil-everyday-by-crushing-coconuts-)
সাভারককে যে সেলে রাখা হয়েছিল সে সেলটি তাঁর নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই সেলটি বিল্ডিং এর নিচে তলায় একেবারে শেষ প্রান্তে। তার পাশে আছে পৃথক একটি ঘর। লেখা আছে “ ফাঁসি ঘর” Gallows. সেখানে তিনটি ফাঁসির দড়ি ঝুলছে। তবে এগুলি সবই প্রতীকী। ফাঁসির দড়িগুলি প্রতীকী হলেও এই ঘরে যে একসাথে তিনজনকে ফাঁসি দিয়েছে তা পরিষ্কার বোঝা যায়। কারণ আসামিকে ফাঁসি দেওয়ার সময় যে পাটাতনের উপর দাঁড় করানো হয় তা তিনটিই আছে ঠিক প্রতিটি ফাঁসি দড়ির নিচে।একই লিভারে যুক্ত পাটাতন গুলি। একটানে তিনটি পাটাতনই নেমে যাবে একসাথে অর্থাৎ তিনজনের একসাথে ফাঁসি কার্যকর হবে। তিনজনকে ফাঁসি দেওয়া না হলে এমন ব্যবস্থার প্রয়োজন হত না। ফাঁসি ঘরের নিচে একটি ভূগর্ভস্থ গৃহ আছে । সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে হয় সেই ঘরে । একটি মাত্র দরজা। কোনও জানালা নেই। ফাঁসি হয়ে যাওয়ার পর শহিদদের লাশগুলি এখানে নামানো হত। তারপর অত্যন্ত অবহেলায় তা সমুদ্রের জলে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হত। নিচের এই নির্জন ঘরে প্রবেশ করলাম কেবল মাত্র বহু শহিদের স্পর্শ পেতে। আমার সহযাত্রী বন্ধুবর বিদ্যুৎ দে ও আমি একাধিক বার সেলুলার জেল দেখতে গেছি আমাদের পাঁচ-ছ দিনের আন্দামান সফরে। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস যেন কথা বলে সেলুলার জেলের প্রতিটি কোণে, আনাচে কানাচে। ১৯৩৭ সালে মহাত্মা গান্ধী ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগে এক চুক্তি হয় ব্রিটিশ সরকারের সাথে যার ফলে বন্দিদের মুক্তির পথ উন্মুক্ত হয়। সেই বৎসর থেকে বন্দিদের ভারতের নিজ নিজ রাজ্যে পাঠানো শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে সেলুলার জেল বন্ধ করে দেওয়ার কাজ শুরু হয়। ১৯৩৯ সালে সেলুলার জেলের বাকি বন্দিদের নিয়ে শেষ জাহাজ চলে আসে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪২ সালে ২১ মার্চ জাপানিরা আন্দামান দখল করে নেয়। পরে তারা নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর নেতৃত্বে আজাদ হিন্দ সরকারের হাতে তুলে দেয়। নেতাজি ৩০ ডিসেম্বর ১৯৪৩ এই জেল পরিদর্শন করেন এবং ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এখানে। জাপান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মসমর্পণ করার পর আবার এ দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটিশদের হাতে চলে আসে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর আন্দামান ও নিকবর দ্বীপপুঞ্জ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। প্রকৃতপক্ষে কতজন ভারতীয়কে এই দ্বীপপুঞ্জে আনা হয়েছিল তার সঠিক হিসাব নিরুপন করা মুসকিল,কারণ বহু তথ্য ব্রিটিশরা নষ্ট করে দেয়। তবে অনুমান করা হয় প্রায় আশি হাজার ভারতীয়কে এখানে বিভিন্ন ভাবে বন্দি করে আনা হয়।
সেলুলার জেল হতে বেরিয়ে আসার সময় মনে হয়েছে স্বাধীনতার পর আমরা অত্যাচারী ব্রিটিশদের যতটা ক্ষমা করতে পেরেছি, দেশকে ভালোবেসে স্বাধীনতা যোদ্ধাদের ততটা সম্মান দিতে পারিনি।
সূত্র :https://www.independent.co.uk/news/long_reads/cellular-jail-india-integral-country-fight-freedom-independence-british-colony-andaman-and-nicobar-a7883691.html
https://www.theguardian.com/lifeandstyle/2001/jun/23/weekend.adrianlevy
https://www.culturalindia.net/monuments/cellular-jail.html
ফোটো :সৌজন্যে বন্ধুবর শ্রী বিদ্যুৎ দে



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *