সিবিআই এর কলহ

সিবিআই এর কলহ

‘At the stroke of the midnight hour’ নিশুতি রাতে (23 অক্টোবর ’18)স্বাধীন ভারত যখন ঘুমিয়ে ছিল তখন স্বাধীন সত্ত্বাধিকারী ভারতের সর্বোচ্চ তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এর অধিকর্তার ঘুম ভাঙিয়ে তাঁকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হল । সিবিআই অধিকর্তা অলোক বর্মাকে কার্যত এক ধরনের বরখাস্ত করা হল। সেই সাথে একই ভাবে বরখাস্ত করা হল তাঁর অধস্তন বিশেষ অধিকর্তা রাকেশ আস্থানাকে। অপর এক কর্ম কর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হল পোর্টব্লেয়ারে অপেক্ষাকৃত কম দায়িত্বপূর্ণ পদে। এবং ওই রাতের মধ্যেই সিবিআই বিল্ডিংএ তাঁদের অফিস ঘরগুলি সীল করে দেওয়া হল। মধ্যরাতের অপারেশন শেষ হল এম নাগেশ্বর রাও যিনি একজন এই জি পর্যায়ের আই পি এস অফিসার তাঁকে সাময়িক অধিকর্তা নিয়োগ করে। এই প্রথম কোনও আই জি পর্যায়ের অফিসারকে এমন দায়িত্ব দেওয়া হল। সংবাদে প্রকাশ তিনিও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত। সিবিআই এর বিশেষ অধিকর্তা রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে 15 অক্টোবর এফ আই আর দায়ের করেন অধিকর্তা অলোক বর্মা। নিয়ম অনুযায়ী কোনও যুগ্ম অধিকর্তার উপরের কোনও আধিকারিককে গ্রেপ্তার করতে হলে সরকারের অনুমতি লাগে। সরকার আস্থানাকে গ্রেফতার করার অনুমতি তো দেন-ই নাই উল্টে অধিকর্তা অলোক বর্মাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হল। আস্থানাকে ছুটিতে পাঠালেও প্রকৃতপক্ষে শাস্তি দেওয়া হল অধিকর্তা অলোক বর্মাকে। রাকেশ আস্থানা অলোক বর্মার বিরুদ্ধে ঘুষের পাল্টা একটা অভিযোগ আনলেও আসল ঘটনা আলাদা। যদিও অনেকে বলছেন সর্ষের মধ্যেই ভূত কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ভূতের হাতেই সর্ষে। পুলিশকে ব্যবহার করা সরকারের পুরানো গল্প। নরেন্দ্র মোদী গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকা কালীন ২০০২ সালে যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয় তার পরবর্তী সময়ে কিছু “এনকাউন্টার” হয়। সঞ্জীব ভাট ছিলেন গুজরাট ক্যাডারের একজন 1988 ব্যাচের দক্ষ আই পি এস অফিসার। গুজরাট দাঙ্গার এক মামলায় সঞ্জীব ভাট সুপ্রিম কোর্টে নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে এক এফিডেভিট দাখিল করেন। পরে তাঁকে সামান্য অনুপস্থিতর কারণে 2015 আগস্টে বরখাস্ত করা হয়। এর প্রতিবাদে তিনি সোসাল মিডিয়ায় টুইট করলে তাঁর বিরুদ্ধে মাদক চোরাকারবারির মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর পরিবারকে হয়রান করা হয়। কুলদীপ শর্মা গুজরাট ক্যাডারের 1976 সালের আই পি এস ছিলেন। গুজরাটের তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে মাধবপুরা মার্কেন্টাইল কোঅপারেটিভ ব্যাংকের বারোশো কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ আসে।এই অভিযোগের তদন্ত করার সময় কুলদীপ শর্মার উপর চাপ সৃষ্টি করা হয় বিরুদ্ধে না লেখার জন্য। আরও পরে শ্রী শর্মা সোহরাবুদ্দিন সেখ ভুয়ো সংঘর্ষের (fake encounter) বিরুদ্ধে সত্য রিপোর্ট দাখিল করেন। ফলে অনেক অফিসারের শাস্তি হয়। সরকারের অস্বস্তি বাড়ে। এর ফলে কুলদীপ শর্মার বিরুদ্ধে 2010 সালে এফ আই আর করা হয় পুরোনো এক মামলায়। সতীশ শর্মা, গুজরাট ক্যাডারের একজন 1986 সালের আই পি এস অফিসার ছিলেন। তিনি ইশরাত জাহান ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যার বিরুদ্ধে গুজরাট হাইকোর্টে রিপোর্ট দেন। তাঁকেও বিভিন্ন ভাবে হয়রান করা হয়। রজনিশ রাই 1992 সালের আই পি এস অফিসার ।সাজানো সংঘর্ষের বিরুদ্ধে কথা বলায় স্বেচ্ছাবসর নিতে বাধ্য হন। ডি জি বানজারা 1987 সালের গুজরাট ক্যাডারের আই পি এস অফিসার ।তাঁকেও একই কারণে গ্রেফতার করা হয়। তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। বর্তমানে সিবিআই অধিকর্তা অলোক বর্মা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাফেল যুদ্ধ বিমান ক্রয়ের ব্যাপারে যে অভিযোগ জমা পড়েছে তাঁর প্রাথমিক তদন্তের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন। রাফাল যুদ্ধ বিমান ক্রয়ের ব্যাপারে সিবিআইয়ের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপির প্রাক্তন মন্ত্রী যশোয়ান্ত সিনহা, অরুণ শূরি এবং প্রখ্যাত আইনজীবী প্রশান্ত ভূষন। একটি জনস্বার্থ মামলাও (PIL)সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা হয়েছে। অলোক বর্মার কাছে অভিযোগ গুলি জমা পড়ার পর তিনি এই বিষয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কাছে কিছু জানতে চান তদন্তের প্রাথমিক পর্যায় শুরু করার উদ্দেশ্যে।কিন্তু গত 23 অক্টোবর মধ্য রাতে সরকার কর্তৃক সিবিআই দপ্তরে বিশেষ বিশেষ অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়। সাময়িক দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিকর্তা এম নাগেশ্বর রাও পরের দিনই এক ডজন তদন্তকারী অফিসারকে বিভিন্ন বিভাগে বদলি করে দেন। আজ ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে ওই বদলির আদেশের কপি সিল করা খামে সুপ্রিম কোর্টে জমা দিতে বলেছেন। আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এম নাগেশ্বর রাও কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।সুপ্রিম কোর্ট আরও নির্দেশ দিয়েছেন যে, অধিকর্তা অলোক বর্মা ও বিশেষ অধিকর্তা রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশন (Central Vigilance Commission) সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এ কে পট্টনায়কের তত্ত্বাবধানে তদন্ত করবেন। তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়ার পর 12 নভেম্বর আবার শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টে। ভারতের সর্বোচ্চ তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এর অভ্যন্তরীণ রোগজীর্ণ অঙ্গ গুলি প্রকট হয়ে বেরিয়ে এসেছে।নিরপেক্ষ তদন্তের প্রধান ভরসা সিবিআই আজ কলঙ্কিত । সবই অপ্রত্যাশিত।
লিংক :
Modi has been fixated with IPS officers and that’s hurt him badly https://theprint.in/politics/modi-has-been-fixated-with-ips-officers-and-thats-hurt-him-badly/139133/
https://thewire.in/government/cbi-director-alok-vermas-request-for-rafale-papers-tipped-the-scale-against-him



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *