বুলন্দশহর

বুলন্দশহর

উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহরের ঘটনা স্বাধীন ভারতের আর একটি কলঙ্ক। শহরের অনতিদূরে কয়েকটি গোরুর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের বেলাগাম তাণ্ডব প্রশাসনের পরোক্ষ মদতকে জনগণ প্রত্যক্ষ করল। তাদের হিংস্রতার তীব্রতা এতটাই যে পুলিশের কয়েকটি গাড়ি সমেত থানা অফিস ভস্মীভূত হয়ে যায়।এই উন্মত্ততায় গুলিবিদ্ধ হয়ে কর্মরত পুলিশ অফিসার সুবোধ কুমার সিং নিহত হন। সেই সাথে অমিত সিং নামের কুড়ি বৎসরের এক যুবকেরও মৃত্যু হয় একই ভাবে গুলিবিদ্ধ হয়ে। ঘটনাটি ঘটে গত ৩রা ডিসেম্বর ’১৮ তারিখে। পরের দিন উত্তর প্রদেশের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এক গুরুত্বপূর্ণ মিটিংএ ঘোষণা করেন যে ওই গোহত্যা এক গভীর ষড়যন্ত্র এবং মিটিংএ তিনি নিশ্চয়তা দেন যে যারা গোহত্যা করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু দুজন মানুষ, সুবোধ কুমার সিং ও অমিত কুমার সিংএর হত্যাকে তিনি নিছক দুর্ঘটনা বলে মনে করেন।আখলাক হত্যার তদন্তকারী অফিসার সুবোধ কুমার সিংকে গুলিকরে হত্যার পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন না।(২০১৫ সালে উত্তর প্রদেশের দাদরিতে গোমাংস রাখার সন্দেহে কয়েকজন দুষ্কৃতী আখলাককে নৃশংস ভাবে পিটিয়ে প্রকাশ্যে হত্যা করে।) পিতৃবিয়োগে শোকাহত সুবোধ কুমারের কুড়ি বৎসরের পুত্র দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র অভিষেক সিংকে এনডিটিভির সাংবাদিক প্রশ্ন করেন যে, তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে কী বার্তা দিতে চান। এর উত্তরে অভিষেক জানান, “আমি কেবল মুখ্যমন্ত্রী নয়, সারা দেশকে বলতে চাই যে, হিন্দু – মুসলিম রাজনীতি বন্ধ হোক।ধর্মের সামান্যতম প্ররোচনায় মানুষ হিংস্র হয়ে ওঠে। আমার পিতা আমাকে ধর্মনিরপেক্ষভাবে সুনাগরিক হতে শিক্ষা দিয়েছেন।ধর্মের নামে হানাহানি যেন না হয়। আজ আমার পিতা হিন্দু – মুসলিম বিবাদের শিকার হলেন, আর কোনও সন্তান যেন এই ভাবে তাদের পিতাকে না হারায়।” আসানসোলের দশম শ্রেণির ছাত্র সিবতুল্লাহ গত মার্চ মাসে রামনবমীর মিছিলে নিহত হলে পিতা মাওলানা ইমদাদুল রাশিদি বলেছিলেন, “আমার সন্তানের মৃত্যুর কোনও প্রতিশোধ নয়। আমি চাই না আর কোনও পিতা সন্তানহারা হোক।” প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাগণ এমন মহতী ভাবনার রূপকার হলে দুষ্কৃতীরা প্রশ্রয় পেত না। বুন্দেলশহরের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করে ৮২ জন প্রাক্তন আই এ এস /আইপিএস/আইএফ এস /আই ই এস মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের পদত্যাগ দাবি করেছেন এক খোলা চিঠির মাধ্যমে। এঁদের মধ্যে প্রাক্তন বিদেশ সচিব শ্যাম সরন, প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিব শঙ্কর মেনন আছেন। তাঁরা ক্ষোভ ও ক্রোধ প্রকাশ করে বলেছেন যে, ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এমন ঘৃণার পরিবেশ পরিলক্ষিত হয়নি। তাঁরা বলেছেন , উত্তর প্রদেশের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী উগ্র সাম্প্রদায়িক ও সংখ্যাগুরুর পৌরোহিত্য করছেন (The Chief Minister of UP acts as a high priest of the agenda of bigotry and majoritarian supremacy – an agenda which now seems to take precedence over everything else “) সহিংসতাকে বর্তমানে সামাজিক ও রাজনৈতিক মান্যতা দেওয়া হচ্ছে। অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলেছে রাজনৈতিক পরিমণ্ডল। ঘৃণা বিদ্বেষ ও বিভেদ আমাদের সাংবিধানিক মূল্য ধ্বংস করার পথে এগিয়ে চলেছে। এই চিঠিতে তাঁরা রাজ্যের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব,এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিকে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে নির্ভিক হতে আহ্বান জানিয়েছেন । তাঁরা তাঁদের চিঠিতে এলাহাবাদ হাইকোর্টকে স্বতঃপ্রবৃত্ত(Suo motu) মামলা ও তদন্তের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন । তাঁদের চিঠিতে তাঁরা ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্বন্ধে বলেছেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী জনসভায় যতখানি ভাষণ পারদর্শী, দেশের ঘৃণা বিদ্বেষ ও বিভাজনের ঘটনায় ততখানি কঠোর নীরব।” (Without sparing PM Modi, the letter goes on to say, “Our Prime Minister, who is so voluble in his election campaigns, maintains stony silence…Never before in recent history has the politics of hate, division and exclusion been so dominant and the poisonous ideology which informs it penetrated so deep into the body politic… Never before has hate been directed with such calculated intent against minority communities, hate which is nursed, aided and abetted by those in power…We demand the resignation of the Chief Minister…” “In UP, fundamental principles of governance, of constitutional ethics and of humane social conduct stand perverted…” এই বৎসরে কাঠুয়া কাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে পঞ্চাশ জন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস /আইপিএস এপ্রিলের পনেরো তারিখে ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এক চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে, স্বাধীন ভারত তার ইতিহাসে অন্ধকারতম সময়ের মধ্য দিয়ে চলেছে (Darkest Hour In Post Independence India) কিন্তু দেখা যাচ্ছে আমরা যে উদ্বেগ নিয়ে বৎসর শুরু করেছি তার থেকে বেশি উদ্বেগ নিয়ে বৎসর শেষ করতে চলেছি।
সূত্র :https://www.ndtv.com/india-news/bulandshahr-violence-former-bureaucrats-open-letter-calling-for-yogi-adityanaths-resignation-1965068



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *