ভাষা আন্দোলনে নারী সমাজের ভূমিকা

ভাষা আন্দোলনে নারী সমাজের ভূমিকা

১৯৪৭ সালে ১৪ আগস্ট পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে এই বিষয়কে কেন্দ্র করে পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পশ্চিম পাকিস্তানের প্রভাবশালী উর্দুভাষী নেতৃবৃন্দ উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা করতে চাইলে বাঙালি ছাত্রসমাজ ও বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠেন।প্রফেসর আবুল কাসেমের নেতৃত্বে তামাদ্দুন মজলিশ সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রথম প্রতিবাদ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ৬ ডিসেম্বর, ১৯৪৭ এক বিক্ষোভ সভার আয়োজন করেন।পশ্চিম পাকিস্তান বাংলা ভাষাকে গুরুত্ব না দেওয়ার পিছনে ছিল বাঙালি জাতি ও বাংলা ভাষার প্রতি একটা উন্নাসিক ভাব। দুই পাকিস্তান মিলে বাংলাভাষী মানুষ সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও বাংলা ভাষাকে চরম অবহেলা করা হয়। তার প্রথম প্রমান পাওয়া গেল যখন ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি করাচিতে পাকিস্তানের কন্সটিটিউএন্ট অ্যাসেম্বিলতে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় যে উর্দু ভাষা হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা । পূর্ব পাকিস্তানের কংগ্রেস সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সংশোধনী আনেন যে, দুই পাকিস্তানের মোট ৬ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষের মধ্যে ৪ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষের ভাষা যেখানে বাংলা সেখানে বাংলাকে আগে গুরুত্ব দিতে হবে এবং বাংলা ভাষাকে উর্দুর পাশাপাশি সমান মর্যাদা দিতে হবে । কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, তাঁর এই সংশোধনী বাতিল হয়। বাতিল করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খানকে পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিনও সমর্থন করেন।কিন্তু এই অপমান আপামর বাঙালির জাত্যভিমানে আঘাত করে। প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে এগিয়ে আসেন বাঙালি ছাত্রসমাজ। ইংরেজদের বিরুদ্ধে সুদীর্ঘ কঠিন সংগ্রামের পর বাঙালি জাতিকে আবারও লড়াই করার জন্য প্রস্তুত হতে হল। অবশ্য বাঙালি জাতির রক্তে আছে সংগ্রামের কণিকা। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকদের মধ্যে বাংলার প্রতি যে ঔপনিবেশিক মনোভাব তা বাঙালি জাতির বুঝতে বিলম্ব হয়নি। বাংলা ভাষার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের নিকৃষ্ট ষড়যন্ত্রের অন্যতম হল বাংলা ভাষাকে আরবি বর্ণমালায় লেখার প্রস্তাব।হাস্যকরভাবে ধর্মের দোহাই দিয়ে উর্দুকে বাঙালির উপর চাপিয়ে দিতে চায় তারা। বাংলা ভাষাকে দাবিয়ে রাখার জিদ পাকিস্তানের যত বাড়তে থাকে বাংলা ভাষাকে সমুজ্জ্বল রাখতে হিন্দু মুসলমান বাঙালি জাতির ঐক্য তত মজবুত হতে থাকে।মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ১৯ মার্চ ঢাকায় দুটি সভায় ঘোষণা করেন যে, উর্দু হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। বাঙালিরা এর তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। সারা পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে পালিত হয় প্রতিবাদ সভা।মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ পরলোক গমন করেন ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮,এবং লিয়াকত আলি খান আতায়ীর হাতে নিহত ১৬ অক্টোবর, ১৯৫১। কিন্তু পাকিস্তান সরকার বাংলা ভাষাকে অবদমন ও অবহেলার চেষ্টা করতেই থাকে। বাঙালি জাতির প্রতিবাদ আন্দোলনও অব্যহত থাকে, বরং উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে। লিয়াকত আলি খানের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন খাজা নাজিমুদ্দিন। তিনি ২৬ জানুয়ারি, ১৯৫২ ঢাকার পল্টন ময়দানের সভায় যখন ঘোষণা করেন যে, উর্দু হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা তখন বাঙালি জাতির আন্দোলন এক অভূতপূর্ব আকার ধারণ করে। সমগ্র বাঙালি জাতি এক হয়ে যায় বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য । তাদের অস্তিত্ব রক্ষার একটি স্লোগান “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত ছাত্রছাত্রী ক্ষোভে ফেটে পড়লেন । পরের দিন ২৭ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে তাঁরা প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন।তিনদিন পর ৩০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ধর্মঘট পালন করেন এবং এক প্রতিবাদ মিছিল বের করেন।পরের দিন ৩১ জানুয়ারি ঢাকা বার কাউন্সিলের লাইব্রেরিতে পূর্ব পাকিস্তানের সমস্ত রাজনৈতিক দল, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ছাত্রদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। মাওলানা হামিদ ভাসানির নেতৃত্বে এই সভায় স্থির হয় যে, আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি সারা পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে “ভাষা দিবস” পালিত হবে।বাঙালি ছাত্র সমাজ তখন বাঙালি জাতির মুখ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবাদের ভরকেন্দ্র। সারা ফেব্রুয়ারি মাস ধরে চলতে থাকে প্রতিবাদ সভা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ২১ ফেব্রুয়ারি হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী এগিয়ে যেতে থাকেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে। মাতৃভাষা বাংলাকে বাঁচাতে সেদিন কোনও বাধাই অনতিক্রমণীয় ছিল না বাঙালির কাছে। পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর অস্ত্র উপেক্ষা করে এগিয়ে চলতে থাকে প্রতিবাদ মিছিল। সমবেত সমস্ত ছাত্রছাত্রী মিলে যেন বাংলা ভাষার বর্ণমালায় পরিণত হয়েছিল । এমন সময় এই মুখর বর্ণমালার দিকে উড়ে এল পুলিশের গুলি। লুটিয়ে পড়ল রফিক, সালাম, বরকত এবং জব্বারের দেহ। বাংলার মাটি রক্তে রাঙিয়ে পৃথিবীর প্রথম ভাষাশহিদ হয়ে অমর হয়ে গেলেন তাঁরা, শহিদ হয়ে ফিরিয়ে দিলেন মাতৃভাষা বাংলার সম্মান। শুধু পাকিস্তান নয়, ভারত তথা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পরে এই আত্মত্যাগের কথা। পরের দিন ২২ ফেব্রুয়ারি হাজার হাজার মানুষ শহিদদের জানাজায় অংশ গ্রহণ করে। বাঙালি জাতি সেদিন যতটাই শোকে স্তব্ধ ততটাই ক্রোধান্বিত ।কিন্তু আন্দোলন থেমে থাকেনি।সারা পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলা জুড়ে আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ সংগ্রামের পর অবশেষে ১৯৫৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করতে বাধ্য হয় যে, উর্দুর সাথে বাংলা ভাষাও হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদদের রক্তে বোধহয় বপন করা হয়েগিয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ। তবে পৃথিবীর এই ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে বাঙালি পুরুষদের সাথে বাঙালি নারীদের ভূমিকাও ছিল উল্লেখযোগ্য। পুরুষদের মধ্যে যাঁরা নেতৃত্বে ছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত আবুল কাশেম নুরুল হক আবুল হাশিম শাওকাত আলি কাজী গোলাম মাহবুব শামসুল হক অজিত গুহ সেখ মুজিবর রহমান ডঃ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ মাওলানা হামিদ ভাসানি প্রসাদ রায় রনেশ দাসগুপ্ত পুলিন দে প্রভৃতি।তাঁদের নেতৃত্বে হাজার হাজার ছাত্রযুবা প্রতিবাদে পথে নামে। কিন্তু ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা অবজ্ঞা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাঁরা প্রথম পুলিশ ব্যারিকেড ভাঙে তাঁরা ছিলেন ছাত্রী।তা ছাড়া যে সমস্ত নারী ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন ও পুরুষদের মতো নির্যাতন সহ্য করেছেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন: রাওশানারা বাচ্চু,গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল ছাত্র ফ্রন্টের নেত্রী। ভাষা আন্দোলনের প্রতিটি সভায় অংশ গ্রহণ করে নারীদেও এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করেন। বেতার ভাষণে পাকিস্তানের ভাষা নীতির তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং ৩০ জানুয়ারি ১৯৫২ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলার সভায় নেতৃত্ব দেন। রানি ভট্টাচার্য ছিলেন বরিশাল জগদীশ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তিনি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী।বিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং অন্যান্য মহিলাদের নিয়ে তিনি বহু প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন। অপর এক শিক্ষিকা মঞ্জুশ্রী সেন আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রতিভা মুৎসুদ্দি ছিলেন বিপ্লবীদের পীঠস্থান চট্টগ্রামের সংগ্রামী নেত্রী। মহিলাদের নিয়ে তিনি চট্টগ্রাম এবং ঢাকায় সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেন। তিনি পুলিশের অনেক অত্যাচার সহ্য করেন এবং কারাবরণ করে। ডাঃ হালিমা খাতুন ছিলেন মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী। তিনি অন্যতম ভাষা সৈনিক। তিনি বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্রীদের নিয়ে গঠিত মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন ২১ ফেব্রুয়ারি। সামনে এগিয়ে যেতেই পুলিশের গুলি তাঁর পাশে থাকা রফিকের মাথার খুলি উড়িয়ে দেয়। মৃত্যু ভয় উপেক্ষা করে মস্তকহীন রফিকের দেহ তিনি উদ্ধার করেন এবং তাঁর সহযোগিতায় আমানুল হক ছবি তোলেন। পরে সেই ছবির আদলে সেখানেই নির্মিত হয় শহিদ মিনার। সোফিয়া খান ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ছাত্রী। তিনিও বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্রীদের মিছিলে নেতৃত্ব দিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যান। সুফিয়া আহমেদ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। তিনি ২১ ফেব্রুয়ারির অন্য এক মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন। ঐ বৎসর নভেম্বর মাসে পাকিস্তানের দশ সদস্যের সাংস্কৃতিক দলের সদস্য হিসেবে তিনি তুরস্ক যান। সমস্ত সদস্যদের বিরোধিতার সত্ত্বেও সেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি বাংলায় গান গেয়ে সেখানেও প্রতিবাদ করেন। আনোয়ারা খাতুন ছিলেন আওয়ামি লিগের এমপি। তিনি আইন সভার ভিতর এবং বাইরে ভাষা আন্দোলনের পক্ষে অকাট্য যুক্তিসহকারে বাংলা ভাষার পক্ষে লড়াই করে গেছেন। ভাষা আন্দোলনের আর এক মহীয়সী ছিলেন কল্যাণী রায় চৌধুরী। তিনি নারায়ণগঞ্জ মর্গ্যান বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন। ভাষা আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল অসামান্য। ২১ ফেব্রুয়ারির প্রতিবাদে তিনি ছাত্রী ও অন্যান্য মহিলাদের এক সুবিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করেন।তাঁর ছাত্রী ইলা বকশী বেনু ধর ও শাবানির মতো কিশোরীদের পুলিশ গ্রেফতার করে। পুলিশ তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। তিনি ভাষা আন্দোলনকারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন কারারুদ্ধ থাকেন।
সারা পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রী ও মহিলাদের অংশ গ্রহণ ছিল অভাবনীয়। সিলেটের দশম শ্রেণির ছাত্রী সালেহাকে শহিদদের স্মরণে কালো পতাকা উত্তোলন করার অপরাধে স্কুল হতে বিতাড়িত হয়। গাইবান্ধার দৌলতুন্নেসা নাদিরা বেগম লিলি হকের নাম উজ্জ্বল হয়ে আছে। খুলনা কলেজের ছাত্রী আনোয়ারা সাজিদা আলি, সাতক্ষীরার গুল আরা বেগম সুলতানা চৌধুরী, টাঙ্গাইলের নুরুন্নেহার বেলি রাওশানারা শরিফ, রংপুরের নিলুফা আহমেদ মালেকা আশরফ, রাজশাহীর ডঃ জাহানারা বেগম মনোয়ারা বেগম ডাঃ মহসিনা বেগম ঊষা বেপারি প্রমুখের নাম চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। সেখ মুজিবর রহমান তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন যে,”সেই সময় আমরা যখন জেলবন্দি ছিলাম তখন দেখতে পেতাম পাশের বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা প্রতিদিন বিদ্যালয়ের ছাদে উঠে বাংলা ভাষার পক্ষে এবং পুলিশি অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্লাকার্ড হাতে স্লোগান দিত।” বাঙালি মহিলারা অর্থ সংগ্রহ করতেন , পোষ্টার প্লাকার্ড তৈরি করতেন , কালো ব্যাজ তৈরি করে ধারণ করতেন। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মহিলাদের অংশ গ্রহণ ভাষা আন্দোলনের পূর্ণতা এনেদিয়েছিল।
পরিশেষে UNESCO ১৯৯৯ সালে ৭ নভেম্বর ঘোষণা করে যে ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে পালন করা হবে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করার ব্যাপারে কানাডায় বাংলাদেশের রফিকুল ইসলাম এবং আব্দুস সালামের উদ্যোগে একটি কমিটি তৈরি করা হয়। সেই কমিটির দশজন সদস্য ছিলেন যাঁদের মাতৃভাষা ছিল বিভিন্ন। এই সভার দশজন সদস্যের মধ্যে ছ জন ছিলেন মহিলা।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *