ভারতের নেপাল নীতি

ভারতের নেপাল নীতি

ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর প্রধানমন্ত্রীত্বের প্রথম চার বৎসরের মধ্যেই সেপ্টেম্বর 2018 পর্যন্ত ছয়টি মহাদেশের সাতান্নটি দেশ সফর করেছেন। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে কোনও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এত অল্প সময়ে এতগুলি দেশ সফর করা সম্ভব হয়নি। সে হিসাবে এটি একটি রেকর্ড। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তিনি সর্ব প্রথম প্রতিবেশী দেশ ভুটান সফর করেন 15-16 জুন 2014, শপথ গ্রহণের এক মাসের মধ্যেই। ভুটানের রাজ পরিবার, সরকার ও জনগণ ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় উষ্ণ অভ্যর্থনা দ্বারা বরণ করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ভুটানের সংসদে বক্তব্য রাখার সময় সর্ব প্রথম “নেপালের” জনগণকে এর জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। কিন্তু ভুটানের সংসদে দাঁড়িয়ে ভুটানকে নেপাল বলা যে অনিচ্ছাকৃত ভ্রম তা সকলেই বুঝতে পেরেছিলেন। ভুটান অসন্তোষ প্রকাশ করে নি। নেপালও সন্তোষ প্রকাশ নি। প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিরবচ্ছিন্ন বিদেশ ভ্রমণে প্রতিবেশী দেশগুলির সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য ইতিমধ্যেই চারবার নেপাল ভ্রমণ করেছেন এবং পাঁচবার চিন ভ্রমণ করেছেন। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী যত বেশি চিন ও নেপাল ভ্রমণ করেছেন তত বেশি চিন ও নেপাল আরও পরস্পরের কাছাকাছি এসেছে এবং ভারতের সাথে চিন ও নেপালের দূরত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল 10 সেপ্টেম্বর, 2018, বিমস্টেকভুক্ত সাতটি দেশের দু দিনের যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হল ভারতের পুণেতে। কিন্তু কোনও ঘোষণা ছাড়াই নেপাল এই মহড়ায় অংশ গ্রহণ না করে সরে দাঁড়াল । আর একটি বিমস্টেকভুক্ত দেশ থাইল্যান্ডও সরে দাঁড়িয়েছে। ভারতের চিরবান্ধব দেশ নেপাল যে ভারতের সাথে সম্পর্ক শিথিল করে দিচ্ছে ভারতের কূটনৈতিক মহল তা অনুমান করতে ব্যর্থ। ইতিমধ্যে নেপালকে চিন তার চারটি সমুদ্র বন্দর খুলে দিয়েছে বাণিজ্যিক সহায়তা দেবার জন্যে। চিনের এই চারটি বন্দর হতে নেপালের সড়ক দূরত্ব সবচেয়ে যা কম তা হল আড়াই হাজার কিমি। বাকি বন্দর গুলির দূরত্ব আরও অনেক বেশি। ভারতের দুটি বন্দর নেপাল ব্যবহার করতে পারে। সে দুটি হল কলকাতা ও বিশাখাপত্তনম। নেপাল থেকে কলকাতা ও বিশাখাপত্তনম এর সড়ক দূরত্ব যথাক্রমে 774 কি.মি ও 1194 কি.মি। কিন্তু দীর্ঘ সড়ক পথ অতিক্রম করার জন্য চিনের পথ ও পরিকাঠামো যথেষ্ট। নেপাল প্রবেশ করার জন্য চিন সব প্রতিকূলতা দূর করে উন্মুক্ত করে দিচ্ছে তার সীমান্ত বেড়া। এই পথে এখন অবাধে নেপালের জন্য কেবল পণ্য সামগ্রী আসবে তাই নয় ।এই পথে চিন তার সামরিক সামগ্রী এবার ভারত নেপাল প্রায় দু হাজার কিমি সীমান্ত বরাবর সহজেই মোতায়েন করতে পারবে। নেপালের সাথে ভারতের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয় 2015 নেপালের ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প হওয়ার পর হতে। সবার আগে সব চেয়ে বেশি উদ্ধারকারী দল নেপাল পৌঁছায় ভারত থেকে। সবচেয়ে বেশি পণ্য সামগ্রীও পাঠানো হয় ভারত থেকে। কিন্তু ভারতের উদ্ধারকারী দল ও সংবাদ মাধ্যমের বাড়াবাড়ি নেপালের আত্ম সম্মানে আঘাত করে। নেপাল এই বাড়াবাড়ি প্রতিবাদ করে এবং ভারতকে ফিরে আসতে বলে। ভারত অবশ্য নিরুত্তাপ থাকে। পরে নেপালের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপও নেপাল ভালো চোখে দেখে নি। ভুটান এখন ভারত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে চিনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। শ্রীলঙ্কাও ভারতের চাপ উপেক্ষা করতে শুরু করেছে। শ্রীলঙ্কা তাদের হাম্বানটোটো বন্দরের নিয়ন্ত্রণ চিনের হাতে তুলে দিয়েছে। সামরিক প্রয়োজনে এবার চিন এই বন্দর ব্যবহার করতে পারবে। চিনের সাথে কয়েকটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে দূরদৃষ্টির অভাব ছিল ভারতের । তাই আজ চিনের ড্রাগন দু হাত প্রসারিত করে ফেলেছে ভারতের দিকে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *