ভাগ্যই আশ্রয়

ভাগ্যই আশ্রয়

গত ২২শে জুলাই ২০১৭ আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত অনেক সংবাদের মধ্যে নিম্নের শিরোনামের সংবাদ গুলো আমাদের পড়তে হয়েছে। মনে হচ্ছে যেন এই লজ্জাজনক ঘটনা গুলো ঐ দিনের কাগজে প্রকাশ করার জন্যে জমা রাখা ছিল। আসলে তা মোটেই নয়। এটা এখন নিত্য দিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধরনের ঘটনার বর্ণনা আমরা আগে সবার সামনে পড়তে লজ্জা পেতাম।এখন আমাদের সে লজ্জা টুকু উবে গেছে। পড়া তো আছেই তার সাথে যোগ হয়েছে সব জায়গাতেই আলোচনা। অর্থাৎ কাগজে পড়ার পর ঐ গুলো হাটে বাজারে যান বাহনে বাড়িতে ও টিভির পর্দায় আবার শুনতেও হচ্ছে। আমাদের শিশুদের পর্যন্ত সুপ্রবৃত্তি গুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে। আলোচনায় অনেকে এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মতামত দেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে একটাও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আমাদের সামগ্রিক অধঃপতন হতে আর কিছু অবশিষ্ট নেই। ঘটনা গুলো অবিরত ঘটে চলেছে। যা বিচ্ছিন্ন তা হল প্রকাশ হওয়া। ঘটনার নায়কদের মধ্যে আছেন ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার শিক্ষক সরকারি কর্মচারী। অবসর প্রাপ্ত হোমগার্ড সনাতন গোস্বামীর নিকৃষ্ট আচরণ কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব এটাও মানুষ প্রত্যক্ষ করছে। মানুষ যেকোন ধরনের নিকৃষ্ট কাজ যে করতে পারে মানুষ নিজেই এবার বিশ্বাস করতে শুরু করবে। মানুষ এবার অবাক হওয়া ভুলে যাবে। আমরা যতটা বাহ্যিক সভ্যতার প্রদর্শন করছি অন্তরে ততটাই বর্বরতা লালন করছি। নির্যাতিতার অভিযোগ জানাবার আর কোন স্থান অবশিষ্ট নেই আমাদের সমাজে। সমাজের যে শাখাতেই সে যাক সবাই হায়নার মতো বসে আছে মানুষের মুখোশ পরে। ভাগ্যই কি তবে আমাদের শেষ আশ্রয়।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *