আসিফা ভারত কন্যা

আসিফা পৃথিবীতে মাত্র আট বছরের জন্যে এসেছিল। জম্মু কাশ্মীরের আসিফার গত জানুয়ারি মাসে যেদিন মৃত্যু হলো সেদিন আরও অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল, প্রতিদিন যেমন হয়। কিন্তু আসিফার মৃত্যু বর্বরতার এক জঘন্য নজির । মৃত্যুর আগে আট দিন ধরে কাঠুয়ার রুদ্ধ দেবালয়ের চার দেয়ালে চোখ দুটো তার যে ভাষায় কথা বলে গেছে বিশ্বের কোনও ভাষাই তার অনুবাদ করতে পারবে না। দেবালয়ের পুরোহিত যিনি আবার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি বড়ো অফিসার তিনি তাঁর ভাইপো ও পুত্রকে সাথে নিয়ে নিষ্পাপ শিশু আসিফাকে দেবালয়ের অভ্যন্তরে পৈশাচিক নির্যাতনে ধর্ষণ করে গেলেন কয়েক দিন ধরে। কয়েক জন পুলিশ অফিসারও একই ভাবে ঠাণ্ডা মাথায় শিশু আসিফাকে ধর্ষণ করল দফায় দফায়। সভ্যতার নিদারুণ প্রহসনে পবিত্র মন্দিরের পুরোহিত, শান্তি রক্ষার দায়িত্ব প্রাপ্ত আরক্ষবাহিনী ঘৃণ্যতম এক ইতিহাস তৈরি করল। এদের কারও হৃদয় নাড়াতে পারেনি আসিফার স্নিগ্ধ দুটি চোখ। অবাক হওয়ার এখনও বাকি। কাঠুয়ার একদল আইনজীবী ধর্মের নামে ‘হিন্দু একতা মঞ্চ’ গড়ে বর্বর ধর্ষকদের সমর্থনে পথে নেমে স্লোগান দিতে থাকলেন ‘ভারত মাতা কি জয়’। বিস্ময়ের আরও সংযোজন এই যে, ভারতের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে এই আইনজীবীগণ ধর্ষকদের আড়াল করতে নির্লজ্জ ভাবে এগিয়ে এসেছেন। জম্মু কাশ্মীর সরকারের দু জন মন্ত্রী এই আইনজীবীদের সমর্থন করে বিবৃতি দিয়েছেন। দেশপ্রেমের বাহ্যিক প্রকাশের এমন রূপ ভারত আগে দেখেনি।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী এক টুইটে বলেছেন, “আসিফাকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হলাম। কিন্তু বিচার একে পাইয়ে দিতেই হবে।” কিন্তু কী হবে আসিফাকে আর বিচার পাইয়ে দিয়ে? আসিফার কোনও প্রয়োজন নেই বিচারের। খুব জোর দু একজনের হয়তো মৃত্যু দণ্ড হবে। কিন্তু কী লাভ তাতে এই দেশের? ধর্ষণ করেছে কয়েক জন, কিন্তু তাদের সমর্থন করছে অসংখ্য জন। পুরোহিত, পুলিশ, আইনজীবী, আইন প্রণেতা (মন্ত্রী) , অনেকেই তো ওই এক ঘৃণ্য মানসিকতার দোষে দুষ্ট। ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য কাজের কথা যা উচ্চারণ করতে জিহ্বা আড়ষ্ট হয়ে যায় তা পিতা পুত্র পরিজন সংঘটিত করে একে অপরের সাক্ষাতে, তাও দেবালয়ে, সেখানে আইনের বিচার করে কি সভ্যতা রক্ষা করার কোনও পথ আছে? কাঠুয়া থেকে উন্নাও সর্বত্র একই চিত্র। ভারত যাচ্ছে কোথায়?



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *