আল্লাহর অবস্থান

আল্লাহর অবস্থান

ফেসবুক, হওয়াটসআপ বা সোসাল মিডিয়ার অন্যান্য দেওয়াল গুলো মানুষের চিন্তা ভাবনা প্রকাশের এক সুন্দর স্থান অধিকার করতে পেরেছে। মানুষের ভাবনাটা যেমন মনের চিত্রপটে ভেসে ওঠে তেমনটা সে ফেসবুকে সাঁটিয়ে দেয়। এর মধ্যে যেমন সত্য আছে তেমন মিথ্যা আছে। সত্য উপস্থাপনা মানুষকে ভাবায়। চিন্তার খোরাক যোগায়। অবশ্য সত্য ভাষণ বা সৎ কর্ম মানুষকে টানে কম, আকর্ষণ সৃষ্টি করার ক্ষমতা আরও কম। তাই আকর্ষণ সৃষ্টি করতে পারে এমন পোষ্টের দিকে আমরা নজর একটু বেশি দিই। তা সে সত্য হলে ভালো না হল খুব একটা ক্ষতি নেই। অবশ্য নিজ বিশ্বাসকে সত্য বলে আমরা অনেক সময় আর যাচাই করার পথে হাঁটতে চাইনা। যেহেতু ফেসবুকে সবার অবাধ প্রবেশাধিকার সেহেতু সেখানে যা হবার হোক। কিছু পোষ্টে ছবি দেখা যায় বেশ বিচিত্র ধরনের। আরবি অক্ষরে “আল্লাহ” শব্দ যেখানেই থাকুক কিছু মানুষের ধারনা প্রকৃত ভাবে ওখানে “আল্লাহ” লেখা হয়েছে এবং ওখানেই যেন আল্লাহর অবস্থান। বিষাক্ত এক সাপের ফনায় বা গায়ে কালো ছাপ দাগ “আল্লাহ” বলে মনে হচ্ছে। গাছের শিকড় বা ডাল বেঁকে ঐ রকম দেখালে সেটাও “আল্লাহ” বলে বিস্ময় প্রকাশ করছে। এরকম পোষ্ট হামেশাই দেখা যায় ফেসবুকের দেওয়ালে। তারপর ঐ ছবির পাশে নির্দেশাত্মক বাক্য, “আমিন, আল্লাহু আকবর, বা সোভান আল্লাহ না লিখে যাবেন না”। ঐ দাগ, শিকড়, ডালপালা, সব যে স্বাভাবিক ও প্রকৃতিগত গঠন সে বিশ্বাস করানো কঠিন। এবং এটা বেশ সংক্রামিত। কারন ঐ পোষ্টের নিচে যথারীতি “লাইক”, “আমিন” বেড়ে চলেছে। অর্থাৎ ঐ ধরনের পোষ্ট গুলো পুষ্টি লাভ করছে। আল্লাহ যে আরবি বানানের মধ্যে অবস্থিত নয় সে বিশ্বাস টাল খাওয়ানো অতি কঠিন বিষয়। আল্লাহর অবস্থিতি যে, বিশেষ কোন স্থানে নয় এ অন্ধতা বহু মানুষের মনে রয়ে গেছে। মিডিয়া ব্যবহার করার যে একটা সামাজিক দায় দায়িত্ব আছে তা অনেকের কাছে মনে হয় না। সমাজকে ভুল বোঝানোর মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *