আচ্ছে দিন

নোটবন্দি, কালাধন, পনেরো লাখ,মন কি বাত, অশ্রুপাত, ছাপান্ন ইঞ্চি, গোরক্ষা, লাভ জিহাদ, বেটি বাঁচাও, তিন তালাক, নাম পরিবর্তন (মুঘল সরাই), তাজমহল – তেজোমহালয়া, পদ্মাবতী – পদ্মাবত, এই সমস্ত হাজারো চুমকি ভারতের রাজনীতির চালচিত্রে চমকালেও সাধারণ মানুষের কোনও কল্যাণে তো আসেই নি, উল্টে তাদের আর্থিক ভাবে পঙ্গু করে দিয়েছে। ডব্লিউ এফের সাম্প্রতিক সমীক্ষা জানিয়ে দিলো যে ‘সব কা সাথ, সব কা বিকাশ’ একটা অন্তঃসার শূন্য স্লোগান ছাড়া কিছু নয়। ঐ সমীক্ষায় জানা যায় যে, উন্নয়নকে সকলের দরজায় পৌঁছে দেওয়ার মাপকাঠিতে ৭৪ টি সম্ভাবনাময় অর্থনীতির দেশের মধ্যে ভারত এই মুহূর্তে ৬২ নম্বরে অবস্থান করছে। এগিয়ে প্রায় সব প্রতিবেশী দেশই। চিন (২৬),নেপাল (২২), বাংলাদেশ (৩৪),শ্রীলঙ্কা (৪০)।’এমনকী যার সঙ্গে প্রায় প্রতি মুহূর্তে সম্মানের টক্কর, কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিয়ে এগিয়ে সেই পাকিস্তানও (৪৭)’।নোটবন্দির কুফলে মার খেয়েছে আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ, পারিবারিক আয়, আর্থিক সুরক্ষা, জীবনযাত্রার মান।
চার বছরে জিডিপি বৃদ্ধির হার সবচেয়ে কম হওয়ায় আশঙ্কা রয়েছে। এমনই রিপোর্ট দিয়েছেন Central Statistical Organisations. এর আগে আর এক ভয়ঙ্কর চিত্র উঠে এসেছিল। ক্ষুধার তালিকায় ভারত পৃথিবীর একশত তম স্থানে।
‘ওক্সফ্যামের এক সমীক্ষায় প্রকাশ, ভারতে ৭৩% সম্পত্তিই রয়েছে ১%ধনকুবেরের ঝুলিতে। অবশ্য বিশ্বে ৮২%সম্পত্তি কুক্ষিগত ১শতাংশের হাতে’ । বিশ্ব বৈষম্যের নিরীক্ষে অনেকে এখানে সান্ত্বনা খুঁজে ফিরছেন।
নোটবন্দির ধাক্কায় দু’শো জন ভারতীয় নাগরিক বিনা কারণে প্রাণ বিসর্জন দিলেন। কিন্তু দেশের এতটুকু কল্যাণ হলে তাঁদের আত্মা শান্তি পেতো। তা না হয়ে ছোট – মাঝারি শিল্প ধাক্কা খেল। গ্রামীণ অর্থনীতির শিরদাঁড়া ভেঙে গেল । মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি লক্ষ লক্ষ মানুষ। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের এই রিপোর্টকে মান্যতা দিতেই হয়। সেখানে পছন্দ অপছন্দের কোন জায়গা থাকে না বিশেষ করে তা যদি ডব্লিউ ই এফ এর হয়। এতে জনগণ সচেতন হয় বিভ্রান্ত হয় না। ‘ মানুষের জীবনের মান বাড়িয়েছে।’ মানুষ ‘ইজ অব লিভিং’ ভোগ করছে। বাস্তবের মাটি যাই হোক, অথচ প্রচারের ঢাকে কাঠি পড়া থামছে না ।বিজ্ঞাপনের মহিমা অস্বীকার করে কার সাধ্য!



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *