bhabna-anubhuti

bhabna-anubhuti

Bengali Blog For Everyone

Recent Posts

কুমুদ মেলা

পল্লী কবি কুমুদরঞ্জন মল্লিকের জন্ম ভিটে কোগ্রামে যখনই আসি আমার মনে হয় আমি প্রতিবারই কবির দর্শন পাই। আজ ৩ মার্চ ‘১৯, তাঁর জন্ম দিন উপলক্ষে যে গুণীজন সম্মেলন হল কবিগৃহ “মধুকর” এর আঙিনায় আম্রকুঞ্জে তা বেশ কবিতাময় হয়ে উঠেছিল। আমার কবি দর্শনের প্রথম দিনের কথা […]

তিন তালাক

তিন তালাক

ভারতের সংসদের নিম্ন কক্ষে ‘মুসলিম মহিলা `বিল ২০১৮{The Muslim Women (Protection of Rights on Marriage)Bill, 2018 } সংখ্যাগরিষ্ঠের দৌলতে পাশ হয়ে গেল গত ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে। এমন হাস্যকর ও অপ্রয়োজনীয় বিল ভারতের সংসদে আগে কখনও পাশ হয়নি। বিলটি মূলত মুসলিম সমাজের তাৎক্ষণিক তিন তালাকের […]

বুলন্দশহর

বুলন্দশহর

উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহরের ঘটনা স্বাধীন ভারতের আর একটি কলঙ্ক। শহরের অনতিদূরে কয়েকটি গোরুর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের বেলাগাম তাণ্ডব প্রশাসনের পরোক্ষ মদতকে জনগণ প্রত্যক্ষ করল। তাদের হিংস্রতার তীব্রতা এতটাই যে পুলিশের কয়েকটি গাড়ি সমেত থানা অফিস ভস্মীভূত হয়ে যায়।এই উন্মত্ততায় গুলিবিদ্ধ হয়ে কর্মরত পুলিশ অফিসার সুবোধ কুমার সিং নিহত হন। সেই সাথে অমিত সিং নামের কুড়ি বৎসরের এক যুবকেরও মৃত্যু হয় একই ভাবে গুলিবিদ্ধ হয়ে। ঘটনাটি ঘটে গত ৩রা ডিসেম্বর ’১৮ তারিখে। পরের দিন উত্তর প্রদেশের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এক গুরুত্বপূর্ণ মিটিংএ ঘোষণা করেন যে ওই গোহত্যা এক গভীর ষড়যন্ত্র এবং মিটিংএ তিনি নিশ্চয়তা দেন যে যারা গোহত্যা করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু দুজন মানুষ, সুবোধ কুমার সিং ও অমিত কুমার সিংএর হত্যাকে তিনি নিছক দুর্ঘটনা বলে মনে করেন।আখলাক হত্যার তদন্তকারী অফিসার সুবোধ কুমার সিংকে গুলিকরে হত্যার পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন না।(২০১৫ সালে উত্তর প্রদেশের দাদরিতে গোমাংস রাখার সন্দেহে কয়েকজন দুষ্কৃতী আখলাককে নৃশংস ভাবে পিটিয়ে প্রকাশ্যে হত্যা করে।) পিতৃবিয়োগে শোকাহত সুবোধ কুমারের কুড়ি বৎসরের পুত্র দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র অভিষেক সিংকে এনডিটিভির সাংবাদিক প্রশ্ন করেন যে, তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে কী বার্তা দিতে চান। এর উত্তরে অভিষেক জানান, “আমি কেবল মুখ্যমন্ত্রী নয়, সারা দেশকে বলতে চাই যে, হিন্দু – মুসলিম রাজনীতি বন্ধ হোক।ধর্মের সামান্যতম প্ররোচনায় মানুষ হিংস্র হয়ে ওঠে। আমার পিতা আমাকে ধর্মনিরপেক্ষভাবে সুনাগরিক হতে শিক্ষা দিয়েছেন।ধর্মের নামে হানাহানি যেন না হয়। আজ আমার পিতা হিন্দু – মুসলিম বিবাদের শিকার হলেন, আর কোনও সন্তান যেন এই ভাবে তাদের পিতাকে না হারায়।” আসানসোলের দশম শ্রেণির ছাত্র সিবতুল্লাহ গত মার্চ মাসে রামনবমীর মিছিলে নিহত হলে পিতা মাওলানা ইমদাদুল রাশিদি বলেছিলেন, “আমার সন্তানের মৃত্যুর কোনও প্রতিশোধ নয়। আমি চাই না আর কোনও পিতা সন্তানহারা হোক।” প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাগণ এমন মহতী ভাবনার রূপকার হলে দুষ্কৃতীরা প্রশ্রয় পেত না। বুন্দেলশহরের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করে ৮২ জন প্রাক্তন আই এ এস /আইপিএস/আইএফ এস /আই ই এস মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের পদত্যাগ দাবি করেছেন এক খোলা চিঠির মাধ্যমে। এঁদের মধ্যে প্রাক্তন বিদেশ সচিব শ্যাম সরন, প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিব শঙ্কর মেনন আছেন। তাঁরা ক্ষোভ ও ক্রোধ প্রকাশ করে বলেছেন যে, ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এমন ঘৃণার পরিবেশ পরিলক্ষিত হয়নি। তাঁরা বলেছেন , উত্তর প্রদেশের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী উগ্র সাম্প্রদায়িক ও সংখ্যাগুরুর পৌরোহিত্য করছেন (The Chief Minister of UP acts as a high priest of the agenda of bigotry and majoritarian supremacy – an agenda which now seems to take precedence over everything else “) সহিংসতাকে বর্তমানে সামাজিক ও রাজনৈতিক মান্যতা দেওয়া হচ্ছে। অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলেছে রাজনৈতিক পরিমণ্ডল। ঘৃণা বিদ্বেষ ও বিভেদ আমাদের সাংবিধানিক মূল্য ধ্বংস করার পথে এগিয়ে চলেছে। এই চিঠিতে তাঁরা রাজ্যের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব,এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিকে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে নির্ভিক হতে আহ্বান জানিয়েছেন । তাঁরা তাঁদের চিঠিতে এলাহাবাদ হাইকোর্টকে স্বতঃপ্রবৃত্ত(Suo motu) মামলা ও তদন্তের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন । তাঁদের চিঠিতে তাঁরা ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্বন্ধে বলেছেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী জনসভায় যতখানি ভাষণ পারদর্শী, দেশের ঘৃণা বিদ্বেষ ও বিভাজনের ঘটনায় ততখানি কঠোর নীরব।” (Without sparing PM Modi, the letter goes on to say, “Our Prime Minister, who is so voluble in his election campaigns, maintains stony silence…Never before in recent history has the politics of hate, division and exclusion been so dominant and the poisonous ideology which informs it penetrated so deep into the body politic… Never before has hate been directed with such calculated intent against minority communities, hate which is nursed, aided and abetted by those in power…We demand the resignation of the Chief Minister…” “In UP, fundamental principles of governance, of constitutional ethics and of humane social conduct stand perverted…” এই বৎসরে কাঠুয়া কাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে পঞ্চাশ জন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস /আইপিএস এপ্রিলের পনেরো তারিখে ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এক চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে, স্বাধীন ভারত তার ইতিহাসে অন্ধকারতম সময়ের মধ্য দিয়ে চলেছে (Darkest Hour In Post Independence India) কিন্তু দেখা যাচ্ছে আমরা যে উদ্বেগ নিয়ে বৎসর শুরু করেছি তার থেকে বেশি উদ্বেগ নিয়ে বৎসর শেষ করতে চলেছি।
সূত্র :https://www.ndtv.com/india-news/bulandshahr-violence-former-bureaucrats-open-letter-calling-for-yogi-adityanaths-resignation-1965068

কংগ্রেসের জয়

কংগ্রেসের জয়

সাম্প্রতিক পাঁচটি বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে(11.12.2018) রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞগণ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর আলোকপাত করেছেন তথ্য ও ফলাফল বিশ্লেষণ করে। তাঁদের মতামতে বৈচিত্র্য থাকলেও সাধারণ একটি চিত্র পরিষ্ফুটিত হয়ে উঠেছে। তা হল রাজনীতির নামে ধর্মভিত্তিক বিভাজন মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। অবশ্য ধর্ম নিয়ে যারা রাজনীতি […]

হজরত মোহাম্মদ (দঃ)

হজরত মোহাম্মদ (দঃ)

(হজরত মোহাম্মদ (দঃ) জন্মগ্রহণ ও পরলোক গমন উপলক্ষে তাং 21. 11. 18 ) 570 খ্রিস্টাব্দে আরবি মাসের 12 রবিউল আওয়াল হজরত মোহাম্মদ(দঃ) আরবের মক্কা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।ইংরেজি মাসের হিসাবে জন্ম তারিখ নিয়ে মতভেদ আছে। তবে তাঁর পরলোক গমনের তারিখ12 রবিউল আওয়াল, 632 খ্রিস্টাব্দে 8 […]

শবর আদিবাসীর মৃত্যু

শবর আদিবাসীর মৃত্যু

পশ্চিম বাংলার ঝাড়গ্রাম জেলায় জঙ্গল মহলে লালগড়ে পূর্ণাপাণি গ্রামে ‘সাত শবরের’ মৃত্যু সংবাদ বাংলার প্রায় সব সংবাদপত্রের শিরোনামে আসে গত 13 নভেম্বর ’18, মঙ্গলবার।সংবাদ পরিবেশনের ধরণ দেখে মনে হবে সবর জঙ্গল মহলের অন্য কোনও এক প্রজাতির নাম। অবশ্য বিষয়টি আমাদের গা সওয়া হয়ে গেছে। আমরা আমাদের ছোটোবেলা থেকেই এমন দেখে আসছি। আদিবাসী মানুষেরা আমাদের গ্রামে ধান চাষের সময় বা ধান কাটার সময় যখন আসত তখন ওদের বিভিন্ন নামে ডাকা হত। ওদের পুরুষদের ডাকা হত মুনিস,মজুর, সাঁওতাল, মাঝি;মেয়েদের ডাকা হত কামিন,মেঝেন ইত্যাদি বলে। ওদের পরিচয় সেই ভাবেই দেওয়া হয় । ওদের ক্ষেত্রে ‘মানুষ’ কথাটা সাধারণত ব্যবহার করা হত না। আজও হয় না। তসলিমা নাসরিন এক জায়গায় লিখেছিলেন ‘নারী’কে মানুষ বলা হয় না। অভিধানে নারীকে বহু নামে উল্লেখ করলেও মানুষ বলা হয়নি। অথচ ‘পুরুষ’ শব্দের ক্ষেত্রে বহু প্রতিশব্দের মধ্যে ‘মানুষ’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।আমি অনুসন্ধান করে এমন কথার যতার্থতা খুঁজে পেয়েছি।সাহিত্য সংসদের বাঙ্গালা অভিধান এবং হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বঙ্গীয় শব্দকোষও এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। শবর সম্প্রদায়ের মানুষ গুলির মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন প্রকার চাপান উতরে রাজনৈতিক দলগুলি সমান ব্যস্ত । প্রশাসনের তরফে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে প্রমাণ করার জন্য যে ওই সাত জন মানুষ অনাহারে মারা যায় নি। যদি অনাহারে তাদের মৃত্যু না হয় তবে বোধহয় কোনও দায় বর্তায় না, কারণ মৃত্যু তো হতেই পারে। একটি সুনির্দিষ্ট পল্লী যেখানে সাতানব্বই টি পরিবারের বাস সেখানে থেকে অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর সাত জন মানুষের মৃত্যু সংবাদ মাত্র চব্বিশ কিমি দূরে জেলা সদরে না পৌঁছানোর কোনও কৈফিয়ত থাকতে পারে না। অনাহারে মৃত্যু না হলেও এ যে অস্বাভাবিক মৃত্যু এমন কথা প্রমাণের জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞান নিষ্প্রয়োজন।গত আগস্ট মাস থেকে মোট চোদ্দ জন মানুষ একই গ্রামে মারা গেছে , সে সংবাদ এতদিনে পাওয়া গেল কেবল মাত্র যখন মৃত পরিবারের পক্ষ থেকে সাহায্যের আবেদন করা হয়েছে তখন। এদের মধ্যে একজন মানুষ কেবল তেষট্টি বৎসর বয়সের ।বাকি মানুষ গুলির বয়স আটাশ থেকে পঞ্চাশের মধ্যে। পরবর্তী সংবাদগুলি আবার অন্য মাত্রা যোগ করেছে।প্রশাসনের তরফে সবর শিশুদের খাবার পাতে ডিম ও আলুপোস্ত পরিবেশন করা হয়েছে বলে সংবাদে প্রকাশ। শবর শিশুর ডিম ও আলুপোস্ত দিয়ে ভাত খাওয়া সংবাদ হলে খুব সহজেই বোঝা যায় আমরা কোথায় আছি। আমাদের ধারণা ডিম আর আলুপোস্ত যদি শবরদের খাবার হয় তবে আর কিসের প্রয়োজন তাদের! আজ মনে পড়ে শবর সম্প্রদায়ের মেয়ে চুনি কোটালের কথা। তিনি 1992 সালে লোধা শবর সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রথম গ্রাজুয়েট হয়েছিলেন। সে এক বড়ো খবর হয়েছিল। চুনি বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এম এ ক্লাসে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁকে আমাদের সমাজ বিভিন্ন অপবাদে লাঞ্ছনা গঞ্জনা তিরস্কার ও অপমানে মানসিক নিপীড়ন করে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। চুনি 1992 সালের 16 আগস্ট গলায় ফাঁস লাগিয়ে তবে মুক্তি পান। সব রাজনৈতিক দলগুলি শবরদের কল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়েছে আজ। শুরু হয়েছে দোষারোপের পালা। দেখা যাচ্ছে শবরদের অনেকের কাছেই ভোটার কার্ড, জব কার্ড, আধার কার্ড নেই। রাজনৈতিক দলগুলির কাছে এসবের কোনও খোঁজ থাকে না কিন্তু এখন তৎপরতার শেষ নেই।রাজনৈতিক দলগুলির যেন কোনও দোষ নেই, সব দোষ শবর সম্প্রদায়ের মানুষের।

জওহরলাল নেহরু

জওহরলাল নেহরু

প্রাচীন গ্রীসের আথেন্স নগরীর শাসক পেরিক্লেস ও দিগ্বিজয়ী গ্রীক সম্রাট আলেকজান্ডার, ইংল্যান্ডের রাজা আলফ্রেড অথবা রানি এলিজাবেথ, রুশ দেশের সম্রাট পিটার, প্রাচীন ভারতের মহারাজা অশোক ও মধ্য যুগের সম্রাট আকবর, আমেরিকার রাষ্ট্রপতি এব্রাহাম লিংকন ইঁহাদের যেমন স্ব স্ব জাতির পরিচালক বা নিয়ন্তা বলার ক্ষেত্রে কোনও […]

জওহরলাল নেহরু

প্রাচীন গ্রীসের আথেন্স নগরীর শাসক পেরিক্লেস ও দিগ্বিজয়ী গ্রীক সম্রাট আলেকজান্ডার, ইংল্যান্ডের রাজা আলফ্রেড অথবা রানি এলিজাবেথ, রুশ দেশের সম্রাট পিটার, প্রাচীন ভারতের মহারাজা অশোক ও মধ্য যুগের সম্রাট আকবর, আমেরিকার রাষ্ট্রপতি এব্রাহাম লিংকন ইঁহাদের যেমন স্ব স্ব জাতির পরিচালক বা নিয়ন্তা বলার ক্ষেত্রে কোনও […]

আসিয়া নরিন

আসিয়া নরিন

প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের উন্মাদনা মানুষের মনুষত্বকে যে হত্যা করে তার নজির ইতিহাসে এমন কিছু বিরল নয়। তবুও মাঝে মাঝে অতি তুচ্ছ বিষয় ধর্মান্ধদের বিষাক্ত ছোবলে প্রচারের সামনে আসে। ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে তখন তা সভ্যতাকে গ্রাস করতে আসে। পাকিস্তানের আসিয়া নরিন এখন সারা দুনিয়ার পরিচিত নাম। ফাঁসির দড়ি গলায় পরার অপেক্ষায় আট বছর সেদেশের কারাগারের কুঠুরিতে বন্দি ছিলেন । চার সন্তানের জননী আসিয়া নরিন ধর্মে খ্রিস্টান। স্বামী সন্তান নিয়ে এক প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা। কৃষি খামার দেখাশোনা করার পেশায় যুক্ত। তাঁর অপরাধ, তিনি নাকি ইসলাম ধর্মের অবমাননা করেছেন।ইসলাম ধর্মাবলম্বী অন্যান্য সহকর্মী মহিলাদের সাথে কলহ বাধে এক কাপ জল পান করাকে কেন্দ্র করে। একটি বড়ো পাত্রে রক্ষিত পানীয় জলে কাপ ডুবিয়ে তুলে নিজে পান করার পর সেই কাপ না ধুয়ে অন্য মহিলাকে একই ভাবে জল পান করান আসিয়া নরিন । অপবিত্রকরণের অভিযোগ উঠে আসে সেখান থেকে। তর্কাতর্কিতে আসিয়া নরিন নাকি পয়গয়ম্বর হজরত মোহাম্মদ (দঃ) সম্বন্ধে খারাপ মন্তব্য করেন। যদিও আসিয়া নরিন সে অভিযোগ একাধিকবার অস্বীকার করেন। তবুও হাস্যকর এই অভিযোগের ভিত্তিতে পাকিস্তানের এক নিম্ন আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে ইসলাম অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়। এক বছর পর নিম্ন আদালত তাঁকে সেদেশের আইনানুযায়ী 2010 সালে মৃত্যুদণ্ড দেয়। লাহোর হাইকোর্ট সেই মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে 2015 সালের এক রায়ে। কিন্তু গত 31 অক্টোবর 2018, পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট আসিয়া নরিনকে নির্দোষ ঘোষণা করে মুক্তি দেন ।সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের ডিভিসন বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে আসিয়া নরিনকে বেকসুর খালাস করে দেন। মামলার রায়ের যুক্তিতে তাঁরা কোরান ও ইসলামের ইতিহাসের কথা উল্লেখ করেন। পরিশেষে হজরত মোহাম্মদ (দঃ) অমুসলিমদের সাথে কেমন সুন্দর মানবিক ব্যবহার করেছেন তাও তাঁরা স্মরণ করিয়ে দেন। কিন্তু আদালত মুক্তি দিলেও ধর্মান্ধ উগ্রবাদীদের সংগঠিত তাণ্ডবে করাচি রাওয়ালপিণ্ডি ও ইসলামাবাদসহ বিভিন্ন শহরে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যায়। উগ্র সাম্প্রদায়িক তেহরিক –ই – লাব্বায়িক পাকিস্তান (টি এল পি)রাজনৈতিক দলটি ধর্মের নামে জনগণকে এমন ভাবে ক্ষেপিয়ে তোলে যে মনে হচ্ছে ঐএক আসিয়া নরিনকে হত্যা না করলে ইসলামকে রক্ষা করার আর কোনও বিকল্প পথ নেই।তাই আদালত নির্দোষ ঘোষণা করলেও তারা নিজেদের হাতেই আসিয়া নরিনকে হত্যা করে ধর্ম রক্ষা করবে। এই ধর্মান্ধ মানুষেরা দেশের আইন আদালত মানে না। বিবেকহীন ও মনুষ্যত্বশূন্য এই মানুষগুলি প্রকৃতপক্ষে সভ্যতার কলঙ্ক। ধর্মের নামে হত্যা করে বেহেস্ত লাভের আশায় নৈরাজ্য সৃষ্টিতে বদ্ধপরিকর। আসিয়া নরিন আইনের ফাঁসির দড়ি হতে রেহাই পেলেও এদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। তাই ইউরোপের কোনও এক দেশে আশ্রয়ের আশায় সপরিবার দেশত্যাগ করতে চেয়ে কাতর আবেদন জানিয়েছেন। আপাতত তিনি দেশের কোনও এক স্থানে লুকিয়ে আছেন। আসিয়া নরিনের আইনজীবী সাইফ মুলুক মৃত্যুভয়ে ইতিমধ্যে নেদারল্যান্ডসে আশ্রয় নিয়েছেন। তারও আগে পাকিস্তানের ধর্ম অবমাননার (যে কোনও প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের অবমাননা) আইনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের গভর্নর সালমান তাসির ।তাঁকেও তাঁর দেহরক্ষী গুলি করে হত্যা করে। এই ধর্মান্ধ মানুষেরা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদেরও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে রেখেছে। প্রকৃতপক্ষে ধর্মোন্মাদের দল ধর্মের নামে নরহত্যাকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। একটি মুমূর্ষু ব্যক্তির প্রাণ বাঁচাতে এরা কখনও এগিয়ে আসে না। অসহায় ও অনাথের অশ্রু যদি এদের নাড়া দিতে পারত তাহলে এরা রক্তে পিপাসা মেটাতে চাইত না। ইসলামের নামে সীমা লঙ্ঘন করে এরা যা নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে তা প্রকৃতপক্ষে ইসলামের আবির্ভাবের আগেও ছিল না। কোনও এক বারাঙ্গনা তৃষ্ণার্ত কুকুর ছানাকে জল পান করালে হজরত মোহাম্মদ (দঃ) তার প্রশংসা করেন আর কোনও খ্রিস্টান মহিলা অপর মুসলিম মহিলাদের তৃষ্ণা নিবারণ করলে ইসলামের অবমাননা হয়, এমন চিন্তা যারা করে তারা মানুষ ছাড়া অন্যকিছু অবশ্যই।

আসিয়া নরিন

প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের উন্মাদনা মানুষের মনুষত্বকে যে হত্যা করে তার নজির ইতিহাসে এমন কিছু বিরল নয়। তবুও মাঝে মাঝে অতি তুচ্ছ বিষয় ধর্মান্ধদের বিষাক্ত ছোবলে প্রচারের সামনে আসে। ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে তখন তা সভ্যতাকে গ্রাস করতে আসে। পাকিস্তানের আসিয়া নরিন এখন সারা দুনিয়ার পরিচিত নাম। ফাঁসির […]