bhabna-anubhuti

bhabna-anubhuti

Bengali Blog For Everyone

Recent Posts

মানবিকতা

মানবিকতা

মুর্শিদাবাদের হরিহর পাড়ার চোঁয়া গাঁয়ে ভারতের ঠিকানা খুঁজে পাওয়া গেছে। একজন পুজারি ব্রাহ্মণ সুভাষ রায়চৌধুরী যিনি সামান্য যজমানি করে সংসার চালান তিনি স্বামী বিতাড়িত নিরাশ্রয় সাকিনাকে কন্যার ন্যায় আপন গৃহে আশ্রয় দিয়েছেন ।সাকিনা দুটি নাবালক পুত্র – কন্যা নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ফ্যাফ্যা করে ঘুরে বেড়াচ্ছে […]

জয় শ্রীরাম

জয় শ্রীরাম

‘জয় শ্রীরাম’ এখন ভাষা বিজ্ঞানে অর্থের অপকর্ষে ‘ঘৃণা ও গণপিটুনি’তে রূপান্তরিত হয়েছে, যেমন ‘গঙ্গা’ অর্থের উৎকর্ষে ‘পবিত্র নদী’তে উন্নীত হয়েছে। মানুষকে জোর করে জয় শ্রীরাম বলানো ও প্রহারে হত্যা করা বর্তমান ভারতে নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।এই তালিকার সর্বশেষ সংযোজন মুর্শিদাবাদের কিশোর রাজিবুল ইসলাম (14.7.2019)। […]

ডুবিছে মানুষ

“কাণ্ডারী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার”
বঙ্গোপসাগরে উথাল পাতাল ঢেউএ যখন একজন মানুষ অসহায় অবস্থায় ডুবছে তখন দূরের পণ্যবাহী জাহাজ জাওয়াদের কাণ্ডারী সত্যিই বলে উঠল ‘ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার’। ভিডিওতে দেখা গেল, সমুদ্রের মাঝে একজন ডুবন্ত মানুষকে উদ্ধার করার মুহূর্তে জাহাজের নাবিকগণ দুবাহু তুলে যখন হর্ষধ্বনি করে উঠলেন মনে হল সত্যিই যেন তাঁরা এক সভ্যতাকে রক্ষা করলেন। ভারতের ‘এফ বি নয়ন’ মাছ ধরার ট্রলার সমুদ্রে ডুবে যায় গত ৬ জুলাই’১৯, সকল মাঝিই ডুবন্ত ট্রলার হতে সমুদ্রে ঝাঁপ দেয়। একে একে সবাই হারিয়ে যায় মাঝ সমুদ্রে। একটুকরো বাঁশকে সম্বল করে পাঁচদিন ধরে উত্তাল সমুদ্রে ভাসতে থাকে রবীন্দ্রনাথ দাস কানু। অসহায় কানুর তখন বার-তারিখ কিছু মনে নেই, শুধু দেখতে পায় দিনের আলো আর রাতের অন্ধকার। কানু ভাসে সমুদ্রে আর তার চোখে ভাসে বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী এবং নাবালক ছেলে মেয়েদের ছবি। মৃত্যুর দ্বারপ্রান্ত হতে ফিরে আসা কানু সব ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। ফের বেঁচে ওঠাই তার কাছে বিস্ময়। চট্টগ্রামে নাবিকদের আপ্যায়নে ও ব্যবস্থাপনায় ভিডিও কলে ছোট্ট মেয়ে অনন্যা আর ছেলে রুদ্রনীলকে দেখে কানুর মুখে দেখা যায় হাসি। কিন্তু অনন্যা আর রুদ্রনীলের হাসি অবর্ণনীয়।

মুসলিম তোষণ

“তোষণ” কথাটি কেবল অপমানজনক তাই নয়, এর মধ্যে একটি ভণ্ডামি লুকিয়ে থাকে। কথাটির কার্যকারিতার মধ্যে একটি ভয়ঙ্কর বিপদও থাকে যদি তোষণকারী সবলতর হয়। যে তোষণ করে তার একটি দুরভিসন্ধি থাকে। যাকে তোষণ করা হয় সে প্রতারিত হয়। যে তোষণ করে সে নিজেকে ঠকায়।তোষণে সবই অহিত […]

শরণার্থী দিবস

প্রত্যেক বৎসর ২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবস পালন করা হয়।শরণার্থীদের জন্যে সারা সৎসর যদিও বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় তবুও এই দিনটিকে বিশেষভাবে শরণার্থীদের সম্বন্ধে বিশ্ব জনগণকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।United Nations High Commissioner for Refugees (UNHCR) শরণার্থীদের জন্যে বিভিন্ন সুপারিশ ও পরামর্শ দিয়ে […]

ডাক্তারি ধর্মঘট

ডাক্তারি ধর্মঘট

এ এক অভূতপূর্ব অপ্রাকৃতিক বিপর্যয় সারা বাংলা জুড়ে(১১ জুন ২০১৯-১৭ জুন ২০১৯ ) । প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে যেমন মূলত হতদরিদ্র সহায় সম্বলহীন মানুষগুলি ধনে প্রাণে মারা যায় তেমনই পশ্চিম বাংলার বর্তমান স্বাস্থ্য বিপর্যয়ে সেই দরিদ্র মানুষগুলি করুণার পাত্র হয়ে হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে মাথা ঠুকে ঘুরছে এবং প্রকৃতপক্ষেই প্রাণে মারা যাচ্ছে। অথচ তারা জানে না তাদের কী অপরাধ। কিন্তু এটা নিশ্চিত যে ধনী ও বিশেষ সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের সামান্যতম চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য পরিষেবা পেতে কোনও অসুবিধা নেই বাংলার কোনও প্রান্তে এই বিপর্যয়ের মধ্যেও। ডাক্তারদের উপর আক্রমণ কোনও ভাবেই কেউ সমর্থন করে না বরং সমাজের সমস্ত স্তর হতে তীব্র ভাষায় ধিক্কার জানায় ও প্রতিবাদ করে।এনআরএস ক্ষেত্রেও সমস্ত মানুষ তীব্র প্রতিবাদ করছে , আহত ডাক্তারের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে। এই ঘটনায় প্রশাসন ও আইন বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে । কিন্তু বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য পরিষেবা ভেঙে পড়েছে।ধর্মঘটের পক্ষে ডাক্তারদের যুক্তিতর্ক ও দাবি দাওয়া, এবং প্রশাসনের তৎপরতা ও পদক্ষেপ গ্রহণ যতই বুদ্ধিদীপ্ত ও আইনসিদ্ধ হোক না কেন মানবিক মূল্যবোধ বলে কিছু নেই। বিশেষ মানবিক গুণ সম্পন্ন বহু সুচিকিৎসক যাঁরা মানুষের সেবায় উৎসর্গীকৃত প্রাণ, যাঁদের সামান্য কথায় মুমূর্ষু রোগী প্রাণের আশ্বাস পায়, রোগী সুস্থ হয়ে যাঁদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকে,এমন এক দুঃসময়ে তাঁদের সামনে এগিয়ে আসা আজ একান্ত প্রয়োজন। এমন দুর্ভাগ্যজনক সঙ্কটকাল কল্পনায় আসে না। ডাক্তার ও প্রশাসন কোনও পক্ষেরই সুতীক্ষ্ণ যুক্তি বিনা চিকিৎসায় মৃত ব্যক্তির কোনও কল্যাণে আসবে না।এমনিতেই বিত্তবান ও প্রভাবশালী পশ্চিম বাংলার মানুষ চিকিৎসার জন্যে রাজ্যের বাইরে বা দেশের বাইরে যান। পশ্চিম বাংলার হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যে হত্যা দিয়ে পড়ে থাকে দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষ। তাদের চিকিৎসার দরজা আজ বন্ধ। ধর্মঘট মিটে যাবে, অচল অবস্থা দূর হবে।কিন্তু বিনা চিকিৎসায় মৃত ব্যক্তিদের আত্মীয় পরিজনের দুঃখ দূর হবে না, তাদের ক্ষতি অপূরণীয় থেকে যাবে। সকল পক্ষ জিদ ছাড়ুন। জিদের কাছে প্রাণও তুচ্ছ ।

শিশুর বিচার

শিশুর বিচার

পৃথিবীর ১৯৫ টি দেশের মধ্যে সৌদি আরবের মতো এমন বর্বর, নিষ্ঠুর, এবং সন্ত্রাসী দেশ বোধহয় দ্বিতীয়টি নেই। দেশটির প্রাচীন নাম আরব। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশদের সাথে ১৯৩২ খ্রি. ২৩ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশদের অনুচর ও সেবাদাস খল ও ধূর্ত আব্দুল আজিজ ইবনে সৌদ ব্রিটিশদের সাথে অশুভ আঁতাত করে […]

মাতৃদিবস

মাতৃদিবস

বারো মে (12, May) আন্তর্জাতিক মাতৃদিবস। কত আলোচনা, সভা সমিতি, অনুষ্ঠান প্রভৃতির মাধ্যমে দিনটি বিভিন্ন ভাবে পালিত হয়।বহু মহাপুরুষদের বাণী ও জীবন আলোচনা হয়। হজরত মোহাম্মদ (সঃ) বলেন, “মায়ের পায়ের তলায় সন্তানের বেহেস্ত।” একবার এক যুবক হজরত(সঃ)এর কাছে বায়াত হতে এলেন (দীক্ষা নিতে এলেন)। কিন্তু […]

রবীন্দ্রনাথ

রবীন্দ্রনাথ

যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।

একলা চলো, একলা চলো, একলা চলো, একলা চলো রে ॥

যদি কেউ কথা না কয়, ওরে ওরে ও অভাগা,

যদি সবাই থাকে মুখ ফিরায়ে সবাই করে ভয়—

তবে পরান খুলে

ও তুই মুখ ফুটে তোর মনের কথা একলা বলো রে ॥

যদি সবাই ফিরে যায়, ওরে ওরে ও অভাগা,

যদি গহন পথে যাবার কালে কেউ ফিরে না চায়—

তবে পথের কাঁটা

ও তুই রক্তমাখা চরণতলে একলা দলো রে ॥

যদি আলো না ধরে, ওরে ওরে ও অভাগা,

যদি ঝড়-বাদলে আঁধার রাতে দুয়ার দেয় ঘরে—

তবে বজ্রানলে

আপন বুকের পাঁজর জ্বালিয়ে নিয়ে একলা জ্বলো রে ॥

পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগে একশো বৎসর আগে (13 এপ্রিল 1919) যখন ব্রিটিশ বাহিনী সহস্রাধিক নিরস্ত্র নিরীহ ভারতীয়দের নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করেছিল তখন ভারতের বহু নেতা প্রতিবাদের সঠিক পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। এই হত্যাকাণ্ডের বিভীষিকা মানুষের প্রতিবাদের ভাষাও কেড়ে নিয়েছিল। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই হত্যাকাণ্ডকে সমগ্র ভারত জাতির প্রতি ইংরেজদের চরমতম অপমান ও অবমাননা মনে করেছিলেন। মহাত্মা গান্ধী, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ তাঁরাও যখন এই নৃশংসতার প্রতিবাদে কবির সাথে একমত হতে পারলেন না তখন কবি অনেকটা হতাশ হয়ে পড়লেন। কিন্তু তিনি তাঁর পথে অবিচল। সত্যের পথে একলা চলার নীতিতে তিনি অটল। আপন দেশবাসীর অপমান প্রতি মুহূর্ত কবিকে যেন দংশন করে যাচ্ছিল। তাই সবাই যখন মুখ ফিরিয়ে নিল কবি তখন একাই জ্বলে উঠলেন। সেদিন ছিল 31 মে 1919, দু বৎসর আগে ব্রিটিশদের দেওয়া নাইট উপাধি ফিরিয়ে দিয়ে সারা বিশ্বকে তিনি ব্রিটিশদের অত্যাচারের কথা জানিয়ে দিলেন। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের মতো অন্যায়ের বিরুদ্ধে ভারতের প্রতিবাদ করতে না পারার লজ্জার হাত থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জাতিকে রক্ষা করেছিলেন। সেদিন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাই ছিলেন ভারতের মুখ। রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস করতেন ঈশ্বরের সৃষ্টি প্রতিটি মানুষের জীবনের মূল্য অপরিমেয়। প্রত্যেকের প্রয়োজন আছে বলেই তার সৃষ্টি হয়েছে। তাই প্রতিটি জীবনের মূল্যকে তিনি স্বীকার করতে শিখিয়েছেন আমাদের। তিনি ডাক দিয়ে গেলেন :
মার অভিষেকে এসো এসো ত্বরা
মঙ্গলঘট হয়নি যে ভরা
সবার পরশে পবিত্র করা
তীর্থনীরে
আজি ভারতের মহামানবের
সাগরতীরে ।

রমজান

রমজান

আবার রমজান ফিরে এল প্রেমের বার্তা বহন করে। হজরত মোহাম্মদ (সঃ) এর আবির্ভাবের আগেও রমজান মাস ছিল কিন্তু সে রমজান ছিল আরবি মাসের আর এগারোটা মাসের মতোই। রমজান মাস বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠল ৬২৩ খ্রিস্টাব্দে। হজরত মোহাম্মদ (সঃ) তাঁর জন্ম শহর মক্কা থেকে মদিনা হিজরত […]