bhabna-anubhuti

bhabna-anubhuti

Bengali Blog For Everyone

Recent Posts

ভাষা আন্দোলনে নারী সমাজের ভূমিকা

ভাষা আন্দোলনে নারী সমাজের ভূমিকা

১৯৪৭ সালে ১৪ আগস্ট পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে এই বিষয়কে কেন্দ্র করে পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পশ্চিম পাকিস্তানের প্রভাবশালী উর্দুভাষী নেতৃবৃন্দ উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা করতে চাইলে বাঙালি ছাত্রসমাজ ও বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠেন।প্রফেসর আবুল […]

নেহরুর ভারত

ভারতের সংসদে বাজেট অধিবেশনে (2018-2019) রাষ্ট্রপতির ভাষণে ধন্যবাদজ্ঞাপন করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যথারীতি শিবের (নেহরুর) গীত গাইলেন। তাই শুনে সাংসদ রেণুকা চৌধুরী অট্টহাসি হাসলেন। তাঁর অট্টহাসি শব্দ সীমা অতিক্রম করার ফলে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ও সমর্থকদের হর্ষধ্বনীকে ছাপিয়ে উঠলো। তবে এই হাসির নাম নাকি ‘শূর্পণখার হাসি’। সে […]

নাগরিকত্ব আইন

ধর্ম অথবা নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর ভিত্তিতে মানুষে মানুষে যারা বিভেদ সৃষ্টি করে তারা যতটা নির্লজ্জ ততটাই অকৃতজ্ঞ । পৃথিবীর কোনও ধর্মে ঘৃণা বিদ্বেষের মন্ত্র নেই, আছে প্রেম ও সংহতির মন্ত্র।এমন কোনও ধর্ম নেই যা ব্যতিরেখে সভ্যতা গড়ে উঠেছে। কোনও দল, গোষ্ঠী বা সংগঠন কোনও একটি ধর্মের সামগ্রিক প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। এমনকি কোনও একটি রাষ্ট্র বা সরকারও তেমন দাবি করার অধিকার পায় না। ভারতের বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার ভারতের নাগরিকত্ব আইনের যে সংশোধন THE CITIZENSHIP (AMENDMENT ) ACT, 2019 এনেছেন তা যেমন ভারতীয় সংবিধানের পরিপন্থী তেমনই অমানবিক ।এর আগে ভারতের নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫,এর সংশোধনী আনা হয়েছে ১৯৮৬,১৯৯২,২০০৩এবং ২০০৫ সকালে।কিন্তু ধর্মের ভিত্তিতে সংশোধন আনা হয়নি কখনও। সংবিধানের ১৪ নং অনুচ্ছেদে যেখানে সকল ধর্মের সম মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, এই আইনে তা অমান্য করা হয়েছে। ভারতের সংবিধান গৃহীত হওয়ার পর তার ৭০ তম বৎসরে এই প্রথম ধর্মের ভিত্তিতে দেশের কোনও আইনে সংশোধন আনা হল। ভারতের বিভিন্ন ধর্মের অগণিত মানুষ আছেন যাঁরা কখনও কোনও ভাবেই অপর ধর্মকে ঘৃণা করেন না। তাঁরা ধর্মের ভিত্তিতে বিভেদ সৃষ্টিকে মনুষ্যত্বের খেলাপ গণ্য করেন। ভারতের নাগরিকত্ব আইনে এমনই সংশোধনী আনা হয়েছে যে সামগ্রিক জাতির মধ্যে সুস্পষ্ট বিভেদ রেখা তৈরি করা হয়েছে। এ আইন সংহতির নয়, বিভাজনের। আইনটি ভারতীয়দের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য নয় বরং নাগরিকত্ব হরণ করার জন্য আনা হয়েছে। সংশোধনীতে বলা হয়েছে যে, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ বা পাকিস্তান থেকে যে সমস্ত হিন্দু শিখ বৌদ্ধ পারসি অথবা খ্রিষ্টান গত ১৯১৪ সালের শেষ দিন পর্যন্ত ভারতে এসেছেন তাঁদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। স্পষ্টত ইসলাম বা অন্য ধর্মের অথবা , প্রথাগত ধর্মের বাইরের কোনও মানুষের কথা বিবেচনা করা হবে না যদিও তারা একই কারণে ওই দেশগুলো থেকে ভারতে এসেছেন। কিন্তু এই আইনের অস্পষ্টতা বা জটিলতার ফলে যে বৃহত্তর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে জাতীয় জীবনে তা অনিরূপণীয়। এই আইনের দ্বারা যাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ নয়, কোনও নিশ্চয়তাও নেই ।বরং এটা স্পষ্ট যে নাগরিকত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়ার প্রারম্ভে তাঁদের আবেদন পত্রে নিজেদের ঘোষণা করতে হবে যে, তাঁরা বিদেশী। তা ছাড়া যাঁরা শ্রীলঙ্কা নেপাল ভুটান মায়ানমার চিন তিব্বত থেকে যাঁরা এসেছেন এই আইনে তাঁদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও উল্লেখ নাই । সর্বোপরি এই আইনে আফগানিস্তান পাকিস্তান বাংলাদেশ হতে আগত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভারতের নাগরিকত্ব পেতে হলে তাঁদের প্রমাণ করতে হবে যে, তাঁরা হিন্দু শিখ বৌদ্ধ জৈন পারসি অথবা খ্রিষ্টান, কিন্তু ধর্মের প্রমাণ দেওয়া সহজসাধ্য নয়।
জাতীয় জনসংখ্যা পঞ্জী (National Population Register, 2020 বা NPR) তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে। এনপিআর আগে প্রথম তৈরি হয় ২০১০ সালে, ২০১১সালের আদম সুমারির আগে, যা ছিল আদম সুমারির প্রাক প্রস্তুতি। পরে ২০১৫ সালে তা আপডেট করা হয়। কিন্তু এ বৎসরের এনপিআর এর তাৎপর্য আলাদা। কয়েকটি নতুন এবং জটিল তথ্য সংগ্রহ করতে চাওয়া হয়েছে।তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল প্রত্যেকের পিতা মাতার জন্মের স্থান এবং তারিখ জানতে চাওয়া হয়েছে। ভারতের কয়েক কোটি বয়স্ক নাগরিকের পক্ষে সে তথ্য দেওয়া সম্ভব হবে না।সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল এই এনপিআর সরাসরি ভারতের নাগরিকত্ব আইনের সাথে এবার যুক্ত। এনপিআর ম্যানুয়ালে বলা হয়েছে The scheme for creation of National Population Register is being undertaken under the provisions of The Citizenship Act, 1955 and The Citizenship Rules, 2003. কিন্তু যা বিস্ময়কর তা হল আপনি সমস্ত তথ্য দেওয়া সত্ত্বেও আপনার নাগরিকত্বের কোনও নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে না। Nationality recorded is as declared by the respondent. This does not confer any right to Indian Citizenship. স্বাধীন ভারতে সুসংহতভাবে গড়ে ওঠা এক শক্তিশালী জাতি সাম্প্রদায়িক বিষে যাতে জারিত না হয়ে যায় তার জন্য দেশ বিদেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এমনকি সহস্রাধিক বিজ্ঞানী ও গবেষক প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন। ভারতের বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যথা ,বিভিন্ন IIT, International Centre for Theoretical Science, Tata Institute of Fundamental Research, JNU, Birla Institute of Technology and Science, Indian Statistical Institute,এমনকি ভারতের বাইরে Harvard University, University of Chicago, University of Toronto, UNO, European Parliament প্রভৃতি স্থানে প্রতিবাদ করা হয়েছে বা নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।ভুল রাজনীতির কারণে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় অসমে অবর্ণনীয় দুর্দশার কবলে আজ নিক্ষিপ্ত। ভারত যখন শিক্ষা স্বাস্থ্য অর্থনীতি কর্মসংস্থান নারীসুরক্ষা প্রভৃতি বিষয়ে দ্রুত পিছিয়ে পড়ছে তখন বিভাজনের রাজনীতি করে এই সরকার জনগণের দৃষ্টি অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

মহাত্মা গান্ধী

মহাত্মা গান্ধী

(২ রা অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন। আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস) বিগত দু হাজার বৎসরের মধ্যে কোনও ভারতীয় মানব সভ্যতার ইতিহাসে এমন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি যেমন করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী । ভারতের আর এক প্রাণপুরুষ আধ্যাত্মিক ঋষি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সঠিক ভাবে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে “মহাত্মা”বলে আখ্যায়িত […]

ইসলাম ও শিক্ষা

“হে মানুষ, তোমরা জ্ঞান অন্বেষণ কর কোল থেকে কবর পর্যন্ত।” হজরত মোহাম্মদ (দঃ) ইসলাম ও শিক্ষা নিয়ে পৃথক আলোচনা হওয়ার কথা নয়, সম্ভবও নয় কারণ ইসলাম ও শিক্ষা একীভূত । মক্কার অদূরে হিরা গুহায় ৬১০ খ্রিস্টাব্দে ১লা ফেব্রুয়ারি যে স্বর্গীয় মুহূর্তে কোরানের প্রথম বাক্য হজরত […]

বিদ্যাসাগর

বিদ্যাসাগর

বিদ্যাসাগর উপাধি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় লাভ করেছিলেন কলকাতার সংস্কৃত কলেজ হতে ১৮৪১ সালে মাত্র একুশ বছর বয়সে। কিন্তু তাঁর প্রজ্ঞা দৃঢ়তা তেজস্বিতা ও সত্যনিষ্ঠার জন্যে বাংলা তথা ভারতে বিদ্যাসাগর উপাধিটি ব্যক্তিত্বায়নে ন্যায়সঙ্গতভাবে একটি গৌরবময় যুগে পরিণত হয় ।একক মানব চরিত্রের প্রভাবে সমাজ যে কতখানি সংস্কৃত হয়ে উঠতে পারে তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ বিদ্যাসাগর। এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ সন্তান যাঁকে বাল্যকালে অনেক সময় অনাহারে অর্ধাহারে থাকতে হয়েছে তিনি কেবল সত্যনিষ্ঠার তেজে সমাজে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে এলেন। তিনি একবার শিবনাথ শাস্ত্রী মহাশয়কে বলেছিলেন, “ভারতবর্ষে এমন রাজা নাই যাহার নাকে এই চটীজুতাশুদ্ধ পায়ে টক্ করিয়া লাথি না মারিতে পারি।”এটি ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার তাঁর দৃঢ় মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ মাত্র । বস্তুত তিনি তা করে দেখিয়েছিলেন, সে কাহিনি সর্ববিদিত। এই চরিত্রবীর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন তাঁর যুগের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে।আমরা একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকেও তাঁর থেকে পিছিয়ে। বিদ্যাসাগর মহাশয়কে কেউ কখনও ধর্ম সংস্কারক বলেননি, কারণ তিনি ছিলেন প্রকৃতপক্ষে একজন সমাজ সংস্কারক। কিন্তু তিনি সমাজ সংস্কার করেছিলেন ধর্মের প্রকৃত ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের দ্বারা। তিনি ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা করেছিলেন তাঁর প্রজ্ঞার দ্বারা। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে সমাজের জটিল পীড়া নিহিত আছে অজ্ঞতার গহ্বরে। বিধবা বিবাহ আইন প্রবর্তন করার পিছনে ছিল হিন্দুশাস্ত্র ও সংস্কৃত ভাষার উপর তাঁর গভীর জ্ঞান এবং এই আইন প্রয়োগ করতে পেরেছিলেন তাঁর জ্ঞান ও বিশ্বাসের উপর অটল থেকে । তীক্ষ্ণবুদ্ধিসম্পন্ন বিদ্যাসাগর অসাধারণ অধ্যাবসায়ের দ্বারা লর্ড ডালহাউসি কর্তৃক বিধবা বিবাহ আইনের খসড়া রচনা করান এবং পরে লর্ড ক্যানিং কর্তৃক তিনি তা পাশ করিয়ে আইনে পরিণত করেন ১৮৫৬ সালের ২৫ জুলাই, ভারতের মহাবিপ্লব সিপাহী বিদ্রোহের ঠিক একবৎসর আগে। লর্ড উইলিয়াম বেন্টিকের সহযোগিতায় রাজা রামমোহন রায়ের সতীদাহ প্রথা বিলোপের (১৮২৯ সাল)পর বিধবা বিবাহ আইন ছিল বড়ো সমাজসংস্কার । ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ভারতীয় সমাজের গভীরে প্রোথিত কুসংস্কারগুলি সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন। অস্পৃশ্যতা ও অশিক্ষাই ছিল সমাজের সবচেয়ে বড়ো ব্যাধি। বিদ্যাসাগর মহাশয় সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষের পদ লাভ করেন ১৮৫১ সালে। অধ্যক্ষের পদে প্রতিষ্ঠিত হয়েই তিনি প্রথম যে কাজটি করেন তা হল সকল জাতির ছাত্রদের জন্যে সংস্কৃত কলেজে ভর্তির সুযোগ করে দেওয়া যে সুযোগ কেবল ব্রাহ্মণ ও বৈদ্য সম্প্রদায়ের ছাত্রদের জন্যে ছিল। তিনি সংস্কৃত ভাষার সাথে ইংরেজি ভাষা শিক্ষারও ব্যবস্থা করেন সংস্কৃত কলেজে। বাঙালির শিক্ষার বনিয়াদ তৈরি করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। বর্ণ পরিচয় প্রথম ভাগ প্রথম প্রকাশ করেন ১৮৫৫ সালের এপ্রিল মাসে এবং দ্বিতীয় ভাগ প্রকাশ করেন একই বৎসরে জুন মাসে। বাংলার শিক্ষা জগতে যুগান্তকারী ঘটনা ঘটে গেল বিদ্যাসাগরের পুস্তকদুটির দৌলতে। বিদ্যাসাগরের বর্ণ পরিচয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল শিশুপাঠ্যে তিনি ধর্মের কোনও অনুষঙ্গ টেনে আনেননি। সহজ সরল ভাষায় শিশুদের ভাষা শিক্ষার সাথে নীতি শিক্ষা দিয়েছেন, শিশুদের চরিত্র গঠনের উপর জোর দিয়েছেন। বাঙালি জাতি আজ থেকে ১৫০ বৎসর আগে তাঁর এই সৃষ্টিকে অন্তরের সাথে গ্রহণ করেছে। বর্ণ পরিচয় এর প্রথম প্রকাশ কাল ১৮৫৫ সাল হতে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত (১৮৯১সাল) ৩৫ বৎসরে ১৫২ টি মুদ্রণ সংস্করণ প্রকাশিত হয়। মোট প্রায় ৪০লক্ষ কপি বিক্রি হয়।নিঃসন্দেহে বলা যায় বর্ণ পরিচয়ের চাহিদা শিক্ষা বিস্তারের একটি সূচক। বর্ণ পরিচয় বই এর বিক্রির সংখ্যা আজ আর কেউ হিসাব রাখে না। তাঁর অন্যান্য সৃষ্টি যথা উপক্রমণিকা, বেতাল পঞ্চবিংশতি, বোধদয়, শকুন্তলা প্রভৃতির রচনাশৈলীর জন্যে তাঁকে বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পী বলা হয়। নারী জাতির প্রতি তাঁর প্রগাঢ় শ্রদ্ধার ফলেই যেমন বিধবা বিবাহ তিনি প্রচলন করেন তেমনই নারী জাতির মুক্তির জন্যে নারী শিক্ষার উপর সবিশেষ জোর দেন। সারা বাংলায় বহুস্থানে তিনি বালিকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ঈশ্বরচন্দ্র কেবল বিদ্যাসাগর ছিলেন না। তিনি ছিলেন দয়াসাগর, করুণাসাগর, রসসাগর।বিদ্যাসাগরের বিচিত্র অসাধ্য সাধনে বহু লোকগল্পের সৃষ্টি হয়েছে যা জাতির জীবনে জারিত হয়ে আছে । কিন্তু সর্বোপরি বলা যায় আজও প্রতিটি বাঙালির শিশুকাল বিদ্যাসাগরের সাথেই শুরু হয়।

কারবালার ইতিহাস ও তাৎপর্য

কারবালার ইতিহাস ও তাৎপর্য

ঐতিহাসিক কারবালা প্রান্তর ইরাকের ইউফ্রেটিস নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত।এই কারবালা প্রান্তরে ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে ১০ অক্টোবর (১০ মহরম ৬১ হিজরি) শেষ পয়গম্বর হজরত মোহাম্মদ (সঃ) এর কনিষ্ঠ দৌহিত্র ইমাম হোসেন শাহাদাত বরণ করেন।একই দিনে তার আগে তাঁর অনুগামী সমেত পরিবারের ৭২ জন সদস্য একে একে শহিদ […]

অন্য নজরুল

অন্য নজরুল

কাজী নজরুল ইসলামকে আমরা প্রধানত বিদ্রোহী কবি হিসাবে আখ্যায়িত করে থাকি । তিনি নিজে অবশ্য “বিদ্রোহী”হওয়াকে তাঁর জয় তিলক বলে মনে করেছেন। কারণ এখানে তিনি মানুষের ভালবাসা খুঁজে পেয়েছেন ।বিদ্রোহ করা বলতে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন এই বলে যে, তিনি জটিল কথাকে নির্ভয়ে সহজভাবে জানতে চেয়েছেন […]

পথের সন্ধান পত্রিকার

“পথের সন্ধান” নমে একটি পত্রিকা বর্ধমান জেলার ভাতার থানার এক প্রত্যন্ত গ্রাম কালুতাক হতে প্রকাশিত হত প্রতি মাসে। আঞ্জুমান রশিদিয়া – বঙ্গীয় চিশতীয়া সমাজের মুখপত্র হিসাবে সমাজ সংস্কার ও আত্মদর্শন মূলক এই মাসিক সাহিত্য পত্রিকাটির প্রথম প্রকাশ ১৯৫৮ সাল। ওপার বাংলার হজরত খাজা শাহ সুফি মোহাম্মদ মনসুর আলি আল চিশতি নিজামী প্রতিষ্ঠিত পথের সন্ধান পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন কালুতাক গ্রামের তাঁর সুযোগ্য খলিফা বিশিষ্ট শিক্ষাব্রতী হজরত মহবুব আলম আল চিশতি ।দুই বাংলার প্রখ্যাত কবি সাহিত্যিকদের কবিতা গল্প প্রবন্ধ রম্যরচনা ভ্রমণ কাহিনিতে সমৃদ্ধ হয়ে উঠত প্রতিটি সংখ্যা। জাতীয় সংহতি রক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা ছিল এই পত্রিকার। একটি প্রত্যন্ত গ্রাম হতে প্রকাশিত পত্রিকাটি সম্পাদকের নিরলস পরিশ্রম ও সুদক্ষ সম্পাদনার গুণে বাংলার সাহিত্য সমাজে বিশেষ স্থান অধিকার করে। বিশিষ্ট গুণীজনের লেখার অবদানে সব শ্রেণির বাঙালি পাঠক সমাজে সমাদর লাভ করেছিল পথের সন্ধান পত্রিকা। যাঁরা এই পত্রিকায় লিখতেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন – কবি কুমুদরঞ্জন মল্লিক, শিক্ষাবিদ মুকুল দত্ত, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের শিক্ষক অমূল্য সেন, বর্ধমানের জাতীয় কবি গণি খান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক খলিলুর রহমান, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন লোক সাহিত্যের গবেষক ও লেখক আয়ুব হোসেন, বিশিষ্ট আইনজীবী ও সাহিত্যিক আব্দুর রহমান, প্রদীপ ঘোষ, কলকাতার বুলবুল পত্রিকার সম্পাদক এস এম সিরাজুল ইসলাম, কোরানের বাংলা অনুবাদক মাওলানা মোবারক করীম জওহর প্রভৃতি ।সুদীর্ঘকাল পথের সন্ধান পত্রিকা বাংলা সাহিত্য জগতে বিশেষ স্থান অধিকার করার ফলে সম্পাদকের কৃতিত্ব উভয় বাংলায় মান্যতা পায় ।উভয় বাংলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তরফে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এমনই এক সংবর্ধনার অনুষ্ঠান আমার জীবনে অমূল্য স্মৃতি হিসাবে ভাস্বর হয়ে আছে। সেদিন ছিল ১৯৮১ সালের আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহের একটি বিশেষ দিন। কলকাতার মুসলিম ইন্সটিটিউট হলে বুলবুল সাহিত্য পত্রিকার পক্ষে সম্পাদক এস এম সিরাজুল ইসলাম এক সাহিত্য সভার আয়োজন করেছিলেন। অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ওই সভায় কয়েকজন সাহিত্যিক ও গুণীজনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে পথের সন্ধান প্রত্রিকার সম্পাদক হজরত খাজা শাহ সুফি মহবুব আলম আল চিশতিও ছিলেন। এক দুর্ঘটনাজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। আমার মতো এক অধমকে তাঁর প্রতিনিধি করে পাঠান। আমি মুসলিম ইনস্টিটিউট হলে সেই সান্ধ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে দেখি মঞ্চে তারার হাট। সভা আলো করে বসে আছেন দিকপাল সাহিত্যিক অন্নদাশঙ্কর রায়, প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সাহিত্যিক গৌরকিশোর ঘোষ, কবি কল্পনা মল্লিক এবং আরও অনেকে। কবি কল্পনা মল্লিক এই সভায় অন্নদাশঙ্কর রায়ের বিখ্যাত সেই ছড়া আবৃত্তি করে অন্নদাশঙ্করের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন।
“তেলের শিশি ভাঙল বলে
খুকুর পরে রাগ করো।
তোমরা যে সব বুড়ো খোকা
ভারত ভেঙে ভাগ করো।
তার বেলা?”
সভা চলার মাঝখানে সভাপতির হঠাৎ একটি ঘোষণা। “এই মাত্র রেডিও সংবাদে জানা গেল যে আমাদের মধ্যে উপবিষ্ট প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সাহিত্যিক গৌরকিশোর ঘোষ এই বৎসর ম্যাগসাইসাই পুরস্কার লাভ করেছেন”। এই ঘোষণা মাত্র সভার সকলে হর্ষ ধ্বনি করে গৌরকিশোর ঘোষকে অভিনন্দন জানালেন। সভা আবার শুরু হলে পথের সন্ধান প্রত্রিকার সম্পাদকের প্রশংসায় অনেকেই মূল্যবান বক্তব্য রাখলেন। সম্পাদক হজরত খাজা শাহ সুফি মহবুব আলম আল চিশতির পক্ষে আমি শংসাপত্র গ্রহণ করলাম। সেদিনের সেই পুণ্য সভার সামগ্রিক চিত্র আমার মানসপটে আজও অমলিন হয়ে আছে।

তিন তালাক বিল

তিন তালাক বিল

ভারতের সংসদের উচ্চ কক্ষে তিন তালাক বিল পাশ হয়ে গেল গত ৩০ জুলাই ২০১৯, যে বিলটি নিম্ন কক্ষে বা লোকসভায় আগেই ২৫ জুলাই, ২০১৯ পাশ হয়েছিল। বিলটি কেতাবি নাম ‘মুসলিম মহিলা বিল, ২০১৯, The Muslim Women (Protection of Rights on Marriage) Bills, 2019. বিলটি এবার […]