bhabna-anubhuti

bhabna-anubhuti

Bengali Blog For Everyone

Recent Posts

মাতৃদিবস

মাতৃদিবস

বারো মে (12, May) আন্তর্জাতিক মাতৃদিবস। কত আলোচনা, সভা সমিতি, অনুষ্ঠান প্রভৃতির মাধ্যমে দিনটি বিভিন্ন ভাবে পালিত হয়।বহু মহাপুরুষদের বাণী ও জীবন আলোচনা হয়। হজরত মোহাম্মদ (সঃ) বলেন, “মায়ের পায়ের তলায় সন্তানের বেহেস্ত।” একবার এক যুবক হজরত(সঃ)এর কাছে বায়াত হতে এলেন (দীক্ষা নিতে এলেন)। কিন্তু […]

রবীন্দ্রনাথ

রবীন্দ্রনাথ

যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে। একলা চলো, একলা চলো, একলা চলো, একলা চলো রে ॥ যদি কেউ কথা না কয়, ওরে ওরে ও অভাগা, যদি সবাই থাকে মুখ ফিরায়ে সবাই করে ভয়— তবে পরান খুলে ও তুই মুখ ফুটে […]

রমজান

রমজান

আবার রমজান ফিরে এল প্রেমের বার্তা বহন করে। হজরত মোহাম্মদ (সঃ) এর আবির্ভাবের আগেও রমজান মাস ছিল কিন্তু সে রমজান ছিল আরবি মাসের আর এগারোটা মাসের মতোই। রমজান মাস বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠল ৬২৩ খ্রিস্টাব্দে। হজরত মোহাম্মদ (সঃ) তাঁর জন্ম শহর মক্কা থেকে মদিনা হিজরত করেন ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে। তার পরের বৎসর অর্থাৎ ৬২৩ খ্রিষ্টাব্দে কোরানের ঐশী বাণী অবতীর্ণ হয় যেখানে রমজান মাসে রোজা পালনের নির্দেশ আসে। অবশ্য কোরানের বাণী প্রথম অবতীর্ণ হয় ৬১০ খ্রিস্টাব্দে এই রমজান মাসেই মক্কার অদূরে হিরা পাহাড়ের নিভৃত গুহায় যখন হজরত মোহাম্মদ (সঃ) গভীর রাতে ধ্যানমগ্ন ছিলেন। ইসলাম ধর্মের নারী পুরুষ সকলের জন্য রমজান মাসে রোজা পালন বাধ্যতামূলক করা হয় ৬২৩ খ্রিস্টাব্দে। সেদিন আরবের মক্কা ও মদিনা শহরের মুষ্ঠিমেয় কয়েক হাজার যাঁরা মুসলিম ছিলেন তাঁরা এই নির্দেশ পালন করেছিলেন। আজ পালিত হচ্ছে পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে ১৭০ কোটি মুসলিমদের মধ্যে। রমজানের রোজা পালন প্রকৃতপক্ষে কোনও উৎসব উদযাপন নয়। রমজান মাসে কোনও উৎসব নেই। ইদ উৎসব পালিত হয় রমজানের শেষে সওয়াল মাসের প্রথম তারিখে। রমজানের রোজা পালনের বাহ্যিক দিক হল সূর্যোদয়ের পূর্ব হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার হতে বিরত থাকা। অনেকে রোজার অন্যান্য দিকগুলি গুরুত্ব কম দেওয়ার কারণে রোজা পালনকে উপবাস বা ইংরেজিতে fasting বলে থাকেন। রমজান আরবি শব্দ হলেও রোজা কিন্তু ফারসি শব্দ, তাই রোজা শব্দটি কোরানে কোথাও নেই। কোরানে “সাওম” পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাওমের প্রতিশব্দ আত্মসংযম, ফারসিতে রোজা। ইসলামি পরিভাষায় বেশ কিছু ফারসি শব্দ আছে যেমন, নামাজ, রোজা, খোদা প্রভৃতি শব্দগুলি কোরানে নেই। । কিন্তু এই আরবি মাসের হিসাব চান্দ্র বৎসর ধরে হয়, এবং এক চান্দ্র বৎসর ৩৫৪ দিনে পূর্ণ হয়। অর্থাৎ সৌর বৎসরের থেকে এগারো দিন কম। সেই হিসাবে এগারো দিন এগিয়ে আসে প্রতি বৎসর। এ বৎসর (২০১৯ সালে) জুন মাসে চারদিন রমজান থাকবে। আগামী বৎসর জুন মাসে রমজান পড়বে না। আবার ছত্রিশ বৎসর পর জুন মাসে রমজান পড়বে। কোনও মানুষ যদি মনে করে বৈশাখ হতে চৈত্র পর্যন্ত সব মাসেই সে রমজানের রোজা পালন করবে তবে তার সময় লাগবে ছত্রিশ বৎসর।
রোজা একটি পুরোপুরি নীরব ইবাদত বা সাধনা। আল্লাহ এবং রোজাদারের মধ্যে বিশ্বাস ও বোঝাপড়ায় নিহিত আছে এই ইবাদত। আল্লাহ এবং রোজাদার ছাড়া আর তৃতীয় কোনও ব্যক্তি জানতে পারে না রোজা পালন হল কি না। আইন, প্রশাসন বা সামাজিক বাধ্যবাধকতা বা অপর কোনও বাহ্যিক বল প্রয়োগের দ্বারা রোজা পালন করানো হয় না। কোরানে বলা হচ্ছে, “হে ইমানদারণ, তোমাদের জন্য সিয়াম বা রোজা ফরজ (compulsory) করা হল, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছিল, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।”(২:১৮৩)। তাকওয়া কোনও শক্তি নয় বরং এক সর্বোত্তম গুণ। তাকওয়া অর্জন করতে পারলে আল্লাহর রঙে নিজেকে রাঙিয়ে নেওয়া যায়। “ আমরা গ্রহণ করলাম আল্লাহর রং অর্থাৎ আল্লাহ্‌র গুণ । রঙে আল্লাহ অপেক্ষা কে অধিকতর সুন্দর?” (২:১৩৮)। অর্থাৎ আল্লাহ্‌র গুণে গুণান্বিত হওয়া যায়। পক্ষান্তরে আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হওয়াই তাকওয়া অর্জন করা। মানুষ যখন তাকওয়া অর্জন করতে পারে তখন তার মধ্যে আর আপন পর বলে কিছু থাকে না।হজরত মোহাম্মদ (সঃ) বলছেন, “মানুষ যখন পূর্ণ ইমানদার হয় তখন সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে, সমগ্র মানবমণ্ডলীর জন্য তা পছন্দ করে।” অর্থাৎ সে মানুষে মানুষে কোনও বিভদ খুঁজে পায় না, কোনও জাতপাতের খোঁজ করে না। রোজা পালনের মূল উদ্দেশ্য তাই। সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে রোজাদারকে, অহংকার, মিথ্যাচার, স্বেচ্ছাচারিতা, অসৎকাজ, কলহবিবাদ লোভ লালসা,হিংসা, পরশ্রীকাতরতা প্রভৃতি সমস্ত কুপ্রবৃত্তি পরিত্যাগ করতে হবে। তাকে সর্বক্ষণের জন্য বৈধভাবে উপার্জিত অর্থে জীবন যাপন করতে হবে। হজরত মোহাম্মদ (সঃ) সুস্পষ্ট ভাবে বলছেন, “যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মিথ্যা কাজ ছাড়তে পারেনি তার পানাহার পরিত্যাগ করে রোজা রাখা আল্লাহর কাছে কোনও মূল্য নেই।” রোজা রেখে যারা তাদের ষড় রিপুর দাসত্ব করে তাদের সম্পর্কে হজরত মোহাম্মদ (সঃ) আরও বলছেন, “অনেক রোজা পালনকারী ক্ষুৎপিপাসা ছাড়া আর কোনও কিছু লাভ করতে পারে না। তেমনই রাত্রিতে ইবাদকারী অনেক মানুষও আছে, যারা রাত্রি জাগরণ ছাড়া আর কিছু লাভ করতে পারে না।” ধৈর্য, সহনশীলতা, প্রেম ও সদালাপ একজন রোজাদারের মৌলিক গুণ। তাই রমজান মাসের রোজা পালন নিছক উপবাস ও আনুষ্ঠানিকতা নয় বরং পূর্ণ মনুষত্ব অর্জনের সুদৃঢ় সোপান।

সাধ্বীর অভিশাপ

সাধ্বীর অভিশাপ

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনকালীন রাজনৈতিক নেতা – নেত্রীদের কুকথার বন্যা ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সমস্ত স্থাপত্যের ভিত নড়িয়ে দিচ্ছে। কয়েকদিন আগে এক নির্বাচন প্রার্থী সাক্ষী মহারাজ যিনি নিজেকে সন্ন্যাসী বলেন, তিনি ভারতের সাধারণ নিরীহ নাগরিকদের অভিশাপ দেওয়ার হুমকি দেন। সাধারণত কোনও প্রার্থী মানুষের কাছে গিয়ে তাদের […]

গণতন্ত্রের সঙ্কট

গণতন্ত্রের সঙ্কট

স্বাধীন ভারতের সব চেয়ে বড়ো কৃতিত্ব তার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা । এই উপমহাদেশে ভারতের পড়শি দেশগুলিতে সামরিক বাহিনীর হাতে গণতন্ত্র যখন বারবার বিধ্বস্ত হয়েছে ভারত তখন স্বমহিমায় তার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সৌন্দর্যের পূর্ণ বিকাশ ঘটিয়ে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। স্বাধীন ভারতের সেই গণতন্ত্র জমিনে এখন বিষবৃক্ষের চারা রোপনের […]

জালিয়ানওয়ালাবাগ

জালিয়ানওয়ালাবাগ গণহত্যার একশো বৎসর পূর্ণ হল। ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ১৩ এপ্রিল অবিভক্ত ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অম্রিতসরের কাছে জালিয়ানওয়ালাবাগ নারকীয় হত্যালীলা ব্রিটিশ অপশাসন ও নিষ্ঠুর অত্যাচারের আর এক বীভৎস ইতিহাস। কুখ্যাত রাওলাট আইনের প্রতিবাদ করার ফলে বিনা প্ররোচনায় বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী ডঃ সৈফুদ্দিন কিচলু ও ডঃ সৎপালকে গ্রেফতার করা হয় ৯ এপ্রিল। রাওলাট আইনে বলা হয়, বিনা বিচারে, বিনা নোটিসে যে কোনও স্বাধীনতা সংগ্রামীকে নিছক সন্দেহের বশে গ্রেফতার করা যাবে। এই দুই প্রখ্যাত নেতৃত্বকে গ্রেফতার করার প্রতিবাদে ওই দিন ৯ এপ্রিল জনসাধারণ ও ব্রিটিশ পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে এবং এই সংঘর্ষে দশজন ভারতীয় ও পাঁচজন ব্রিটিশ নিহত হয়। অম্রিতসরে শান্তি রক্ষার জন্য ইংরেজ সরকার ১১ এপ্রিল জেনারেল ডায়ারের নেতৃত্বে ৬০০ সৈন্য মোতায়েন করে। অবশ্য অবস্থা তখন শান্তিপূর্ণ ছিল। এর দুদিন পর ১৩ এপ্রিল ছিল পাঞ্জাবের বৈশাখী দিবসের উৎসব। এই উপলক্ষে বহু নারী পুরুষ সমবেত হয় জালিয়ানওয়ালাবাগে। বাগানের চারিদিক পাঁচিল দিয়ে ঘেরা, যাওয়া আসার জন্যে পাঁচটি ছোটো ছোটো গেট থাকলেও মাত্র একটি গেট খোলা ছিল । উৎসবের মেজাজে সুসজ্জিত নারী পুরুষ ও শিশু সমেত প্রায় দশ থেকে পনেরো হাজার মানুষের সমাগম। জেনারেল ডায়ার জানার কোনও প্রয়োজন বোধ করলেন না এত রঙিন পোষাকে মানুষের সমবেত হওয়ার কারণ। তিনি গেটে সৈন্য মোতায়েন করে মাত্র ১৫০ গজ দূর থেকে নির্বিচারে মেশিনগান দিয়ে গুলি করে উৎসবরত মানুষদের হত্যার নির্দেশ দিলেন। দশ মিনিট এক নাগাড়ে বৃটিশ বাহিনী তাদের সমস্ত ১৬৫০ রাউন্ড গুলি নিঃশেষ করে ফেলল নিরীহ নির্দোষ নিষ্পাপ ভারতীয়দের উপর বর্ষণ করে । চারিদিকে কেবল আর্তনাদ হাহাকার ও কান্নার রোল। রক্তের বন্যা বয়ে গেল সাজানো বাগানে। পড়ে থাকল সহস্রাধিক মানুষের নিষ্প্রাণ দেহ। যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকল আরও বহু মানুষ। অম্রিতসরে মানুষের জমায়েতের উপর কোনও নিষেধাজ্ঞা ছিল না। ছিল না কোনও সতর্কবাণী। এমনকি জালিয়ানওয়ালাবাগে জমায়েত হওয়া মানুষদের শান্তিপূর্ণ ভাবে চলে যাওয়ার জন্য কোন নির্দেশও দেওয়া হয়নি। জেনারেল ডায়ার কোনও সন্ত্রাসী ছিলেন না, তিনি কোনও বিকৃতমস্তিষ্ক মানুষ ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন শীতল মস্তিষ্কের সুদক্ষ হত্যাকারী। গণহত্যার পর চব্বিশ ঘণ্টা কোনও মানুষকে অম্রিতসরের রাস্তায় নামতে দেওয়া হয়নি। জালিয়ানওয়ালাবাগে যন্ত্রণায় ছটফট করা আহত মানুষগুলি এক ফোঁটা জল পর্যন্ত পায়নি। ইংরেজরা প্রকৃতপক্ষে ভারতীয়দের মানুষ বলে মনে করত না। ভারতীয়দের অবজ্ঞা ও ঘৃণার চোখে দেখত। এই হত্যাকাণ্ডের পর সারা দেশ যেমন স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিল তেমনই হয়েছিল প্রতিবাদে উত্তাল।জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যা কাণ্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চার বৎসর আগে বৃটিশদের দেওয়া তাঁর নাইট উপাধি ত্যাগ করে সারা বিশ্বের কাছে ব্রিটিশ অত্যাচারের বীভৎসতার কথা জানিয়ে দিলেন। তিনি দ্বিধাহীনভাবে ভাইসরয়কে লিখলেন, “………. আমাদের দেশবাসীর চিত্তে যে ক্রোধ এবং বেদনার সৃষ্টি হয়েছে, আমাদের শাসকবর্গ তাকে অগ্রাহ্য করেছেন। সম্ভবত তাঁরা এই বলে নিজেদের সাধুবাদ দিচ্ছেন যে উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।… আমার স্বদেশবাসী, যাদের তুচ্ছ বলে মানুষের অধম মনে করা হয়, আমি তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই সবরকম বিশেষ সম্মান বিসর্জন দিয়ে।” মতিলাল নেহরুর নেতৃত্বে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস এই ঘটনার বিশেষ তদন্ত করে প্রকাশ করল ডায়ারের অবিমৃস্যকারিতার পুঙ্খানুপুঙ্খ ইতিহাস। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এই তদন্ত রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে ডায়ারকে সরিয়ে দিলেও তৎক্ষণাৎ লর্ড সভা ডায়ারের ‘স্তুতি গাইল’। এসবের মধ্য থেকে পরিবর্তন হল ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ধারা। ধীরে ধীরে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে শুরু হল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রাম। জালিয়ানওয়ালাবাগ গণহত্যার পর আরও ঘৃণ্য নজির সৃষ্টি করে ইংরেজরা। নিষ্ঠুর জেনারেল ডায়ারকে সম্মান জানাতে ভারতে ইংরেজরা বিরাট অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করে। রত্ন খচিত এক তরবারি সহ এই বিশাল অর্থ দিয়ে জেনারেল ডায়ারকে সম্মান জানানো হয়। কিন্তু ভারতীয়দের কয়েক মাসের আন্দোলনের ফলে জালিয়ানওয়ালাবাগে নিহত ও আহত মানুষের পরিবারগুলির হাতে যৎসামান্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। ভারতের হাজার বৎসরের সভ্যতার ইতিহাসে সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজদের দ্বারা এমন অবমাননা ভারতীয়রা ভুলবে না।

কুমুদ মেলা

পল্লী কবি কুমুদরঞ্জন মল্লিকের জন্ম ভিটে কোগ্রামে যখনই আসি আমার মনে হয় আমি প্রতিবারই কবির দর্শন পাই। আজ ৩ মার্চ ‘১৯, তাঁর জন্ম দিন উপলক্ষে যে গুণীজন সম্মেলন হল কবিগৃহ “মধুকর” এর আঙিনায় আম্রকুঞ্জে তা বেশ কবিতাময় হয়ে উঠেছিল। আমার কবি দর্শনের প্রথম দিনের কথা […]

তিন তালাক

তিন তালাক

ভারতের সংসদের নিম্ন কক্ষে ‘মুসলিম মহিলা `বিল ২০১৮{The Muslim Women (Protection of Rights on Marriage)Bill, 2018 } সংখ্যাগরিষ্ঠের দৌলতে পাশ হয়ে গেল গত ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে। এমন হাস্যকর ও অপ্রয়োজনীয় বিল ভারতের সংসদে আগে কখনও পাশ হয়নি। বিলটি মূলত মুসলিম সমাজের তাৎক্ষণিক তিন তালাকের […]

বুলন্দশহর

বুলন্দশহর

উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহরের ঘটনা স্বাধীন ভারতের আর একটি কলঙ্ক। শহরের অনতিদূরে কয়েকটি গোরুর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের বেলাগাম তাণ্ডব প্রশাসনের পরোক্ষ মদতকে জনগণ প্রত্যক্ষ করল। তাদের হিংস্রতার তীব্রতা এতটাই যে পুলিশের কয়েকটি গাড়ি সমেত থানা অফিস ভস্মীভূত হয়ে যায়।এই উন্মত্ততায় গুলিবিদ্ধ হয়ে কর্মরত পুলিশ অফিসার সুবোধ কুমার সিং নিহত হন। সেই সাথে অমিত সিং নামের কুড়ি বৎসরের এক যুবকেরও মৃত্যু হয় একই ভাবে গুলিবিদ্ধ হয়ে। ঘটনাটি ঘটে গত ৩রা ডিসেম্বর ’১৮ তারিখে। পরের দিন উত্তর প্রদেশের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এক গুরুত্বপূর্ণ মিটিংএ ঘোষণা করেন যে ওই গোহত্যা এক গভীর ষড়যন্ত্র এবং মিটিংএ তিনি নিশ্চয়তা দেন যে যারা গোহত্যা করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু দুজন মানুষ, সুবোধ কুমার সিং ও অমিত কুমার সিংএর হত্যাকে তিনি নিছক দুর্ঘটনা বলে মনে করেন।আখলাক হত্যার তদন্তকারী অফিসার সুবোধ কুমার সিংকে গুলিকরে হত্যার পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন না।(২০১৫ সালে উত্তর প্রদেশের দাদরিতে গোমাংস রাখার সন্দেহে কয়েকজন দুষ্কৃতী আখলাককে নৃশংস ভাবে পিটিয়ে প্রকাশ্যে হত্যা করে।) পিতৃবিয়োগে শোকাহত সুবোধ কুমারের কুড়ি বৎসরের পুত্র দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র অভিষেক সিংকে এনডিটিভির সাংবাদিক প্রশ্ন করেন যে, তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে কী বার্তা দিতে চান। এর উত্তরে অভিষেক জানান, “আমি কেবল মুখ্যমন্ত্রী নয়, সারা দেশকে বলতে চাই যে, হিন্দু – মুসলিম রাজনীতি বন্ধ হোক।ধর্মের সামান্যতম প্ররোচনায় মানুষ হিংস্র হয়ে ওঠে। আমার পিতা আমাকে ধর্মনিরপেক্ষভাবে সুনাগরিক হতে শিক্ষা দিয়েছেন।ধর্মের নামে হানাহানি যেন না হয়। আজ আমার পিতা হিন্দু – মুসলিম বিবাদের শিকার হলেন, আর কোনও সন্তান যেন এই ভাবে তাদের পিতাকে না হারায়।” আসানসোলের দশম শ্রেণির ছাত্র সিবতুল্লাহ গত মার্চ মাসে রামনবমীর মিছিলে নিহত হলে পিতা মাওলানা ইমদাদুল রাশিদি বলেছিলেন, “আমার সন্তানের মৃত্যুর কোনও প্রতিশোধ নয়। আমি চাই না আর কোনও পিতা সন্তানহারা হোক।” প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাগণ এমন মহতী ভাবনার রূপকার হলে দুষ্কৃতীরা প্রশ্রয় পেত না। বুন্দেলশহরের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করে ৮২ জন প্রাক্তন আই এ এস /আইপিএস/আইএফ এস /আই ই এস মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের পদত্যাগ দাবি করেছেন এক খোলা চিঠির মাধ্যমে। এঁদের মধ্যে প্রাক্তন বিদেশ সচিব শ্যাম সরন, প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিব শঙ্কর মেনন আছেন। তাঁরা ক্ষোভ ও ক্রোধ প্রকাশ করে বলেছেন যে, ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এমন ঘৃণার পরিবেশ পরিলক্ষিত হয়নি। তাঁরা বলেছেন , উত্তর প্রদেশের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী উগ্র সাম্প্রদায়িক ও সংখ্যাগুরুর পৌরোহিত্য করছেন (The Chief Minister of UP acts as a high priest of the agenda of bigotry and majoritarian supremacy – an agenda which now seems to take precedence over everything else “) সহিংসতাকে বর্তমানে সামাজিক ও রাজনৈতিক মান্যতা দেওয়া হচ্ছে। অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলেছে রাজনৈতিক পরিমণ্ডল। ঘৃণা বিদ্বেষ ও বিভেদ আমাদের সাংবিধানিক মূল্য ধ্বংস করার পথে এগিয়ে চলেছে। এই চিঠিতে তাঁরা রাজ্যের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব,এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিকে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে নির্ভিক হতে আহ্বান জানিয়েছেন । তাঁরা তাঁদের চিঠিতে এলাহাবাদ হাইকোর্টকে স্বতঃপ্রবৃত্ত(Suo motu) মামলা ও তদন্তের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন । তাঁদের চিঠিতে তাঁরা ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্বন্ধে বলেছেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী জনসভায় যতখানি ভাষণ পারদর্শী, দেশের ঘৃণা বিদ্বেষ ও বিভাজনের ঘটনায় ততখানি কঠোর নীরব।” (Without sparing PM Modi, the letter goes on to say, “Our Prime Minister, who is so voluble in his election campaigns, maintains stony silence…Never before in recent history has the politics of hate, division and exclusion been so dominant and the poisonous ideology which informs it penetrated so deep into the body politic… Never before has hate been directed with such calculated intent against minority communities, hate which is nursed, aided and abetted by those in power…We demand the resignation of the Chief Minister…” “In UP, fundamental principles of governance, of constitutional ethics and of humane social conduct stand perverted…” এই বৎসরে কাঠুয়া কাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে পঞ্চাশ জন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস /আইপিএস এপ্রিলের পনেরো তারিখে ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এক চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে, স্বাধীন ভারত তার ইতিহাসে অন্ধকারতম সময়ের মধ্য দিয়ে চলেছে (Darkest Hour In Post Independence India) কিন্তু দেখা যাচ্ছে আমরা যে উদ্বেগ নিয়ে বৎসর শুরু করেছি তার থেকে বেশি উদ্বেগ নিয়ে বৎসর শেষ করতে চলেছি।
সূত্র :https://www.ndtv.com/india-news/bulandshahr-violence-former-bureaucrats-open-letter-calling-for-yogi-adityanaths-resignation-1965068

কংগ্রেসের জয়

কংগ্রেসের জয়

সাম্প্রতিক পাঁচটি বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে(11.12.2018) রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞগণ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর আলোকপাত করেছেন তথ্য ও ফলাফল বিশ্লেষণ করে। তাঁদের মতামতে বৈচিত্র্য থাকলেও সাধারণ একটি চিত্র পরিষ্ফুটিত হয়ে উঠেছে। তা হল রাজনীতির নামে ধর্মভিত্তিক বিভাজন মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। অবশ্য ধর্ম নিয়ে যারা রাজনীতি […]