bhabna-anubhuti

bhabna-anubhuti

Bengali Blog For Everyone

Recent Posts

অন্য নজরুল

অন্য নজরুল

কাজী নজরুল ইসলামকে আমরা প্রধানত বিদ্রোহী কবি হিসাবে আখ্যায়িত করে থাকি । তিনি নিজে অবশ্য “বিদ্রোহী”হওয়াকে তাঁর জয় তিলক বলে মনে করেছেন। কারণ এখানে তিনি মানুষের ভালবাসা খুঁজে পেয়েছেন ।বিদ্রোহ করা বলতে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন এই বলে যে, তিনি জটিল কথাকে নির্ভয়ে সহজভাবে জানতে চেয়েছেন […]

পথের সন্ধান পত্রিকার

“পথের সন্ধান” নমে একটি পত্রিকা বর্ধমান জেলার ভাতার থানার এক প্রত্যন্ত গ্রাম কালুতাক হতে প্রকাশিত হত প্রতি মাসে। আঞ্জুমান রশিদিয়া – বঙ্গীয় চিশতীয়া সমাজের মুখপত্র হিসাবে সমাজ সংস্কার ও আত্মদর্শন মূলক এই মাসিক সাহিত্য পত্রিকাটির প্রথম প্রকাশ ১৯৫৮ সাল। ওপার বাংলার হজরত খাজা শাহ সুফি […]

তিন তালাক বিল

তিন তালাক বিল

ভারতের সংসদের উচ্চ কক্ষে তিন তালাক বিল পাশ হয়ে গেল গত ৩০ জুলাই ২০১৯, যে বিলটি নিম্ন কক্ষে বা লোকসভায় আগেই ২৫ জুলাই, ২০১৯ পাশ হয়েছিল। বিলটি কেতাবি নাম ‘মুসলিম মহিলা বিল, ২০১৯, The Muslim Women (Protection of Rights on Marriage) Bills, 2019. বিলটি এবার ভারতের রাষ্ট্রপতির সই হলেই আইনে পরিণত হবে। এই বিলটিকে সরকারের তরফে “ঐতিহাসিক” আখ্যায়িত করা হয়েছে। অবশ্য এমন হাস্যকর বিলকে অন্য অর্থে “ঐতিহাসিক”বলতেই হয়। এই তিন তালাক বিষয়টি কোরানের নির্দেশ মতো তিন তালাক নয়। আলোচ্য তিন তালাক তাৎক্ষণিক তিন তালাক, (instant triple talaq) যা এক সাথে তিন বার তালাক শব্দটিকে উচ্চারণ করা বোঝানো হয়েছে। এই তাৎক্ষণিক তিন তালাক কোরান নির্দেশিত নয়। এর কোনও বৈধতা নেই। তা ছাড়া এই তিন তালাক ভারতের সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা গত ২২ আগস্ট, ২০১৭ সালে বাতিল করা হয়েছে, কারণ এক তরফা ভাবে একসাথে তিন তালাকের দ্বারা বিবাহ বিচ্ছেদ ছিল সংবিধানের ১৪ নং অনুচ্ছেদের (Article) পরিপন্থী অর্থাৎ কোনও মুসলিম স্বামী এক সাথে তিনবার তালাক শব্দ উচ্চারণ করে তার স্ত্রীকে শুনিয়ে দিলে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় না ।সুপ্রিম কোর্টে বাতিল হওয়া এই তিন তালাকের উপর আলোচ্য “ঐতিহাসিক”বিলটি পাশ হয়েছে। তালাক একটি আরবি শব্দ যার অর্থ বিচ্ছেদ। পরপর তিনবার তালাক শব্দ উচ্চারণ করলে বিবাহ – বিচ্ছেদ তো আর হচ্ছে না, তবে আর সমস্যা কোথায়? বিবাহ বিচ্ছেদ করার অপরাধে স্বামীকে অভিযুক্ত করার কোনও যৌক্তিকতা থাকছে না। এই বিলটির ৩নং ধারায় বলা হয়েছে, কোনও মুসলিম স্বামী তার স্ত্রীর প্রতি তালাক উচ্চারণ করলে, তা লিখিত বা যে ভাবেই হোক, সে তালাক বাতিল বা অবৈধ হবে। (Sec. 3. Any pronouncement of talaq by a Muslim husband upon his wife, by words, either spoken or written or in electronic form or in any other manner whatsoever, shall be void and illegal.) ৪ নং ধারায় বলা হয়েছে, যে কোনও মুসলিম স্বামী উপরের ৩নং ধারা অনুযায়ী তার স্ত্রীর প্রতি তিন তালাক উচ্চারণ করলে সেই স্বামীর তিন বৎসর জেল এবং জরিমানা হবে। (Sec. 4. Any Muslim husband who pronounces talaq referred to in Sec. 3 upon his wife shall be punished with imprisonment for a term which may extend to three years and shall also be liable to fine) তাহলে দেখা যাচ্ছে কোনও মুসলিম স্বামী যদি তালাক উচ্চারণ না করে তার স্ত্রীকে তাড়িয়ে দেয় তখন কোনও অপরাধ হবে না। যেমন, কোনও অমুসলিম স্বামী তালাক উচ্চারণ না করে অন্যভাবে স্ত্রীদের তাড়িয়ে দিলে বা পরিত্যাগ করলে কোনও অপরাধ হয় না। ভারতের সর্বশেষ ২০১১ আদমসুমারি অনুযায়ী ২৩ লক্ষ ৭০ হাজার মহিলা বিবাহ বিচ্ছিন্না ছিলেন। তাদের মধ্য ১৯ লক্ষ হিন্দু মহিলা ।মুসলিম বিবাহ বিচ্ছিন্না মহিলা ছিল ২৮ হাজার। এই ২৮ হাজার মুসলিম মহিলাদের কতজন তাৎক্ষণিক তিন তালাকের শিকার ছিলেন তার কোনও সরকারি তথ্য নেই। তবে ১৯ লক্ষ হিন্দু বিবাহ বিচ্ছিন্না মহিলাদের কেউ তিন তালাকের শিকার ছিলেন না, এ বিষয়ে দ্বিমত চলে না।আলোচ্য এই বিলে মুসলিম মহিলাদের কোনও উপকার হবে না। সুতরাং ভারতের সমস্ত মহিলাদের কথা ভাবা হোক যেন স্বামী পরিত্যক্তা না হয়ে সম মর্যাদায় জীবন যাপন করতে পারে। এমনতর বিল যেদিন ভারতের সংসদে পাশ হবে সেই দিন হবে গৌরবের। সেই বিল হবে প্রকৃতপক্ষে ঐতিহাসিক।

হর্স ট্রেডিং

হর্স ট্রেডিং

হর্স ট্রেডিং (horse – trading) শব্দবন্ধের বাংলা অর্থ “অশ্ব ব্যবসা” হওয়ার কথা। কিন্তু আক্ষরিক অর্থের মধ্যে এ শব্দ আর আটকে নেই। দেশ বিদেশের বিভিন্ন ইংরেজি বাংলা অভিধানে এর নতুন সংজ্ঞা নিরুপণ করা হয়েছে। সর্বজনগ্রাহ্য যে অর্থটি দাঁড়িয়েছে তা হল, “রাজনীতির পরিসরে চাতুর্যে পরিপূর্ণ অপ্রকাশিতব্য অবৈধ […]

বর্ধমান রেল স্টেশন

বর্ধমান রেল স্টেশন

নাম পাল্টানোর রাজনীতির শিকার হতে চলেছে এবার বর্ধমান রেল স্টেশন। বাংলার সভ্যতা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অপর আর এক নাম বর্ধমান । ধর্মমঙ্গলের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি বর্ধমানের ঘনরাম চক্রবর্তী (১৬৬৯খ্রিঃ)তাঁর কাব্যে বলেন – “বর্ধমান দেশ ভাই সবাকার নাভি”। বর্ধমানের সুপ্রাচীন পুরাতাত্ত্বিক, পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক মূল্যবান চিহ্নগুলি বহু […]

মানবিকতা

মানবিকতা

মুর্শিদাবাদের হরিহর পাড়ার চোঁয়া গাঁয়ে ভারতের ঠিকানা খুঁজে পাওয়া গেছে। একজন পুজারি ব্রাহ্মণ সুভাষ রায়চৌধুরী যিনি সামান্য যজমানি করে সংসার চালান তিনি স্বামী বিতাড়িত নিরাশ্রয় সাকিনাকে কন্যার ন্যায় আপন গৃহে আশ্রয় দিয়েছেন ।সাকিনা দুটি নাবালক পুত্র – কন্যা নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ফ্যাফ্যা করে ঘুরে বেড়াচ্ছে দেখে সুভাষ বাবুর বিবাহ বিচ্ছিন্না কন্যা কাকলি সমব্যথী হয়ে সাকিনাকে সন্তানসহ বাবার বাড়ি নিয়ে আসেন। সুভাষ রায়চৌধুরী সকিনাকে পরিবারের সদস্য করে নিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। ধর্মের অনুশাসন, আর্থিক অস্বচ্ছলতা, সমাজের চোখ রাঙানি সব কিছুকে তুচ্ছ করে সুভাষ রায়চৌধুরী মানবিকতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন । পূজারি ব্রাহ্মণ সুভাষ রায়চৌধুরীর শাস্ত্রীয় জ্ঞান যথার্থ মানব কল্যাণে প্রযুক্ত হয়েছে। কিন্তু সুভাষ রায়চৌধুরীর চেতনার তীব্র বৈপরীত্যে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের সমাজ। সুভাষ রায়চৌধুরীর যজমানি এখন বন্ধ হয়ে গেছে। সামান্য আয়ের একমাত্র পথ অবরুদ্ধ,কারণ সখিনার মতো একজন মুসলিম মহিলাকে ঘরে আশ্রয় দেওয়ায় সুভাষ বাবু এখন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্রাত্য। গাঁয়ের মাতব্বরদের পরিষ্কার নিদান “ভিন্ন ধর্মের মানুষকে ঘরে রেখে যজমানি হয় না।” সুভাষ বাবুর কন্যা কাকলি বিবাহ – বিচ্ছিন্না হয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে এসেছে। কিন্তু সখিনা বাবার বাড়িও নেই। সুভাষ রায়চৌধুরী এখন সখিনার বাবা।কাকলি এবং সখিনার মধ্যে কোনও তফাত নেই সুভাষ বাবুর কাছে। প্রকৃত ধর্ম যদি কোথাও থাকে তা সুভাষ রায়চৌধুরীর বাড়িতেই আছে। তাঁর স্ত্রী ইলা দেবীও সখিনাকে কন্যা বলে মেনে নিতে দ্বিধা করেননি। সখিনার সন্তান দুটিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দিয়েছেন। দায়সাড়া কোনও আশ্রয় দান নয় । আপন কন্যার মতো সখিনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সুভাষ রায়চৌধুরী। কাকলি এবং সখিনাকে যারা তাড়িয়ে দিয়েছে তারা আজ ব্রাত্য নয়, ব্রাত্য হলেন তিনি, যিনি কাকলি আর সখিনাকে বুকে করে আগলে রেখেছেন। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, “আমি সেই ধর্মে বিশ্বাস করি না, যে ধর্ম বিধবার অশ্রু মোছাতে পারে না, অথবা অনাথের মুখে একটুকরো রুটি তুলে দিতে পারে না।” সুভাষ রায়চৌধুরী বিধবার অশ্রু মোছালেন, অনাথের মুখে রুটি তুলে দিলেন কিন্তু সমাজের কিছু মানুষ সুভাষ বাবুর রুটি কেড়ে নিতে চায়।

জয় শ্রীরাম

জয় শ্রীরাম

‘জয় শ্রীরাম’ এখন ভাষা বিজ্ঞানে অর্থের অপকর্ষে ‘ঘৃণা ও গণপিটুনি’তে রূপান্তরিত হয়েছে, যেমন ‘গঙ্গা’ অর্থের উৎকর্ষে ‘পবিত্র নদী’তে উন্নীত হয়েছে। মানুষকে জোর করে জয় শ্রীরাম বলানো ও প্রহারে হত্যা করা বর্তমান ভারতে নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।এই তালিকার সর্বশেষ সংযোজন মুর্শিদাবাদের কিশোর রাজিবুল ইসলাম (14.7.2019)। […]

ডুবিছে মানুষ

“কাণ্ডারী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার” বঙ্গোপসাগরে উথাল পাতাল ঢেউএ যখন একজন মানুষ অসহায় অবস্থায় ডুবছে তখন দূরের পণ্যবাহী জাহাজ জাওয়াদের কাণ্ডারী সত্যিই বলে উঠল ‘ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার’। ভিডিওতে দেখা গেল, সমুদ্রের মাঝে একজন ডুবন্ত মানুষকে উদ্ধার করার মুহূর্তে জাহাজের নাবিকগণ দুবাহু […]

মুসলিম তোষণ

“তোষণ” কথাটি কেবল অপমানজনক তাই নয়, এর মধ্যে একটি ভণ্ডামি লুকিয়ে থাকে। কথাটির কার্যকারিতার মধ্যে একটি ভয়ঙ্কর বিপদও থাকে যদি তোষণকারী সবলতর হয়। যে তোষণ করে তার একটি দুরভিসন্ধি থাকে। যাকে তোষণ করা হয় সে প্রতারিত হয়। যে তোষণ করে সে নিজেকে ঠকায়।তোষণে সবই অহিত ।ভালোবাসা থাকলে তোষণ থাকে না। তোষণের প্রয়োজন হয় না।সমাজে ব্যক্তি বিশেষে তোষণকারী বা তোষণপ্রিয় মানুষ থাকলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনও তোষণ নেই। ভারত রাষ্ট্র কোনও বিশেষ গোষ্ঠীকে তোষণ করে না। কারণ তোষণ ও শোষণ দুটিই সমান। ভারতে হিন্দু সম্প্রদায় মুসলমানদের তোষণ করে না অথবা মুসলমানরা হিন্দুদের তোষণ করে না। অন্যান্য ধর্মের মানুষদের মধ্যে একই কথা প্রযোজ্য। ভারতে একে অপরকে ভালোবাসে। তাই ভারতীয় সভ্যতা গভীরে প্রোথিত। “মুসলিম তোষণ” কথাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এক রাজনৈতিক দুরভিসন্ধিমূলক স্লোগান। গতকাল ১৯ জুন ২০১৯, কলকাতাবাসী কয়েকজন বিশিষ্ট মুসলিম নাগরিক সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীকে একটি চিঠি দিয়েছেন। “তোষণ চাই না” এই চিঠিতে আবেদন জানানো হয়েছে যে দোষী মুসলিম ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু এমন চিঠি লেখার কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। কোনও দুষ্কৃতী হিন্দু মুসলিম বলে আইনের চোখে চিহ্নিত হয় না।একই অপরাধে সব ধর্মের অপরাধী সমান শাস্তি পায়। এমন কোনও ধর্ম নেই যে ধর্মের মানুষের মধ্যে চোর ডাকাত অত্যাচারী খুনি ধর্ষণকারী নেই। একইভাবে এমন কোনও ধর্ম নেই যে ধর্ম অন্যায় ও অপরাধ সমর্থন করে। প্রকৃতপক্ষে অপরাধীর অপরাধ করাটাই ধর্ম। আবেদনে বরং সব অপরাধীর শাস্তি চাওয়া হোক, সব নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো হোক।

শরণার্থী দিবস

প্রত্যেক বৎসর ২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবস পালন করা হয়।শরণার্থীদের জন্যে সারা সৎসর যদিও বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় তবুও এই দিনটিকে বিশেষভাবে শরণার্থীদের সম্বন্ধে বিশ্ব জনগণকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।United Nations High Commissioner for Refugees (UNHCR) শরণার্থীদের জন্যে বিভিন্ন সুপারিশ ও পরামর্শ দিয়ে […]